• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১৮:২৩:৩৩
  • ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১৮:২৩:৩৩
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

যাত্রীর ২ লাখ টাকা নিয়ে উধাও চালক, তথ্য দিচ্ছে না উবার

ছবি : সংগৃহীত

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান এম এম গোলাম শওকত। থাকেন রাজধানীর গুলশান এলাকায়। রাজধানী থেকে যাবেন নিজ এলাকায়। মোবাইল অ্যাপ দিয়ে ডাকলেন উবারের প্রাইভেট কার। গন্তব্য গুলশান-১ থেকে গাবতলী বাস টার্মিনাল।

সাদা রঙের একটি প্রাইভেট কারে গাবতলী পৌঁছলে শওকত গাড়িতে থাকা ব্যাগ নিয়ে নামতে থাকেন। এরই মধ্যে চালক গাড়িটি টান দিয়ে চলে যান। থেকে যায় আরো একটি ব্যাগ। সঙ্গে সঙ্গে চালককে কল করলেও তিনি আর ফোন ধরেননি। পরে নম্বরটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ব্যাগে প্রায় দুই লাখ টাকা ও মূল্যবান কাগজ ছিল। 

ঘটনার এক দিন পর ২২ আগস্ট রাজধানীর দারুস সালাম থানায় লিখিত অভিযোগ করেন আশরাফ। অভিযোগ পেয়ে চালকের সন্ধানে নামে পুলিশ।

আর অভিযানে নেমে উবারের অসহযোগিতার মুখে পড়েছে পুলিশ। বহুজাতিক কোম্পানিটির কাছে চালকের তথ্য চেয়ে ই-মেইল দিলেও দুই সপ্তাহেও সাড়া মেলেনি।

উবারে নিবন্ধন থাকা গাড়িটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-গ-২৭-৪১৭৮। মালিকের ঠিকানা মহাখালী দেওয়া থাকলেও সেখানে রোড নম্বর দেয়া নেই। এতে গাড়ির মালিকের ঠিকানা শনাক্ত করা যাচ্ছে না।

পুলিশ বলছে, উবারে রেজিস্ট্রেশন করা চালকের নাম জামাল উদ্দিন। ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে তিনি এই রেজিস্ট্রেশন করেছিল। সেখানে দুটি মোবাইল নম্বর থাকলেও তার নামে কোনো সিম নিবন্ধন নেই। ধারণা করা হচ্ছে, জামাল তার ভাবীর পরিচয়পত্র ব্যবহার করে সিমটি নিবন্ধন করিয়েছেন। তাদের সন্ধান চালানো হচ্ছে। এরা অপরাধী চক্র হতে পারে। 

ভুক্তভোগী এম এম গোলাম শওকত বলেন, ‘গাড়িতে থাকা অবস্থায় চালকের টাকা পরিশোধ করে ল্যাগেজ নামাতে শুরু করি। এ সময় হুট করে চালক কার টেনে চলে যায়। তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইলে বেশ কয়েকবার কল করা হলেও ফোন ধরেনি। সন্ধ্যায় নম্বর দুটো বন্ধ করে দেওয়া হয়।’

‘বাসের টিকিট কাটা থাকায় এলাকায় চলে যাই। পরের দিন ২২ আগস্ট দারুস সালাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিই। কিন্তু এখন পর্যন্ত পুলিশ ওই চালকের কোনো হদিস করতে পারেনি।’

ল্যাগেজে এত টাকা থাকার কারণ জানতে চাইলে এম এম গোলাম শওকত বলেন, ‘পারিবারিক কাজে টাকাগুলো এক নিকটাত্মীয়ের কাছ থেকে ধার নিয়ে বাড়ি যাচ্ছিলাম। সচরাচর এভাবে টাকা বহন না করলেও সেদিন করেছিলাম। ওই ল্যাগেজে টাকা ছাড়াও জরুরি বেশ কিছু কাগজপত্র ছিল।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দারুস সালাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার পর উবার চালকের তথ্য চেয়ে মেইল করা হয়েছে। কিন্তু তারা মেইলের উত্তর পাঠায়নি। এই কারণে মামলার তদন্তে অগ্রগতি নেই।’

ঢাকায় উবারের জনসংযোগের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান বেঞ্চমার্ক পিআরের কর্মকর্তা আশরাফ কাইছারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বরাবরের মতোই তিনি কোনো তথ্য দেননি। বলেন, ‘আপনার প্রশ্ন মেইলে পাঠান। উবার থেকে উত্তর আসবে।’ 

পুলিশ তো মেইল পাঠিয়েছে, উত্তর তো আসেনি- এমন প্রশ্নে আশরাফ কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

সংশ্লিষ্ট বিষয়

উবার যাত্রী

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0214 seconds.