• ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২০:৩৯:৩৫
  • ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২০:৩৯:৩৫
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

আশিক আকবর এর একগুচ্ছ কবিতা

ছবি : সংগৃহীত

পথের দেখা

প্যা প্যা পুঁ পুঁ
লাল গাড়িটি দৌড়ে যাচ্ছে
ছোট্ট নসিমন ট্রাকে উদাসীন ষাঁড় দুটি
গলার ছুরির দিকে ভোঁ ভোঁ
আইহন নদী পার পার
শ্মশান ঘাটের নির্জনতায় ত্রিশুল
গোল পোস্টের কাছের বাচ্চা মহিষের গোল হয়ে লেজ
ঝুঁটি ঝুঁটি চাপর চাপর
কলা বনের আভাসের সবুজে বিলবোর্ড
ঠকের বাণী
বৃটিশ বিশ্বাসঘাতক খেয়েছে সকল ঠগী
স্বাক্ষী পাহাড়ের নীরবতা
পেঁপে ক্ষেত
ছোটো খাটো সুতিয়া নদীর ব্রীজ পার
ঘোড়াবাইক ঘাড় ঘুরিয়ে কালো পথে পথে
আঁখি আঁখি
উঠা দেআলের ঐ পাশে একটি গাছের শাখা দোলে
কাফিলা খেজুর ভাট বড়ুই জাম কড়ই গুবাক অশ্বত্থ মিনজিরি কলমি কচুরিপানা লাল ইট
রিকসার চাকার পাম্প 
রেল লাইন
একটি হলুদ মেহেদি দাড়ির পথ চাওআ
বিজিপি 
রাইফেল সাইকেল সীমান্ত সুইটস
টোপর পরা কালা তালের চট্টিতে বসে থাকা
কৃষাণী পরেছে রোরকা
ছাগল ছানাটি আপন মনেই খাচ্ছে ঘাস
লাল বালু টুকরো পাথর
জেলখানা গেইট
বৃহৎ বৃহ্ৎ বনস্পতি কাণ্ডের মৌনতা
বাগান বিলাস
মেহেদির সবুজ পাতার দোলন
নাইল্যাগুডা
কাচিঝুলি প্যারিস রোড
হেকটর আর একিলিসের রণ শেষে
প্যারিসের সাথেই গেছে শে
যাক।

সুলতানার প্রতি

আপনি মিথ্যা বলছেন সুলতানা।
বাবু নীল ক্ষেত রাস্তায়,
আমাকে হাজার হাজার বৎসর দাড় করায়ে রেখে,
আমেরিকা যাইতে পারে না।
এইটা ওর আমার প্রেমের বৎসর। এই সালে না হলে,
আগামী সালে আমাদের বিবাহ হবেই।

দুই দুইটি শক্ত বেল দেখিয়ে বাবু চলে গেছিলো,
রিকসায় ওর পিছে পিছে অনেক দূর গেছি।
হস্তিনির ঘাড়ের নধর মাংসে আমার চোখ চুয়াল্লিশ ইঞ্চি টিভি খুঁজছিলো।
পথের এক নাদুস নুদুস কুকুর সকাশে অনেক ছবি তুলে ছিলাম।
নিজেকে ভুলিয়ে ছিলাম।

সুলতানা;
সমকামী বলেই আমার সাথে করবেন কেন ছল?
বাবু তো ল্যাজবিআন নয়।
ক্যানো তোমরা কাম স্পর্শে ধরো তার হাত?
ওর বিয়েতে যতো না ভেঙ্গেছি,
যতো না ভেঙ্গেছি ডিভোর্সে ওর,
তাহারও অধিক অধিক ভেঙ্গেছি,
খেঁপেছি তোমাদের সমঅঙ্গ লীলার চাওয়ায়।

তোমাদের কে করছে মানা?
যোনি বদলে পুরুষাঙ্গ লিঙ্গধারী হতে,
নারীর ছুরতে কেন,
পুরুষালি অভিনয়ে নারীকে ঠকাও!
হয়তো তৃপ্ত তুমি।
যোগ্য পুরুষ পেলে আরো আরো আরো তৃপ্ততর হতে।
ওটুকু তৃপ্তি পেতে যতোটুকু নারী হতে হয়,
ততোটুকু নারী নও তুমি!
তবে?
নারীই কি দিতে পারে তাকে? নারীত্ব তুলে দিতে তার,
একমাত্র নারীকেই?

বাবু ষোলো আনা নারী।
পুরুষ দিয়েছে তাকে পুরুষের অধিক বেদনা।
ঘাট অঘাটের ভায়োলিন করেছে টুং টুং।

সুলতানা,
জানি তুমি ভালোবাসো তাকে।
আমিই তাকে কি কম বাইসাছি ভালো?
তেইস বৎসর অপেক্ষা কি মিথ্যা নাহিদ?
আমরিকা কি খুব বেশী দূর?
যাই তবে আমিও এবার।

লিটলম্যাগের পাতা তার মেলেছে ডানা।
বাবুর কাছে যাবো।
আমেরিকাতেই যাবো।
না যদি বণে এবারও খুন খারাপি করেই ফাঁসি নেবো।
ভালোবাসাতে মিলন কিংবা খুন দুটোই উত্তম।

বাবু, এই তো আপনার সামনে জানু পেতে বসেছি আবার।
বুকে তুলে বড় বউ হন।
বউ।

তিনি

ইয়েস
তিনি আসছেন
আপনার হৃদপিণ্ড এফোড় ওফোড় করে তিনি চলে যাবেন 
বাম বুকের নিচে যেখানে প্রেম ধুকপুক করছেন
সেখানে তিনি চুমু খাবেন
আপনাকে তিনি পুরোপুরি খাওয়ার আগে
আপনার দুই চোখে দুইটা গুলি করবেন
তারপর
তারপর
আপনার চোখের জলের ধারা চেটে চেটে খাবেন
ঠোঁটের গোলাপ থেকে হাজার হাজার লাল প্রজাপ্রতিদের উড়িয়ে দিবেন
উড়াতে উড়াতে আপনি লবণ খনির ইশারা দিলে
তিনি আইহন নদীর দিকে যাবেন

আপনি কি প্রস্তুত
মধুপুর বন
রাঙ্গামাটি পাহাড়
ভাওয়াল রাজার গড়
সিলেটি বনভূমি
হাওড়, দ্বীপাঞ্চল, বেলাভূমি, চর, বিল, বাইদ নদী...
নদীর মালকিন হে,
জোড়া পিস্তল হাতে তিনি আসছেন
দ্রুত ঠিক করে নেন
গোলাপ গুলিগুলো শরীরের কোন কোন স্পর্শকাতর জায়গায় নেবেন
তিনি আসছেন।

তিনি আসছেন

আসছেন
তিনি আসছেন
এই শরতের পূর্ব দিগন্তের লু হাওয়ার তলে লুকানো বসন্ত নিএ তিনি আসছেন
লুকানো বর্ষা এবং আরো আরো অন্যান্য ঋতু তার সঙ্গে আছে
ইক্ষু খাওয়ার ধুম পড়বে
মাইক্রোফোন বাজবে
শাড়ী পরে পিতার বাড়ী আসবে সুখী দুঃখী কন্যারা
মাটির ব্যাংক ভেঙ্গে আমার যেতে ইচ্ছে করবে
চন্দবাড়ির দূর্গা পার হয়ে যাইতে ইচ্ছা করবে মুক্তাগাছা শহরে
ঠাকুর বাড়ির দিকে বাঁকা চোখে চাইবে কেউ কেউ
ঐখানের শীলারা অবিরাম গাইবে,

'পঙ্খী মারি পঙ্খী ধরি পঙ্খী বেইচা খাই
মোদের সুখের সীমা নাই'

লাঙ্গুলিআ স্কুল কক্ষ প্রস্তুতি নেবে প্রতিযোগীতার
দাঁড়ি গোঁফ লাগিয়ে তবলা বাজাতে বসবো।

মাইক্রোফোনে বাজবে,

'চাই না মাগো রাজা হতে
আমার মাটির ঘরে বাঁশের খুঁটি মা 
পাই যেন গো তার খড় জোগাতে'

হর দূর্গে
ছল দূর্গে
সাওতাল ঘরের বিশ্বাসঘাতিনী
শিবের কলকির ধোঁয়ার মৌতাতে তুমিও কি নেশাগ্রস্ত নও!
তোমার স্বরস্বতীর বীনায় ঝং
বেসুরো বাজনা

লক্ষীর ভাড় বারবার হচ্ছে লুট
পেঁচাও ঝাঁপ দিআ ধরছে না ধাঁড়ি ইঁদুর
গণেশ তার ভুড়ি সামলাতে সামলাতে সব ব্যবসা বেচেই দিচ্ছে বৈদেশে
কার্তিকেও দেখাচ্ছে না ময়ূর নাচ
পড়শীর গীত বাদ্যেও আমাদের চিত্তে আসছে না
রহিম রূপবান তাজেল বানেছা পরী... আর গহুর বাদশা, গাজী কালু রস

হর দূর্গে
তুমি কি অসুরের উদয় নাগের ছোবলে প্রেমে পড়িআছো তার
কাটা মহিষের পেট থনে বেরুনো মহিষাসুর কি তোমার গোপন প্রেমিক
আঁ আঁ আঁ আঁ
তুমি কি শুনতে পাচ্ছো রাখাল কৃষ্ণ কিংবা টারজান বা ছাগল পালক রাখালিআ মুহম্মদের ডাক
কিংবা ভেড়া কোলের যীশুর ডাক
তূর পাহাড়ের মোজেসের আগুনে কি পুড়িতেছ তুমি

দূর্গে
প্রিআ মোর
নেশার মৌতাত কি কাটবেনা তোমার
ঐ শালা শিবের ধোঁয়ায় কি তুমি আসক্ত নেশাতুরা হবে
ওকে জাগাও
ওকে বলো
শিখা বহনে যে সক্ষম সেই শিব
শিখার আগুন কাঁধে হাতে চলো ঐ দিকে যাই
যেখানে হিমালয় পাহাড় আমাদের দেখে নতজানু হবে
শিব শিব দূর্গা দূর্গা কলাগাছ কলাগাছ বৌ
সকল প্রাণ যুদ্ধরত হোক
সকল প্রাণ শান্তি ছিনিয়ে আনুক
শান্তি প্রশান্তি আনতে তিনি আসছেন
আসবেন! 

প্রেমপত্র

আকাশে গতিময় বন্দুকের কালো ধোঁয়া
জমিনে সার সার বন্ধুর রক্তমাখা লাশ
কিন্তু রাইফেল কাঁধের তুমি 
গহীন বনের দিকে মার্চ করতে করতে
সৈনিক কমরেডদের সাথে যখন চলে গেলে
একবারও কেন তাকালে না ঘাড় ঘুরিয়ে
আর লাশের বহরে কেন পাচ্ছি না তোমাকে
বেঁচে আছো কি এখনো দূর গাঁয়ের লবঙ্গলতিকা

বিপ্লব হয়ে গেলে 
আবারো পাবো কি 
ঐ দু'টি ধরে রাখা কোমল কোমল হাত!

আঁচল তুলো গো

আঁচল তুলো গো কন্যা কবরী উপর
আসতাছে কেউ দিআ মাথায় টোপর
টোপরের তলে থাকে নানা দুখ সুখ
চোখ মেলে দেখুক জগত ভরা লোক
তোমার কবরী পরে পরা ফুলের মুকুট
হাসিতে এবার কারো হৃদয় করো লুট
পদ পরে রইছে তোমার জগৎ রঙিলা
এই দিকে এই পথে দাও একবার মেলা

রাত্রি ঘোরে ঘুম কালে কইআ নিও কথা
বুঝে নিও দুইটি প্রাণের একটি কাতরতা

কমিউনিসট কমরেডের প্রতি

ইআ মাবুদে এলাহি,
আপনি নিশ্চয়ই কমিউনিসটদের কথা শুনবেন না,
ওরা অষ্ট্রপ্রহর আপনাকে অস্বীকার করে,
ওরা আপনার কোনো দানকেই স্বীকার করতে চাহে না,
ওরা বলে,
বৃহৎ ভাঙ্গনে,
বিগ ব্যাঙে,
মহা জগতের সৃষ্টি।
পৃথিবী তার ক্ষুদ্র ধূলিকণা মাত্র।
আর এই ধূলিকণার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দখল নিতে,
তারা ইচ্ছুক।
তারা সংগ্রাম মুখর।
এমনকি তারা রক্ত ঝরাতেও দৃঢ় তৎপর।
বিপ্লব মুখর তো বটেই।

আপনি ঐ কমিউনিসটের কথা শুনবেন না মহামহিম,
আপনার অঙ্গুলি হেলনে কবি ও কমিউনিসটদের বিভেদ দূর করে দিন।

ওদেরকে কবিতা পড়ার সামর্থ দিন,
সক্ষমতা দিন,
কাঠখোট্টা অর্থনীতির প্যাঁচের, রাজনীতির,
রক্তারক্তির,
দড়ি টানাটানির,
আঁকাবাঁকাখানাখন্দের পথের বাঁকে বসে,
বাঁশি বাজানোর ফাঁকে,
একটু প্রেমের,
একটু কবিতার জগৎ সংসারে উড়ার,
অবসর,
অবসরা দিন।

দিন,
রাইফেল পাশে রেখে,
গাছে হেলে পড়তে কবিতা।
অঢেল গোস্তরুটি মদমাংসপোলাও
সে তো দেবেনই,
ঐ কমবখত কমিউনিসটরা তো আপনারই সৃষ্টি!
ওরা তো আপনারই স্বপ্নের বেহেস্ত বানাবার কারিগর।
আটটা বেহেস্ত তো আকাশ থনে পড়বে না আল্লাহ রাসুল!
ওগুলো বানাতে হবে।
ওগুলো ঐ কমবগত কমিউনিসটরা, কমুরা,
সন্ত্রাসীরা,
ডাকাতেরা,
এবং এবং আজকের মাওবাদীরাই বানাবে।
আপনি একটু রহমত বর্ষণ করুন খোদাতায়ালা!
আপনি আপনার পূণ্যবান পরিশ্রমী বান্দাদের পথ প্রদর্শক রূপে,
কার্ল মার্কস ও কমরেড মাও সে তুং সহ অন্যান্য কমরেডদের স্বীকৃতি দিন।

সিরাজ শিকদার,
এবং চারু মজুমদার কে কবুল করে নিন।

এই জনপদে,
এই বিশ্ব বিপ্লবের ঝটিকা কেন্দ্রে,
কবি আর কমরেডদের বিচ্ছিন্ন রাখবেন না।
আর ঐ সব বিপদগামী কবিদের, 
অন্ধ অনুসরণকারীদের,
আলোকিত করুন।
তারা যেন আআর সাথে,
তার সঙ্গিনী,
ও সহযোদ্ধাদের সাথে মার্চ করতে পারে।
লড়াই-মিছিল-সংগ্রাম-যুদ্ধ করতে পারে।

জয় লাভ করতে পারে
এবং
এবং
কাম্য সঙ্গিনীর সাথে সহস্র সহস্র রজনী
কাব্যালাপে মজতে মজতে কবিতা করতে পারে।
জয় কবিতার জয়। জয় কমিউনিজমের জয়।

 

 

সংশ্লিষ্ট বিষয়

আশিক আকবর কবিতা

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0198 seconds.