• বিদেশ ডেস্ক
  • ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২৩:৩১:৫৬
  • ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০১:২৪:২৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

ইয়েমেনে যুদ্ধাপরাধে দায়ী হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ফ্রান্স-যুক্তরাজ্য

ছবি : সংগৃহীত

বর্তমানে ইয়েমেনে যে যুদ্ধ হচ্ছে তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্সকেও দায়ী করা যেতে পারে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। যদিও এসব দেশ ইয়েমেনে সরাসরি যুদ্ধ করছে না কিন্তু তাদের দেয়া অস্ত্র, গোয়েন্দা সাহায্য সৌদি জোটকে সহায়তা করছে।

মঙ্গলবার জাতিসংঘের প্যানেল জানায়, সম্প্রতি তদন্তকারীরা সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধের জন্য দায়ীদের একটি গোপন তালিকা তৈরি করছে।

জাতিসংঘ জানায়, সংস্থাটির স্বাধীন তদন্ত দল মানবাধিকার কমিশনের প্রধান মিশেল ব্যাশেলেতের কাছে একটি গোপন তালিকা পাঠিয়েছে। এই তালিকায় আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধের জন্য দায়ী হতে পারেন এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হয়েছে।

তদন্তকারীরা উভয় পক্ষেই সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ পেয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। এই যুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলো সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোটকে সমর্থন দিচ্ছে অপরদিকে ইরান ইয়েমেন নিয়ন্ত্রণকারী হুতিদের সমর্থন জানাচ্ছে।

জাতিসংঘের এই প্রতিবেদনে সৌদি এবং আরব আমিরাতের নেতৃত্বাধীন হুতি বিরোধী জোটকে ইয়েমেনে বেসামরিক মানুষকে হত্যার জন্য দায়ী করা হয়েছে। বিমান হামলার মাধ্যমে এই হত্যা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে খাদ্য সরবরাহে বাধা দিয়ে ইয়েমেনের মত দারিদ্রপীড়িত একটি দেশকে দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দেয়া হচ্ছে বলেও জানানো হয়।

এছাড়া হুতিরাও বিভিন্ন শহরে বোমাবর্ষণ করে, শিশুদের সেনা হিসেবে নিয়োগ দিয়ে এবং অবরোধ করে যুদ্ধাপরাধ করছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে রাজধানী সানা থেকে উৎখাত করে শিয়া মতাবলম্বী হুতিরা। এরপর সৌদি নেতৃত্বাধীন সুন্নি দেশগুলো বহিষ্কৃত ইয়েমেনি সরকারের পক্ষে হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। পাঁচ বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে হাজার হাজার বেসামরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

এদিকে ইয়েমেনে যে দুর্ভিক্ষের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তাকে বিশ্বের সবচেয়ে মানবিক সংকট বলে বর্ণনা করেছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য রাষ্ট্রের অস্ত্র সরবরাহের বৈধতা নিয়ে  প্রশ্ন তোলা যেতে পারে।  এটি বিভিন্ন দেশের আদালতের কার্যক্রমের বিষয় হতে পারে। 

জাতিসংঘের প্যানেল জানায়, আমিরাতি এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত বাহিনীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যাসহ নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আটকের ঘটনাও ঘটেছে। অপরদিকে হুতিরা ভূমি মাইন পুঁতে রেখেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বাংলা/এফকে

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0200 seconds.