• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ৩১ আগস্ট ২০১৯ ২১:২৮:৩২
  • ৩১ আগস্ট ২০১৯ ২২:৪৫:০২
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

সীমান্তে সতর্কতা

ছবি : সংগৃহীত

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা (এনআরসি) শনিবার প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন ১৯ লাখ মানুষ। বাদ পড়া ১৯ লাখ মানুষ এখন রাষ্ট্রহীন।

এনআরসি প্রকাশের প্রেক্ষিতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সতর্কাবস্থায় রয়েছে। বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর লোকজনকেও সতর্কতামূলক নির্দেশনা দিয়েছে বিজিবি।

বিজিবির পাশাপাশি পুলিশও সতর্ক রয়েছে। তালিকায় বাদ পড়াদের কেউ যাতে বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশ করতে না পারে সে ব্যাপারে এই নজরদারি ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বিজিবির ৪৮ ব্যাটালিয়নের সিও লে. কর্নেল ইউসুফ আহমেদ জামিল বলেন, বিজিবি হেডকোয়ার্টারের নির্দেশনার আলোকে সিলেট সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। এনআরসি প্রকাশের প্রেক্ষিতে সীমান্তে অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবিলায় বিজিবি প্রস্তুত আছে।

তিনি জানান, আসামের এনআরসি প্রকাশের উদ্যোগের প্রেক্ষিতে গত বছরের জুন মাস থেকেই সিলেটের সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। এখন এই সতর্কতা আরো বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর লোকজনকেও সতর্ক থাকতে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশের তথ্য পেলে তাৎক্ষণিক তা বিজিবিকে জানাতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং সীমান্তবর্তী এলাকার জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গেও বিজিবি যোগাযোগ রক্ষা করছে বলে জানান তিনি।

ইফসুফ আহমেদ জামিল আরো বলেন, ‘আমরা আশাবাদী আসামের এই ঘটনায় আমাদের সীমান্তে কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে অপ্রীতিকর কিছু হলে আমরা সম্মিলিতভাবে তা মোকাবিলা করব।’

বিজিবির ১৯ ব্যাটালিয়নের সিও লে. কর্নেল সাঈদ হোসেন বলেন, আসামের এনআরসি নিয়ে সিলেট সীমান্তে যাতে কোনো প্রভাব না পড়ে সে ব্যাপারে বিজিবি সতর্ক রয়েছে। সীমান্তবর্তী গ্রামের লোকজন ও জনপ্রতিনিধিদেরও সজাগ থাকতে বিজিবির পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

পুলিশের সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি কামরুল আহসান বলেন, ‘সীমান্তবর্তী থানাগুলোতে সীমান্তের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পুলিশ সব সময়ই সতর্ক থাকে। এখন আসামের এনআরসি প্রকাশের প্রেক্ষিতে পুলিশকে আলাদা কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তবে বিষয়টি মাথায় রেখে পুলিশ কাজ করছে।’  

প্রসঙ্গত সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারে ভারতের সঙ্গে বিস্তৃত স্থল সীমান্ত রয়েছে। এসব উপজেলা দিয়ে বৈধপথের পাশাপাশি অবৈধপথে দুই দেশের নাগরিকদের যাতায়াত রয়েছে। এ ছাড়া চোরাচালানও আদান-প্রদান হয়।

আসামের এনআরসি প্রকাশের প্রেক্ষিতে তালিকা থেকে বাদ পড়া লোকজন এসব উপজেলার সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিলেটের সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ বলেন, ‘আসামের নাগরিক তালিকা থেকে যারা বাদ পড়েছে, তাদের নিয়ে একটি শঙ্কা রয়েছে। তবে তারা যাতে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে না পারে সে ব্যাপারে আমরা সীমান্তবর্তী এলাকার জনপ্রতিনিধি ও জনগণ সজাগ রয়েছি। অনুপ্রবেশের তথ্য পেলে আমরা তা বিজিবিকে অবহিত করব।’

সুনামগঞ্জের ১১ উপজেলার মধ্যে তাহিরপুর, দোয়ারাবাজার, বিশ্বম্ভরপুর, সুনামগঞ্জ সদর ও ধর্মপাশা উপজেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় সে সব উপজেলার সীমান্তগুলো সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বিজিবি।

তা ছাড়া সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে বসবাসকারীদের বিজিবির পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ২৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মাকসুদুল আলম।

সীমান্ত এলাকায় যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিজিবি সব ধরনের প্রস্তুতিও রয়েছে বলে জানান তিনি।

২৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মো. মাকসুদুল আলম বলেন, তালিকা আসামের হলেও সুনামগঞ্জ সীমান্তে যাতে এর প্রভাব না পড়ে সেদিকে লক্ষ্য রেখে ২৮ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন সীমান্তে থাকা বিজিবিকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সে সঙ্গে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে বসবাসকারীদের এসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0213 seconds.