• বিনোদন ডেস্ক
  • ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১০:৩০:০৮
  • ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১০:৩০:০৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

স্বপ্নের নায়কের চলে যাওয়ার ২৩ বছর

ছবি : সংগৃহীত

নব্বই দশকে বাংলা চলচ্চিত্রে ধূমকেতুর মতো আবির্ভাব হয় সালমান শাহ’র। ঢাকাই চলচ্চিত্রে একের পর এক সুপারহিট সিনেমা উপহার দিয়ে দ্রুতই দর্শক হৃদয়ে ঠাঁই করে নেন তিনি। ভক্তরা ভালোবেসে তাকে উপাধি দেন ‘অমর নায়ক’। কিন্তু মাত্র ২৭ বছর বয়সেই রহস্যজনক মৃত্যু হয় তার। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের নিজ বাসার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

মৃত্যুর পর রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেন বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। এর বছরখানেকের মধ্যেই ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ এনে আদালতে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করার আবেদন জানান তিনি। এতে সালমানের মৃত্যু নিয়ে রহস্য দানা বাঁধে। তবে দীর্ঘ সময় পরও তার মৃত্যু আত্মহত্যা না অন্য কোন কারণে হয়েছে তা অজানাই রয়ে গেছে।

আদালতের আদেশে এখন মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটির পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘মামলাটি অনেকদিনের হওয়ায় সাক্ষী মারা গেছেন। অনেকের সন্ধান মিলছে না। আবার আলামতও নেই। এ কারণে তদন্তও বেশি দূর এগুতে পারেনি।’

তিনি আরো বলেন, ‘বলাও যাচ্ছে না কবে শেষ করবো। কেননা তদন্তে এসব উপাদান লাগে। যেগুলো মামলার ডকেটেও নেই।’

দাম্পত্য জীবনে তাদের কোন সমস্যা ছিল না উল্লেখ করে সিরাজুল বলেন, ‘তার স্ত্রীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এছাড়া সালমানের এক মেকআপ ম্যানের সঙ্গেও কথা বলেছি। তারাও তেমন কিছু বলতে পারছে না। অথচ তার মৃত্যুকে নিয়ে নানা অভিযোগ করছেন। চেষ্টা করছি আসলেই কি কারণে সালমান শাহর মৃত্যু হয়েছে। একটু সময় দেন।’

তবে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে সালমা‌ন শাহ’র মা নীলা চৌধুরী পুত্রকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছেন। তিনি বারবারই বলছেন, ‘আমার ছেলে আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে হত্যা করে আত্মহত্যা সাজানো হচ্ছে। মামলায় লড়ে যাব।’

এক নজরে সালমান : ১৯৭১ সালে ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন সালমান শাহ। তার পারিবারিক নাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন। কমর উদ্দিন চৌধুরী ও নীলা চৌধুরী দম্পতির বড় ছেলে তিনি।

খুলনায় বয়রা মডেল হাইস্কুলে শুরু হয় সালমানের শিক্ষাজীবন। ওই স্কুলে চিত্রনায়িকা মৌসুমীও ছিলেন তার সহপাঠী। ১৯৮৭ সালে ধানমণ্ডির আরব মিশন স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাস করে ভর্তি হন আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে। সেখান থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে ধানমন্ডির মালেকা সায়েন্স কলেজ থেকে বি.কম পাস করেন ইমন।

১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘আকাশ ছোঁয়া’ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার অভিনয় ক্যারিয়ার। এরপর ‘দেয়াল’, ‘সব পাখি ঘরে ফিরে’, ‘সৈকতে সারস’, ‘নয়ন’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’ ইত্যাদি নাটকে অভিনয় করেন তিনি। ১৯৯০ সালে মঈনুল আহসান সাবের রচিত উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘পাথর সময়’ এবং ১৯৯৪ সালে ‘ইতিকথা’ ধারাবাহিক নাটকেও অভিনয় করেন তিনি।

১৯৯২ সালের ১২ আগস্ট সামিরা হকের সাথে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হন সালমান শাহ। সালমানের দুটি ছবিতে তার পোশাক পরিকল্পনাকারী হিসেবেও কাজ করেন ফ্যাশন সচেতন সামিরা।

১৯৯৩ সালে প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানের ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে ঢাকাই চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে সালমান শাহর। ওই ছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন শৈশবের সহপাঠী মৌসুমী। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির চিত্রায়ণ চলাকালেই নাম পরিবর্তন করে ইমন থেকে সালমান শাহ হয়ে যান তিনি।

প্রথম ছবি মুক্তির পর মাত্র চার বছর মাতিয়ে গেছেন ঢাকাই চলচ্চিত্র। আর এই স্বল্প সময়ে ব্যবসাসফল ২৭টি ছবি উপহার দিয়েছিলেন তিনি। শুধু নায়কই নয়, মডেল ও গায়ক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন সালমান শাহ। কিশোর বয়সে বন্ধুমহল তাকে কণ্ঠশিল্পী হিসেবেই চিনত। ১৯৮৬ সালে ছায়ানট থেকে পল্লীগীতিতে উত্তীর্ণও হয়েছিলেন তিনি।

চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে সালমানের সাফল্যে যখন আরো ঊর্ধ্বমুখী হতে থাকে ঠিক তখনই হঠাৎ শোনা যায় তার মৃত্যুর খবর। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৫ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে যান এ জনপ্রিয় নায়ক।

সালমানের যত ছবি : কেয়ামত থেকে কেয়ামত (২৫ মার্চ ১৯৯৩), তুমি আমার (২২ মে ১৯৯৪), অন্তরে অন্তরে (১০ জুন ১৯৯৪), সুজন সখী (১২ আগস্ট ১৯৯৪), বিক্ষোভ (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৯৪), স্নেহ (১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৯৪), প্রেমযুদ্ধ (২৩ ডিসেম্বর ১৯৯৫), কন্যাদান (৩ মার্চ ১৯৯৫), দেনমোহর (৩ মার্চ ১৯৯৫), স্বপ্নের ঠিকানা (১১ মে ১৯৯৫), আঞ্জুমান (১৮ আগস্ট ১৯৯৫), মহামিলন (২২ সেপ্টেম্বর ১৯৯৫), আশা ভালোবাসা (১ ডিসেম্বর ১৯৯৫), বিচার হবে (২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬), এই ঘর এই সংসার (৫ এপ্রিল ১৯৯৬), প্রিয়জন (১৪ জুন ১৯৯৬), তোমাকে চাই (২১ জুন ১৯৯৬), স্বপ্নের পৃথিবী (১২ জুলাই ১৯৯৬), সত্যের মৃত্যু নাই (৪ অক্টোবর ১৯৯৬), জীবন সংসার (১৮ অক্টোবর ১৯৯৬), মায়ের অধিকার (৬ ডিসেম্বর ১৯৯৬), চাওয়া থেকে পাওয়া (২০ ডিসেম্বর ১৯৯৬), প্রেম পিয়াসী (১৮ এপ্রিল ১৯৯৭), স্বপ্নের নায়ক (৪ জুলাই ১৯৯৭), শুধু তুমি (১৮ জুলাই ১৯৯৭), আনন্দ অশ্রু (১ আগস্ট ১৯৯৭), বুকের ভেতর আগুন (৫ সেপ্টেম্বর ১৯৯৭)।

বাংলা/এসএ

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0178 seconds.