• বিদেশ ডেস্ক
  • ৩১ আগস্ট ২০১৯ ১৮:৫৩:৪৫
  • ৩১ আগস্ট ২০১৯ ১৮:৫৪:৪৯
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

ইন্টারনেটে পাওয়া ‘ডেঙ্গু রোধী পেঁপে পাতা’র তথ্যে বিপত্তি

ছবি : সংগৃহীত

একটা ভুল প্রচার। যা ডেঙ্গু রোগীদের আরো মর্মান্তিক পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, পেঁপে পাতায় প্যাপাইন নামক একটি পদার্থ থাকে, যা মানবদেহের রক্তে প্লাটিলেট বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে ডেঙ্গু বা ম্যালেরিয়ায় পেঁপে পাতা খুবই উপকারী হতে পারে। সে তথ্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দৌলতে খণ্ড তথ্য হিসেবে ছড়িয়ে পড়েছে। আর তাতেই বাড়ছে বিপদ।

প্যাপাইনের চক্করে ডেঙ্গু ধরা পড়তেই অনেক রোগী কাঁচা পেঁপে পাতা চিবিয়ে খেয়ে ফেলছেন। এতে আরোগ্যের বদলে বিপর্যয় ঘটে যাচ্ছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই ডেঙ্গু রোগীর পাকস্থলীতে গুরুতর গোলযোগ শুরু হয়ে যাচ্ছে। গ্যাসট্রাইটিস এমনকী আলসারও তৈরি হচ্ছে। রোগীর অবস্থা আরো করুণ হয়ে উঠছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘সংবাদ প্রতিদিন’এর খবরে বলা হচ্ছে, বস্তুত এডিস মশার চেয়ে পেঁপে পাতাই এখন ডাক্তারদের কাছে বড় মাথা ব্যথার কারণ। গত কয়েক মাসে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় ভয়াবহ চেহারা নিয়েছে ডেঙ্গু। এবছরও ডেঙ্গুতে বেশ কিছু প্রাণহানি ঘটেছে।

স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তারা জানিয়েছিলেন, সরকারি হিসেব অনুযায়ী জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা অন্তত তিন হাজার। এখনো বর্ষা চলছে, ফলে আগামী কয়েক দিনে সংখ্যাটা বাড়বে বই কমবে না। এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে বোঝার উপর শাকের আঁটি হয়ে দাঁড়িয়েছে ইন্টারনেট লব্ধ পেঁপেপাতা সংক্রান্ত জ্ঞান।

হাবড়া ও বারাসত হাসপাতাল সূত্রের খবর, গত দু’মাসে এমন বহু রোগী মিলেছে যারা স্রেফ পেঁপেপাতা চিবিয়ে বিপদ বাড়িয়ে ফেলেছেন বহু গুণ। বৃহস্পতিবার হাবড়া হাসপাতালের সুপার শংকরলাল ঘোষ বলেন, ‘বুধবারই বছর পনেরোর একটি মেয়ে জ্বর নিয়ে ভর্তি হয়। রক্তপরীক্ষায় এনএসওয়ান ধরা পড়ল। কিন্তু চিকিৎসা শুরু হলেও অবস্থা খারাপ হতে থাকে। বমি আর বমি। শেষে বাড়ির লোকের মুখে জানা গেল, মেয়েটিকে কাঁচা পেঁপেপাতা খাওয়ানো হয়েছিল। ফলে আলসার হয়ে গেছে। অনেক চেষ্টায় এখন বিপদ কেটেছে।’

বারাসত হাসপাতালের সুপার সুব্রত বিশ্বাসের বলেন, ‘অনেকে শুধুশুধু পেঁপেপাতা খেয়ে আরো অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। ডেঙ্গুর সঙ্গে গ্যাসট্রাইটিস কিংবা আলসার। এসব রোগীকে বাঁচানো মুশকিল হয়ে যায়।’
এমতাবস্থায় কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে রোগীর পরিজনদের বোঝানো হচ্ছে বলে জানান সুব্রত বিশ্বাস। আমজনতার মাথায় ঢোকানোর চেষ্টা হচ্ছে যে, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এধরনের কাজ করলে হিতে বিপরীত হবে।

বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা, ইন্টারনেটে ছড়ানো বার্তাটি আংশিক সত্য। একটি গবেষণাপত্রে বলা হয়েছিল, প্যাপাইন প্লাটিলেট বাড়াতে সাহায্য করে। এটাও সত্যি যে পেঁপেপাতায় প্যাপাইন আছে। তাই বলে কাঁচা পেঁপেপাতা খাওয়াটা কোনোভাবেই উপকারী নয়।

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. অরিন্দম বিশ্বাস বলেন, ‘গবেষণাটি আন্তর্জাতিকভাবে এখনো স্বীকৃতি পায়নি। গবেষণা পর্যায়েই রয়েছে। অর্থাৎ চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে গণ্য হতে পারে না। আর কাঁচা পেঁপেপাতা ডেঙ্গুতে কোনোভাবেই খাওয়া উচিত নয়। মারাত্মক সমস্যা তৈরি হতে পারে।’ 

 

সংশ্লিষ্ট বিষয়

ডেঙ্গু পেঁপে পাতা

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0941 seconds.