• বিদেশ ডেস্ক
  • ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২০:১২:২৭
  • ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২০:১২:২৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

কী হচ্ছে মিয়ানমারের শান প্রদেশে?

ছবি : সংগৃহীত

মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের শান প্রদেশে দীর্ঘদিন ধরেই সামরিক বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। সর্বশেষ গত ১৫ আগস্ট ওই অঞ্চলে একটি মিলিটারি কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় সশস্ত্র বিদ্রোহীদের হামলায় ১৫ জন নিহত হয়। নিহতদের বেশিরভাগই বর্মি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ছিলেন। 

স্থানীয় চার সশস্ত্র বিদ্রোহী দলের জোট নর্দার্ন অ্যালায়েন্স ওই হামলার দায় স্বীকার করে জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতে এরকম আরো হামলার মুখোমুখি হতে হবে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে। এ অবস্থায় শান প্রদেশের পরিস্থিতি ভাবিয়ে তুলেছে দেশটির বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষকেও।

সম্প্রতি শান প্রদেশে চলা অব্যাহত হামলা নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম ‘দ্য ইরাবতী’র সঙ্গে কথা বলেন দেশটির দুই জাতিতত্ত্ব বিশ্লেষক ইউ থান সোয়ে নাইং এবং ইউ মং মং সো। বিভিন্ন বিষয়ে আলাপচারিতায় তারা শান প্রদেশের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন। 

বিশ্লেষকরা বলেছেন, যেখানে সামরিক বাহিনীর প্রধান তাতমাদো আট মাস যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন এবং বিদ্রোহীদের সঙ্গে শান্তি আলোচনার চেষ্টা করছিলেন,  সেখানে শান প্রদেশে এ ধরনের হামলা সত্যিই বিস্ময়কর। একই সঙ্গে চিন্তার বিষয়। তাদের মতে, সামরিক বাহিনী ঘটনার পর এখনও যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার কারণে বিষয়টি আরও চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকরা শান প্রদেশে হামলার ঘটনা নিয়ে আরো কিছু ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে, প্রথমত শান্তি রক্ষা পদ্ধতির ওপর মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী আস্থা রাখতে পারছে না। মিয়ানমারে শান্তি রক্ষা পদ্ধতি শুরু হয় ২০১১ সালে । দেশব্যাপী যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরিত হয় ২০১৫ সালে। তবে শান্তি প্রক্রিয়া এত দিন চলতে থাকা সত্ত্বেও সাম্যতা, স্বনির্ভরতা বা স্ব-প্রশাসনের দিক থেকে এর কোন স্পষ্ট ফল পাওয়া যায়নি, যা জাতিগোষ্ঠীর লোকদের দাবি ছিল। বিশ্লেষকরা বলছেন, অধিকার আদায়ের জন্য যখনই সামরিক বাহিনী অস্ত্র তুলে নিচ্ছে তখনই তারা নিজেদের বেশি শক্তিশালী মনে করছে। 

দ্বিতীয়ত, যদিও ২০১১ সালের পরে উত্তর জোটের তিনটি দল তাং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির (টিএনএলএ), আরাকান আর্মি ও মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি (এমএনডিএএ) এর সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো শান্তি প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিল কিন্তু ২০১৫ সালে এনসিতে তারা স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করেছিল। কারণ শান্তি প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার জন্য তাদেরকে অস্ত্র ছেড়ে দিতে বলা হয়েছিল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পার্শ্ববর্তী দেশ চীনের ক্রমাগত চাপের কারণে বিদ্রোহীরে সঙ্গে সরকার আলোচনায় বসছে। কিন্তু সেটা মোটেও মন থেকে নয়। কারণ শান্তি আলোচনার মধ্যেই মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী শান প্রদেশে যুদ্ধ অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে চীনের সঙ্গে মিয়ানমারের বেশ কয়েকটি নতুন প্রকল্প চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায় তারা শান প্রদেশে একটা স্থিতিশীল অবস্থা দেখতে চাইছে। 

চীনের চাপের কারণে আগামী ১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় পুনর্মিলন ও শান্তি কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনায় বসবে উত্তরের তিন জোট। এরপরে তারা আলোচনা করবে সামরিক বাহিনীর প্রধান তাতমাদোর সঙ্গে। অবশ্য এর আগেও তিন জোট তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে তাতমাদোর সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেননি। 

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ চলাকালীন এ অবস্থাতেও শান্তি আলোচনা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে শান প্রদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা হবেই। এ জন্য অপেক্ষা ছাড়া কিছু করার নেই।  

বাংলা/এএএ

সংশ্লিষ্ট বিষয়

মিয়ানমার শান প্রদেশ

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0185 seconds.