• ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২০:১২:২০
  • ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২০:২২:১৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

রোহিঙ্গারা জেলখানার কয়েদী না

.


পারভেজ আলম


রোহিঙ্গারা রিফিউজি। অথচ বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর পড়লে মনে হয় যে তারা জেলখানার কয়েদী, বা কয়েদীদের চাইতেও কম স্বাধীনতা তাদের। নামী পত্রিকাগুলা দিনের পর দিন রোহিঙ্গাদের মোবাইল, তাদের সিমের সংখ্যা ইত্যাদি নিয়ে খবর করে যাচ্ছে। রোহিঙ্গারা এমন কী অপরাধ করেছে যে দুনিয়ার আর সব মানুষের মতো যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহারের অধিকার তাদের থাকবে না?

অথচ বাংলাদেশে গতবছর থেকে জেলখানার কয়েদীরাও মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারে, তাদের অবৈধ মোবাইল ফোন ব্যবহার ঠেকাতে সরকারের ব্যবস্থা। অন্যদিকে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে বলে তারা মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবে না?

বাংলাদেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারের জন্যে যদি নাগরিক পরিচয়পত্র লাগে, এইটাতো বাংলাদেশের আইনি কাঠামোগত সমস্যা। দূর করা দরকার। রিফিউজিদের মোবাইল ব্যবহার অবৈধ কেনো বিবেচনা করা হবে সেটা নিয়েই আদালতে প্রশ্ন তোলা দরকার। বাংলাদেশের আইনে যদি রিফিউজিদের মোবাইল ফোন ব্যবহার অবৈধ হয় তাহলে তা মানবাধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

কক্সবাজারের এক পত্রিকা খবর প্রকাশ করেছে এক রোহিঙ্গা তরুণীকে নিয়ে। খবরের শিরনাম "ঘুষ দিয়ে বায়তুশ শরফ স্কুলে ভর্তি হওয়া রোহিঙ্গা তরুণী এখন বাংলাদেশের সংগঠনের নেত্রী!"। খবর পড়ে জানলাম যে মেয়েটির পরিবার ১৯৯২ সাল থেকে বাংলাদেশে থাকে। এখন সে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তার মানে মেয়েটির জন্মই হয়েছে বাংলাদেশে, অথবা হয়তো খুবি শিশু অবস্থায় এদেশে এসে থাকবে। খবরে লেখা, রোহিঙ্গাদের নাকি বাংলাদেশের কোন স্কুলে পড়া আইনত নিষিদ্ধ। এমন আইন আছে কিনা জানি না। থেকে থাকলে তাও একটি মানবাধিকার বিরোধী আইন।

আজকে যদি ছয় মাসের জন্যেও আপনার অন্য কোন দেশে আশ্রয়প্রার্থী হতে হয় আপনি চাইবেন আপনার সন্তানের পড়াশোনা যাতে বন্ধ না হয়, যাতে সে স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ পায়। বাংলাদেশের মতো দুর্বল শিক্ষা ব্যবস্থার দেশে রিফিউজিরা তাদের পড়াশোনার জন্যে ভালো সুযোগ পাবে সেই আশা করা কঠিন। তার মধ্যেও যে রোহিঙ্গা মেয়েটি এদেশে পড়াশোনা করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত উঠেছে, এদেশের বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়েছে, নিজ জাতির মানুষদের জন্যে কাজ করার চেষ্টা করছে; তাকে নিয়েতো প্রশংসাসূচক খবর প্রকাশ হওয়া উচিৎ। তার বদলে এমন খবর প্রকাশ করা হয়েছে যা পড়লে মনে হয় রোহিঙ্গা হওয়াই একটা অপরাধ, আর এই মেয়েটি তার এই অপরাধী জন্ম পরিচয় লুকিয়ে পড়াশোনা করে আরো ভয়াবহ কোন অপরাধ করে ফেলেছে।

খবরটি পড়ার পর প্রথমে ভাবলাম যে, বড় পত্রিকাগুলাই যেখানে রোহিঙ্গাদের নিয়ে একের পর এক বর্ণবাদী খবর প্রকাশ করে চলেছে, সেখানে কক্সবাজারের একটা লোকাল পত্রিকা যে এমন ভয়ঙ্কর বর্ণবাদী কাজ করবে তাতে খুব অবাক হওয়ার কিছু নাই। পরে অবশ্য দেখলাম যে সময় টিভির মতো নামী গণমাধ্যমও মেয়েটিকে নিয়ে একই ধরণের খবর প্রকাশ করেছে। রোহিঙ্গাদের নিয়ে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকাগুলো যেই ধরণের বর্ণবাদ প্রচারে নেমেছে, তার কোন তুলনা বর্তমান দুনিয়ায় আর পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না।

এই স্ট্যাটাসটি লেখার সময় গুগলে "রোহিঙ্গা মোবাইল ফোন" লিখে সার্চ করতে গেছিলাম কোন কোন পত্রিকায় এই বিষয়ক কী খবর প্রকাশিত হয়েছে তা দেখার জন্যে। তা করতে গিয়ে খুবি কৌতুহলউদ্দিপক একটা জিনিস আবিষ্কার করলাম। সার্চ বক্সে রোহিঙ্গা মোবাইল কথাটুকু লিখতে না লিখতেই সার্চ সাজেশন আসলো "রোহিঙ্গা মেয়েদের মোবাইল নাম্বার"।

লেখক : একটিভিস্ট।

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0191 seconds.