• ২৪ আগস্ট ২০১৯ ১৬:৪১:২৪
  • ২৪ আগস্ট ২০১৯ ১৬:৫৮:২৪
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

ডিসির ভিডিও, চক্রান্তের ফাঁদ কি?

জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর। ছবি : সংগৃহীত


খোমেনী ইহসান


আজকে বিএনপির দূরাবস্থার মূল কারণ হলো ভিডিও। ওই সময়ের মন্ত্রী-এমপিদের অনেকে নানা জায়গায় জেনা করেছেন। যা বিশেষ মহল ভিডিও করে রাখছিল। পরে জরুরি অবস্থা জারি, তারও পর ভারতীয় আধিপত্য বিস্তারে বিএনপির এই নেতারা আর কথা বলতে পারেন নাই।

জরুরি সরকার ক্ষমতা ছেড়ে যাওয়ার সময় বিভিন্ন জনের সিক্রিটসগুলো আওয়ামী লীগ সরকারকে দিয়ে গেছিল। ফলে ওই সব ফেঁসে যাওয়া লোকগুলান আর কখনো সরকাররের সামনে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি। যখন কেউ চেষ্টা করেছে তার পরিণতি হয়েছে করুণ।

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমারের দুর্নীতি ও চরিত্রহীনতার ডকুমেন্টস আছে। তাকে জরুরি অবস্থাতেই সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। তদ্বির করে তিনি টিকে গেছিলেন। পরে প্রধান বিচারপতিও হলেন। তারপর তিনি ধরাকে সরা জ্ঞান করলেন। কিন্তু অপকীর্তির প্রমাণগুলো তাকে কাবু করে ফেলল।

জামালপুরের ডিসির পর্নোগ্রাফির ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে কয়দিন হলো। এটি তার কার্যালয়ের ভিডিও। মিডিয়া ও ফেসবুকে হৈচৈ চলছে। আপাতত ইস্যুটা মোরালি আলোচিত হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ তদন্তের কথা বলছে। দেখা যাক, আমলাতন্ত্র কিভাবে সামাল দেয়।

কিন্তু জরুরি বিষয়টি হলো, ডিসির এই ভিডিও ফাঁসের তাৎপর্য কী। ডিসির কার্যালয়ে সিসিটিভি বসিয়ে সবকিছু ভিডিও করা কোনো স্বাভাবিক ব্যাপার নয়।

আমরা জানি সরকার নাগরিকদের নজরদারি করতে বিদেশ থেকে সাইবার উইপন কিনেছে। শত শত কোটি টাকা ব্যয় করেছে। ফলে সামাজিক মাধ্যম ও কথা বলার অ্যাপসে আড়ি পেতে লোকজনকে অ্যারেস্ট ও গুম করা হয়।

কিন্তু খুব কম লোকই জানে যে, সরকারের সব লোকজনই গোয়েন্দা নজরদারিতে থাকে৷ তারা রেকর্ড হন প্রতিনিয়ত।

বিশেষ করে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধ অন্তত চারটি সেনা অভ্যুত্থান চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গেছিল এই নজরদারির কারণে। আমরা যে বিরোধী দলকে তারছিড়া রাজনীতি করতে দেখছি তার মূলে রয়েছে এই সব ফেইক অভ্যুত্থান চেষ্টার সঙ্গে সম্পৃক্ততা। কুকাম করতে গিয়ে অভ্যুত্থানকারীরা যেমন ব্যর্থ হয়, তেমনি বিরোধীরা ধরা খেয়ে মিনমিন করে চলতে বাধ্য হয়।

বাংলাদেশ এখন রাষ্ট্র হিসেবে অনেক হুমকির মুখে আছে। অনেক ক্ষেত্রে ভারত সরাসরি হস্তক্ষেপের চেষ্টা করে। গত নির্বাচনের সময় তারা শেখ হাসিনাকে নানা চাপ দেয়।

হাসিনা ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখলেও নিয়ন্ত্রণ নিজের কাছেই রেখেছেন। ফলে ভারতের ইচ্ছামতো এমপি-মন্ত্রী ও প্রশাসন সাজানো হয়নি।

প্রশাসনে গত দুই মেয়াদে ভারতপন্থী যে আধিপত্য ছিল, তার অনেকটা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসছেন হাসিনা। দলীয়করণের মধ্য দিয়ে হাসিনাপন্থী পিউর লীগের লোক বসানো হয়েছে।

ফলে বাংলাদেশে দাদাগিরি নিয়ে ভারতের অস্থিরতা আছে। মাঝখানে সারা দেশে আগুন লাগছে, পদ্মাসেতু বিরোধী গুজব রটেছে।

হাসিনা ভারতের চাপের কাছে কিছুটা নরমও হয়েছেন। যার সুযোগে ভারত আখাউড়ার জমি চায়, ফেনী নদীর পানি চায়, সমুদ্র সীমার দখল চায়।

অক্টোবরে হাসিনার দিল্লী সফরও আছে৷ এর আগে সরকারকে কাবু করতে ইন্ডিয়া নানা চাপ দেবে হয়তো। যার মধ্যে প্রশাসন, আর্মি ও মন্ত্রিপরিষদে ভারতের কথা না শুনলে পরিণতি খারাপ টাইপের বার্তা দেওয়া হবে।

জামালপুরের ডিসি একা জেনা করেন না, আরও বহু লোকজন এসবে জড়িত, এত বড় মানুষ জড়িত যে চিন্তা করা যায় না।

এখন জামালপুরকে দিয়ে হয়তো বার্তা দেওয়া শুরু হলো যে খোদ নিজে অফিসের গোপন কক্ষের কুকর্মের রেকর্ড আছে।

তাহলে যারা রিসোর্ট, হোটেল, মোটেল, বিভিন্ন বাসায় বা বিদেশে কুকর্ম করেছেন তাদের মধ্যে কতটা আতঙ্ক তৈরি হতে পারে ভাবুন?

ব্যক্তি মানুষ যখন দেখবে গোলামি না করলে তাদের জীবন দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে, তখন তারা সুরসুর করে কথা শুনবে।

আমরা আশা করব, সরকার জামালপুরের ডিসিকে শাস্তি দেবে, তাকে পুরোপুরি সরিয়ে দেবে। পাশাপাশি গোপনে তদন্ত করে অন্য মন্ত্রি-এমপি-পুলিশ-আমলাদের চিহ্নিত করে তাদের পদচ্যুত করবে যেন এরা অপকর্ম দ্বারা ব্লাকমেইল হয়ে বিদেশীদের টার্গেট না হয়ে পড়ে।

লেখক : সাংবাদিক।

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0211 seconds.