• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ৩১ আগস্ট ২০১৯ ১০:৩৪:৩১
  • ৩১ আগস্ট ২০১৯ ১০:৩৪:৩১
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

চিনির বিকল্প ‘চিনিগো’

ছবি: সংগৃহীত

ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে চিনিকে খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিচ্ছেন অনেকেই। স্বাস্থ্য সচেতন হতে গিয়ে অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন চিনির মিষ্টতা থেকে। চিনি নিয়ে দ্বিধা আর প্রশ্নের বেড়াজালে আটকে যাচ্ছে মিষ্টির স্বাদ। 
এমন দ্বিধা আর প্রশ্নের সমাধান হতে পারে 'চিনিগো'। 

ভাবছেন 'চিনিগো' কি? স্টিভিয়া গাছের পাতা থেকে সংগৃহীত নির্ষাস দিয়ে তৈরি করা হয়েছে 'চিনিগো'। স্টিভিয়া কি? স্টিভিয়া মূলত দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের একটি ভেষজ উদ্ভিদ। স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিন ধরেই খাবার ও পানীয়তে চিনির বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে স্টিভিয়া। স্টিভিয়া এক্সট্রাক্ট বা রিবিয়ানা নামেও পরিচিত সেখানে। এর মিষ্টতার পেছনে মূল উপাদান হলো বিভিন্ন ধরনের স্টিভিওল গ্লাইকোসাইড (প্রধানত স্টেভিওসাইড ও রিবডিওসাইট)। এসব উপাদানের কারণে স্টিভিয়া সাধারণ চিনির চেয়ে প্রায় ৪০ গুণ বেশি মিষ্টি, তবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রায় এর কোনোধরনের প্রভাব নেই। ফলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও এটি সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যকর। এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো- এটি পুরোপুরি প্রাকৃতিক উপাদান, কোনোভাবেই কৃত্রিম নয়।

বাংলাদেশের বাজারে চিনিগো নিয়ে এসেছে পূর্নাভা লিমিটেড। রেনাটা লিমিটেডের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান পূর্নাভা বাংলাদেশের বাজারে বিভিন্ন বিকল্প ওষুধ নিয়ে কাজ করছে দীর্ঘদিন ধরেই। 

আর যারা চিনিকে বলছেন ‘না’ তারা আসলে বিকল্প হিসাবে কি খাচ্ছেন,তাও দেখা প্রয়োজন। তারা মূলত চিনির বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছেন- আর্টিফিশিয়াল সুইটনার। ওজন কমানো, সেই সাথে সুস্থ থাকার আপ্রাণ চেষ্টায় চা-কফি তো বটেই, খাদ্যতালিকা থেকে চিনিকে পুরোপুরি বাদ দিয়ে আর্টিফিশিয়াল সুইটনারের দ্বারস্থ হচ্ছেন অনেকে। তারা হয়তো ভাবছেন এটা ক্ষতির কারন হবে না, যতোটা না চিনিতে! কিন্তু আসলেই কি তাই? উত্তর শুনে নিরাশ হতে পারেন কিন্তু! আসলে কথা হলো- কাজের কাজ না হয়ে বরং আপনার ওজনও বেশ খানিকটা বেড়ে যেতে পারে এই আর্টিফিশিয়াল সুইটনারে!

গবেষণায় প্রমাণিত, ওজন বাড়া ছাড়াও আর্টিফিশিয়াল সুইটনারের প্রভাবে বাড়তে পারে ব্লাড প্রেশার, হতে পারে টাইপ টু ডায়াবেটিস। কানাডার মানিটোবা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত গবেষক মেগান আজাদ বলছেন, 'আর্টিফিশিয়াল সুইটনার থেকে লম্বা সময়ের জন্য কোনও সুফল পাওয়া যায় না। বরং কারও কারও ক্ষেত্রে ওজন বাড়া ও অন্যান্য কার্ডিও মেটাবলিক সমস্যা হতে পারে।'

অতিরিক্ত ওজন ঠেকাতে চিনি বাদ দিয়ে অনেকেই অ্যাসপার্টেম, সুক্রালোজ, আর স্টেভিওসাইডের মতো কৃত্রিম মিষ্টবস্তুকে বেছে নিয়েছেন। এখানে সমস্যা হচ্ছে, চিনির চেয়ে এই কৃত্রিম বস্তুগুলির ক্যামিকাল গঠন আলাদা। জিভে উপস্থিত স্বাদ গ্রহণকারী রিসেপ্টরকে এই উপাদানগুলি জাগিয়ে তোলে, ফলে মস্তিষ্কে মিষ্টি খাওয়ার সঙ্কেত পৌঁছায়। গবেষক মেগান আজাদ গবেষনায় পেয়েছেন, এই পদার্থগুলি শরীরের কোনও ক্ষতি করছে কিনা, সেটা খতিয়ে দেখা হয়নি এতদিন। ব্যবহারকারীরা যে ধরনের শারীরিক সমস্যা নিয়ে আসছেন, তাতে অন্তত এটা পরিষ্কার যে বিষয়টাকে আর হালকাভাবে না নিয়ে গভীরভাবে বিবেচনা করার সময় এসে গেছে।

অনেক ডায়েটিশিয়ানও এটাও বলেন, মাঝেমধ্যে খাবারে বা চা-কফিতে সামান্য চিনি খেলে তত ক্ষতি হয় না যতটা লম্বা সময় ধরে কৃত্রিম সুইটনার ব্যবহার করলে হতে পারে। তবে যাঁরা দিনে অন্তত ৫-৭ কাপ চা-কফি পান করেন, তাঁরা ধীরে ধীরে চিনির পরিমাণ কমানোর চেষ্টা করুন, প্রথমদিকে অসুবিধে হলেও পরে দেখবেন চিনিহীন চা-কফিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

এতো গেল আর্টিফিশিয়াল সুইটনার নিয়ে নানা কথা। এবার আসি সুস্থ থাকতে যদি চিনিকে ছাড়তেই হয় তবে চিনির বিকল্প কি হতে পারে যা শরীরে ক্ষতির কারন হবে না? এমন প্রশ্নের উত্তর হয়তো চট করে কেউ দিতে পারবেন না। তবে উত্তর আছেই। চিনিতে যাদের সমস্যা তাদের জন্য সমাধান 'চিনিগো'।

সংশ্লিষ্ট বিষয়

চিনিগো

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0202 seconds.