• ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২০:৫৭:৩১
  • ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২১:৪০:৪৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

আন্দোলন এতটা জটিল না যে সমাধান করতে পারব না : জাবি উপাচার্য

অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম। ছবি : সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মেগাপ্রকল্পকে ঘিরে দুর্নীতির ও অপরিকল্পনার অভিযোগে টানা আন্দোলনে স্থবির বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আন্দোলনকারীদের প্রশাসনিক ভবন অবরোধের ফলে মঙ্গলবার থেকে উপাচার্যের অফিসসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ অফিসসমূহ বন্ধ রয়েছে।

তবে বাংলা’র সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে ‘সামগ্রিক পরিস্থিতি এতটা জটিল না যে সমাধান করা যাবে না’ বলে  মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আমাদের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি শাহাদাত হোসাইন স্বাধীন

বাংলা : বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পকে ঘিরে অস্বচ্ছতা, অপরিকল্পনা এবং দুর্নীতির অভিযোগে আন্দোলন হচ্ছে, সামগ্রিক পরিস্থিতিতে আপনার মূল্যায়ন কি?

জাবি উপাচার্য : প্রকল্পকে ঘিরে আন্দোলন হবে সেটা আমি আশা করিনি। গত তিনবছর ধরে কষ্ট করে এত বড় প্রকল্প অনুমোদন করিয়ে আনার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারী খুব খুশী হবে বলে ভেবেছিলাম। কিন্তু আমি ধাক্কা খেলাম কেন এমন (আন্দোলন) হল। তবে যে কোন আন্দোলনেরই একাধিক স্বার্থ ও চিন্তা থাকে, একাধিক দল একসাথে থাকে। সে জায়গা থেকে এটা একটা জটিল আকৃতি ধারণ করেছে। আমার মনে হয় সেটা আবার এতটা জটিল নয় যে আমরা চেষ্টা করলে সমাধান করতে পারব না। আজকে আমার প্রো-ভিসিদ্বয়, ট্রেজারার, রেজিস্ট্রারসহ প্রশাসনিক বডিকে পাঠিয়েছিলাম তারা বলেছে উপাচার্যের যেতে হবে। আমি ২জন শিক্ষকের (আন্দোলনকারী) সাথে কথা বলেছি, তাদের বুঝিয়ে বললাম, তোমরা কিছুটা কমপ্রোমাইজ করতে পারো। আমরা একটা হল ১০০ ফিট সরালাম। কিন্তু আমার কাছে মনে হলো তারা আরো বেশ পরিবর্তন চায়। একটা তদন্তও চায়। একটা বা দুইটা হল সরানোর দাবি করছেন তারা।

বাংলা : আন্দোলনকারীদের তিনদফা দাবি নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কি?

জাবি উপাচার্য : তাদের প্রথম দাবি রবীন্দ্রনাথ হলের পাশ থেকে হল সরাতে হবে। আমরা বলেছি একটা হল ১০০ ফিট সরানো যায়। আর ২টা হলের ব্যাপারে আমরা এখনো পর্যন্ত চিন্তা করিনি যে তা স্থানান্তর করতে পারব কিনা! বাকি ২ টা হল স্থানান্তর করতে আমাদের স্থপতির সঙ্গে কথা বলতে পারি। এসময়ের মধ্যে আমরা আলোচনাও চালিয়ে যেতে পারি।

দ্বিতীয়ত, যে দুর্নীতির তদন্ত করতে বলেছে সে ব্যাপারে আমার কাছে পাকাপোক্ত কোন অভিযোগ আসেনি। শুধুমাত্র পত্রপত্রিকার তথ্য নিয়ে কোন তদন্ত কমিটি করা ঠিক নয়। আর এটা বিশাল ব্যাপার। যেহেতু এ ঘটনায় ছাত্রলীগের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে, এখানে ছাত্রলীগের সুনাম-দুর্নামের ব্যাপারও রয়েছে। কিন্তু আন্দোলনকারীরা যেহেতু অভিযোগ তুলেছে তার প্রেক্ষিতে একটা সাধারণ তদন্ত করতে পারি। আদৌ প্রকল্পের টাকা এসেছে কিনা। আমি বলতে পারি, প্রকল্পের টাকা কোথা যায়নি। প্রকল্প থেকে কেউ কোনো টাকাও পায়নি।

অংশীজনদের সাথে যেটা আলোচনার দাবি করছে সেটা নিয়ে বলব প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপ থেকে আন্দোলনকারীদের সাথে বসা যায়। বটতলা একটা অস্থায়ী স্থাপনা। এর পেছনেই লাইব্রেরিটা হওয়ার কথা।  তখন হয়তো এই বটতলা এরকম থাকবে না। এখানে স্থাপনা (বটতলা) করলে আমরা হলে হলে ডাইনিংগুলো চালু করতে পারি। বটতলার সামাজিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। সেখানে হাত দিলে আবার কথা উঠবে। কিন্তু এর বিকল্প স্থান কোথায়? তবে আমিও জেদ করলাম আন্দোলনকারীরা জেদ করল তাতে কোন সমাধান হলো না। তারা জেদ না করলে আমি যা করব বুয়েটের স্থপতিরা যে পথ দেখিয়েছে সে পথে আমি তাদের নিয়ে আগাবো। সেখানে ১৯ আর ২০ হতে পারে, ১৫/ ২০ হতে পারবে না। সরকার টাকা দিচ্ছে তাদের আবার আমাকে কাজও দেখাতে হবে। আমি নিজে বদলাতে পারব না। 

বাংলা : মাস্টারপ্লান নিয়ে যে বিশেষজ্ঞ কমিটি করেছেন তা একদলীয় কমিটি বলে অভিযোগ উঠেছে।

জাবি উপাচার্য : এটাও না, তবে এই মুহূর্তে না হলেও পরে এই কমিটিতে আন্দোলনকারীদের আনব। আমার তো কোনো শত্রু নেই, আমার অভিমান থাকতে পারে, রাগ থাকতে পারে।

বাংলা : আপনি এবং আপনার পরিবারের বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে আপনার মন্তব্য কি?

জাবি উপাচার্য : এই অভিযোগ পত্রপত্রিকায় উঠছে। ইউজিসি চাইলে আমার বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারে। মহামান্য চ্যান্সেলর চাইলে আমাকে ডেকে পাঠাতে পারেন। কিন্তু এ বিষয়ে আমার তদন্ত করার এখতিয়ার নেই, কেননা এখানে আমার নাম রয়েছে। যদি ছাত্রলীগের কথাটা বলেন তবে সেটা তদন্তের জন্য বিবেচনা করতে পারি।

বাংলা : একটি ইংরেজি দৈনিকে আপনার বক্তব্য এসেছে ‘আপনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে ছাত্রলীগের একটি লেনদেনের কথা জানেন।’ এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কি?

জাবি উপাচার্য : আমি বলেছি, ‘এই ধরনের একটি কথা আমিও শুনেছি। কিন্তু কেউ কোন অভিযোগ না করলে আমি কি করতে পারি?’ তারা আমার বক্তব্য বিকৃত (টুইস্ট) করেছে।

বাংলা : আপনি লিখিত অভিযোগের কথা বলছেন, তবে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে শিডিউল ছিনতাইয়ের একটা লিখিত অভিযোগ আপনাকে দেয়া হয়েছিল, এটা নিয়ে প্রশাসন কি করেছে?

জাবি উপাচার্য : আমি তখন হাসপাতালে ছিলাম। জীবনের সাথে যুদ্ধ করছিলাম। এই অভিযোগ একটা প্যাডে লিখেছিল। তবে এটা ছিল অস্পষ্ট অভিযোগ। লিখেছে ফর অমুক। ফর অমুকে এতো বড় দুর্নীতির অভিযোগ তোলা যায় না। তারা আর আমার সাথে যোগাযোগও করেনি। আমি ছাত্রলীগকে জিজ্ঞেস করেছিলাম তারা এটা অস্বীকার করেছে।

বাংলা : ধন্যবাদ আপনাকে।

জাবি উপাচার্য : আপনাকেও ধন্যবাদ।

 

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0331 seconds.