• ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২২:১২:২৫
  • ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০১:০৫:৫০
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

বিশেষ সাক্ষাৎকার

‘একটি দীর্ঘ মেয়াদী উন্নয়নের জন্যই আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা’

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। ছবি : সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়নে নেয়া মাস্টারপ্ল্যান ঘিরে বিতর্ক নিয়ে সরব বিশ্ববিদ্যালয়। অপরিকল্পনা ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আন্দোলন করছে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উন্নয়ন পরিকল্পনা ও শিক্ষক শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে বাংলা’র সাথে কথা বলেন দুই দশক ধরে দেশের জাতীয় সম্পদ রক্ষার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে যাওয়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে তার বিশেষ সাক্ষাতকারটি তুলে ধরেছেন জাবি প্রতিনিধি শাহাদাত হোসাইন স্বাধীন।

বাংলা : বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে যে মাস্টারপ্লান নেয়া হয়েছে এই মাস্টারপ্লান বা ‘মেগা উন্নয়ন পরিকল্পনা’ নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষন কি?

আনু মুহাম্মদ : এই মাস্টারপ্ল্যান সম্পর্কে এখনো পরিষ্কার কিছুই জানি না। কিছুদিন আগে উপাচার্যের সভাপতিত্বে একটা সভা হয়। সেই সভায় একটি ভিডিও এনিমেশনের মাধ্যমে আমাদের মাস্টারপ্ল্যান সম্পর্কিত একটি ভিডিও দেখানো হয়, এই পর্যন্তই আমাদের জানানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা যেসব প্রশ্ন উত্থাপন করেছে তারও কোনো পরিষ্কার জবাব দিতে পারেনি। পুরো বিষয়টা আমাদের কাছে অপরিষ্কার। শুধুমাত্র ৩টি হলের এনিমেশন আছে এর বাইরে কিছু নেই।

সে জন্যই আমরা বলি, আপনাদের (বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন) কাছে যা যা আছে তা প্রকাশ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক আছেন যারা এগুলো নিয়েই কাজ করে। এবং তাদের এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান রয়েছে। তারা এই বিষয় নিয়ে কাজ করবে। শিক্ষার্থীদের মতের প্রতিফলন হবে। সকলের মতামত নিয়েই পরিকল্পনা করা উচিত বলে আমি মনে করি।

বাংলা : মাস্টারপ্ল্যান স্থগিতকরাসহ ৩ দফা-দাবিতে আন্দোলন করছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এই আন্দোলন কি কোনোভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে বাধা তৈরি হচ্ছে?

আনু মুহাম্মদ : কোনো বাধা তৈরি হচ্ছে না বরং একটি দীর্ঘ মেয়াদী উন্নয়নের জন্য, একটি টেকশই উন্নয়নের জন্য যে শর্ত প্রয়োজন সেটা পূরণে একটা ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। কারণ যে কোনোভাবে ভবন তৈরি করলেই তো আসলে উন্নয়ন হয় না। যদি প্রকৃতই আমাদের শিক্ষার জন্য যে পরিবেশ তৈরি করা দরকার হয়, তাহলে আমাদের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের যে পরিবেশ আছে, যে স্থান আছে, যে প্রাণ প্রকৃতির অবস্থা আছে সেটার সাথে সমন্বিতভাবে পরিকল্পনা করতে হবে। এবং দীর্ঘ মেয়াদে আমাদের শিক্ষা গবেষণা, আমাদের সাংস্কৃতির যে উপাদান আরো বিকশিত করার জন্য যে ধরনের পরিকল্পনা দরকার সেটাই নিশ্চিত হবে এই আন্দোলনের মাধ্যমে।

আন্দোলনেতো বলা হচ্ছে না, উন্নয়ন করা যাবে না। বলা হচ্ছে যে, আমরা হল চাই সেই সাথে আমরা আমাদের প্রাণ প্রকৃতিও চাই। এ দুইয়ের সমন্বয়ে যে ধরনের পরিকল্পনা দরকার সেটার কথাই বলা হচ্ছে। মাস্টারপ্ল্যানটা পুনঃবিন্যাস করার কথা বলা হচ্ছে সকলের অংশ গ্রহণের ভিত্তিতে, স্বচ্ছতার সঙ্গে এবং পরিকল্পনাটাও হতে হবে একটা দীর্ঘ মেয়াদে পরিকল্পনা নিয়ে। সুতরং এই আন্দোলনটা স্বচ্ছ, অংশগ্রহণ মূলক এবং পরিকল্পিত উন্নয়কেই নিশ্চিত করার জন্য হচ্ছে। 

বাংলা : উপাচার্য বলছে আন্দোলনটি জটিল না, সমাধান করা যাবে। সমাধানের লক্ষে তিনি শিক্ষার্থীদের কিছুটা ‘কম্প্রমাইজ’ করতে বলছেন...। এই বিষয়ে আপনার মন্তব্য জানতে চাচ্ছি।

আনু মুহাম্মদ : বিষয়টা মোটেই জটিল না। বিষয়টাতো খুবই সহজ। যেমন তিনটা দাবির মধ্যে একটা দাবি হচ্ছে যে, ৫ তলা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের পাশে অপ্রয়োজনীয়ভাবে গাছ কেটে আরো তিনটা হল করা হচ্ছে ১০ তলা। সে হল স্থানন্তর করতে হবে অন্য জায়গায়, সেই অন্য জায়গাটাও দেখানো আছে। যেখানে বর্তমান হল ক্ষতিগ্রস্থ হবে না, প্রাণ প্রকৃতিও ক্ষতিগ্রস্থ হবে না। এরকম কিছু জায়গা স্বনাক্ত করা আছে। সুতরাং সেটা করাতো খুব জটিল কিছু না।

আরেকটা দাবি হচ্ছে, মাস্টারপ্ল্যানে সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে পুনর্বিন্যাস করা। সেটাও সহজ। তৃতীয় দাবি হচ্ছে দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে তা তদন্ত করা।তদন্ত কমিটি গঠন এটা উপাচার্যের পক্ষে সম্ভব না। এইটা শিক্ষা মন্ত্রণালয়, কিংবা মঞ্জুরি কমিশন, বা আচার্যের কার্যালয় থেকে হতে হবে। সেটাও সহজ। যদি কোনো বিশেষ কোনো গোষ্ঠির স্বার্থ রক্ষার বিষয় না থাকে তাহলে এটা সমাধান করা কঠিন কিছু না। এসব দাবি মেনে নেয়া কোনো জটিলও না, খুবই সহজ।

কিন্তু এ ক্ষেত্রে যেটা করতে হবে প্রশাসনকেও উদ্যোগী হতে হবে এবং সরকারকেও উদ্যোগী হতে হবে। কারণ এখানে সরকারের নিয়োগকৃত উপাচার্য অভিযুক্ত, সরকারি দলের ছাত্র সংগঠন এখানে অভিযুক্ত সুতরাং সরকারের এখানে উদ্যোগ থাকাটা এই সমস্যা সমাধানের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলা : উপাচার্য তার উপর আস্থা রাখার কথা বলছেন। উপাচার্য তো অতীতে অনেক আলোচনার সমাধান না টেনেই আলোচনার সমাপ্তি টেনেছেন, সে প্রেক্ষিতে তার উপর আস্থা রাখতে পারছেন কিনা?

আনু মুহাম্মদ : এটাতো ব্যক্তিগত ব্যাপার না। এটা কোনো ব্যক্তিগত সমস্যা হলে তার উপর আস্থা অনাস্থার বিষয় আসতে পারে। কিন্তু এটাতো ব্যক্তিগত ব্যাপার না এটা হলো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাপার। এখানে একটা নীতির ব্যাপার আছে, পরিকল্পনার ব্যাপার আছে, প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার ব্যাপার আছে। সুতরাং প্রক্রিয়াটাকেই সামনে আনতে হবে। এখানে ব্যক্তিগত আস্থা-অনাস্থার বিষয়টি আনা কিংবা আবেগ মান অভিমানের বিষয়গুলো এখানে আনা ঠিক না। এটা একটা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপার। শত বর্ষের পরিকল্পনার ব্যাপার। প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়াকে সামনে নিয়ে আসাটাই হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ। উপাচার্য যদি তার দায়িত্বটা ঠিকভাবে অনুধাবন করেন তাহলে প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়াকেই তিনি শক্তিশালী করবেন স্বচ্ছ করবেন এবং অংশ গ্রহণমূলক করবেন। তাহলেই উপাচার্য হিসেবে তার দায়িত্ব পালন হবে।

বাংলা : মাস্টারপ্লান ঘিরে যে অনৈতিক অর্থ লেন-দেন ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে সেখানে উপাচার্যের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে উপাচার্য তার পদে বহাল থাকা অবস্থায় তদন্ত চালাতে পারে কিনা?  নাকি তার অব্যাহতি নেয়া প্রয়োজন?

আনু মুহাম্মদ : এই অভিযোগতো গুরুতর অভিযোগ। এই অভিযোগে যে শুধু মাত্র উপাচার্যের ভাব মূর্তি সংকটে পরেছে তা না এর সাথে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভাবমূর্তি সংকটের ভেতর আছে। ছাত্রলীগের এইযে কমিশন নেয়া বা ঠিকাদারের কাছ থেকে টাকা পয়সা নেয়া এতে কেউই অবাক হবে না। কিন্তু যে বিষয়টি সবাইকে অবাক করেছে তা হচ্ছে, উপাচার্য নিজে এর সাথে জড়িত এমন অভিযোগ উঠে এসেছে।

এই অভিযোগ যেহেতু উপাচার্যের বিরুদ্ধে সুতরাং উপাচার্যের সংশ্লিষ্টতা ছাড়া তদন্ত কমিটি হওয়া উচিত। এখন বাংলাদেশে অবশ্য এমনিতেই কোনো তদন্ত কমিটির উপর ভরসা করা মুশকিল। তদন্ত কমিটি নানাভাবে প্রভাবিত হয়। তদন্ত কমিটি নিজেরাও ঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে না। এমন কতগুলো ঘটনার প্রেক্ষিতে আসলে আমরা বলতে পারি তদন্ত কমিটির উপরে আস্থা রাখা মুশকিল। তারপরও আমরা বলবো তদন্ত কমিটি হোক এবং এই বিষয়ে যদি বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত না হয় তা উপাচার্যের জন্যও ক্ষতিকর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও ক্ষতিকর। সেজন্য একটা বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত কমিটি হওয়া উচিত।

সেই তদন্ত কমিটি এমন তদন্ত কমিটি হবে তা যেন উপাচার্যের প্রভাব বলয়ের মধ্যে না থাকে। যেহেতু উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশানের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি, সুতরাং তার ক্ষমতার প্রভাবে থাকা কাউকে এই কমিটিতে রাখা ঠিক না। এই তদন্ত প্রক্রিয়ায় উপাচার্যের ক্ষমতা সীমিত রাখা উচিত। তদন্ত যথাযথভাবে শেষ করার জন্য এই প্রকল্পের যত কাজ আছে তা স্থগিত রাখা উচিত। এই প্রকল্প সংক্রান্ত ঠিকাদার এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষক কর্মকর্তা যারা আছেন তাদের কার্যক্রমও তদন্তের আওতায় আনা উচিত। তাদের ক্ষমতাও সীমিত করা উচিত।

বাংলা : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের যে শিক্ষা পরিবেশ আছে, যেমন এখানকার প্রাণ-প্রকৃতি ও জীব-বৈচিত্রের যে সম্মিলন লক্ষ্য করা যায় তা দেশের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই নেই। এক্ষেত্রে ক্যাম্পাসের উন্নয়নে কোন বিষয়গুলোকে বিবেচনায় রাখা উচিত?

আনু মুহাম্মদ : উন্নয়ন সম্পর্কে প্রথমেই আমাদের চিন্তা করতে হবে একেকটা অঞ্চলের যে বিদ্যমান শক্তি আছে, তার যে সমৃদ্ধ অবস্থা আছে তা বিকশিত করাই উন্নয়ন। কিছু ভবন বানালেই উন্নয়ন হয় না। এটা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আরো বেশি সত্য। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ প্রকৃতি জীব বৈচিত্র খুবই সমৃদ্ধ। এখানে অসংখ্য প্রাণের অস্তিত্ব আছে। এখানে পানি আছে বলে অসংখ্য জলজ প্রাণ আছে, বহু রকম গাছ আছে, অনেক রকম পাখি আছে। এটা একটা জীবন্ত গবেষণাগার। এখানে বহু রকম গবেষণার বিষয় আছে। এইরকম একটা জায়গায় যত্রতত্র ভবন তোলার মত মূর্খতা আর কিছু হতে পারে না। অনেক কিছু বিবেচনা করেই এখানে পরিকল্পনা করতে হবে। এখানকার ভবন যাতে প্রাণ প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় সেরকমভাবেই পরিকল্পনা হওয়া উচিত।

এই প্রাণ প্রকৃতি বৈচিত্র সমস্ত কিছু রক্ষা করে সেটাকে আরো বিকশিত করার জন্য প্রয়োজন বহুমাত্রিক একটি দৃষ্টিভঙ্গি। সেজন্যই আমরা বলি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এতো বছরে অনেকগুলো বিভাগ হয়েছে, যেমন এখানে নগর পরিকল্পনা বিভাগ আছে, অর্থনীতি বিভাগ আছে, উদ্ভিদবিজ্ঞান, প্রাণিবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিভাগ আছে। এখানে ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা আছে, ভূতত্ব বিভাগ আছে আবার এর পাশাপাশি চারুকলা নাট্যতত্বের মতো বিভাগ দেখি। বিভিন্ন দিক থেকে দেখার মতো এবং সেখান থেকে অবদান রাখার মতো বিশেষজ্ঞ এই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরেই আছে। তাদের যদি এই মাস্টারপ্ল্যান প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়, তাদের জ্ঞান যদি যোগ করা হয় তাহলে সেটা শুধু অংশগ্রহণমূলক হবে তা নয়, সেই সাথে একটা দৃষ্টান্তমূলক উন্নয়নের রূপ দিতে পারবে।

তাহলে এটা শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয় বিশ্বের জন্যও একটা দৃষ্টান্ত হতে পারবে। এবং তার জন্য খুব বেশি কিছু দরকার নেই যারা শুধু টাকার দিকে নজর দেয় তাদের নিয়ন্ত্রণ থেকেই মাস্টারপ্ল্যানকে বের করে আনতে হবে। যারা এর আগে বিভিন্ন সময়ে চাঁদাবাজি করেছে, কমিশন নিয়ে কাজের মানকে ক্ষতি করেছে তাদের হাত থেকে যদি মাস্টারপ্ল্যানকে বের করে আনা যায় তাহলেই সেটা হবে একটা দৃষ্টান্ত।

বাংলা : মাস্টারপ্লান ঘিরে যে বিতর্ক চলছে এখান থেকে বেরিয়ে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় উন্নয়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসণের এই মুহূর্তে কি ধরণের পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?

আনু মুহাম্মদ : এই মুহূর্তে আসলে ৩ দফা দাবি নিয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের দাবিকে গুরুত্ব দেয়া, সেটাই হচ্ছে প্রধান কাজ। আর স্বচ্ছতা তৈরি করা। সেই সাথে এটাও উপলব্ধি করতে হবে যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভেতরে যে অবদান রাখার যোগ্যতা আছে সেটাকে যুক্ত করেই এগিয়ে নিতে হবে পরিকল্পনা। এই উপলব্ধি যদি প্রশাসনের ভেতর আসে এবং সে অনুযায়ী কাজ করে তাহলে যে যত চক্রান্তই করুক কিংবা বাধা দিক না কেন তা পরাজিত হবে।

আরেকটা বিষয় হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনের একটা বড় দায়িত্ব হচ্ছে হলগুলোর ভেতরে যে সন্ত্রাসের আধিপত্যের যে পরিবেশ আছে , গণরুমের নির্যাতন আছে তা থেকে মুক্ত করা। যদি সন্ত্রাসী চাঁদাবাজদের আধিপাত্য থাকে তাহলে যত বড় ভবনই হোক না কেন তা বিশ্ববিদ্যালয় তার শিক্ষা বিরোধী পরিবেশ থেকে মুক্ত হতে পারবে না।

বাংলা : ধন্যবাদ

আনু মুহাম্মদ : আপনাকেও ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0213 seconds.