• বিদেশ ডেস্ক
  • ২৩ আগস্ট ২০১৯ ২২:৫৬:২৫
  • ২৩ আগস্ট ২০১৯ ২২:৫৬:২৫
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

সোমালিয়াকে নিয়ে কাতার-সৌদির নতুন দ্বন্দ্ব

ছবি : সংগৃহীত

দুই বছর আগে কাতারের উপর অবরোধ আরোপ করেছিল সৌদি আরব। এরপর দেশ দুটি কূটনৈতিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। সম্প্রতি আফ্রিকান দেশ সোমালিয়াকে কেন্দ্র করে কাতারের সঙ্গে নতুন আরেকটি দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছে সৌদিরা।

কাতার সন্ত্রাসী এবং চরমপন্থী কর্মকাণ্ডে সহায়তা করে এই অভিযোগ এনেই দুই বছর আগে প্রতিবেশি ছোট এই দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে সৌদি আরব। মিশর, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতও সৌদি আরবের পথ অনুসরণ করে। তারাও কাতারের সঙ্গে অর্থনৈতিক এবং সামাজিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। 
এরপর থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাতারকে বিভিন্নভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা করে যাচ্ছে সৌদিরা।  কাতারও তা প্রতিরোধের চেষ্টা করে যাচ্ছে।

আফ্রিকার দরিদ্র দেশ সোমালিয়ায় নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর জন্য তৎপর রয়েছে সৌদি এবং কাতারিরা। সম্প্রতি কাতার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ সোমালিয়ায় একটি সমুদ্র বন্দর নির্মাণের ঘোষণা দেয়। দারিদ্রপীড়িত এই দেশটির অবকাঠামো এবং আর্থিক খাতেও সহায়তা বাড়িয়ে দিয়েছে উপসাগরীয় এই দেশটি।   

গৃহযুদ্ধ, বিদেশি হস্তক্ষেপ, দুর্ভিক্ষ, খরাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত আফ্রিকার এই দেশটির উন্নয়নের জন্য আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন। এছাড়া চরমপন্থী আল শাবাবের বিরুদ্ধে লড়ার জন্যও তাদের পর্যাপ্ত অর্থের প্রয়োজন রয়েছে। আর এই অবস্থার সুযোগ নিয়েই এই অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে উদগ্রীব হয়ে রয়েছে সৌদি আরব এবং কাতার।

এছাড়া সোমালিয়া তাদের স্বায়ত্তশাসিত দুটি অঞ্চল নিয়ে বেশ বিপাকেই রয়েছে। সোমালিল্যান্ড এবং জুবাল্যান্ড নামে পরিচিত ওই অঞ্চল দুটি সোমালিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চায়।  
সম্প্রতি কাতার সোমালিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারকে শক্তিশালী এবং দেশটিকে ঐক্যবদ্ধ রাখার জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হোবিয়ো শহরে একটি সমুদ্র বন্দর নির্মাণের ঘোষণা দেয়। এই সমুদ্র বন্দরটির অবস্থান হবে বাব-এল-মানদেব প্রণালীর একদম কাছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে এই প্রণালীটি ওই অঞ্চলে সমুদ্র পারাপারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।  

গত সপ্তাহে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে আশা প্রকাশ করে, এই সমুদ্র বন্দর দুই দেশের পারস্পরিক সহায়তার ক্ষেত্রে নতুন একটি দিগন্ত খুলে দেবে।  

পাশাপাশি পূর্ব আফ্রিকায় সোমালিয়ার বাণিজ্যিক সম্ভাবনাও বাড়িয়ে তুলবে। এদিকে সোমালিয়ায় কাতারের বন্দর নির্মাণের ঘোষণা শোনার পরপরই সৌদি গণমাধ্যমগুলো সোমালিয়ায় সন্ত্রাসীদের মদদ দানের অভিযোগ আনে কাতারের বিরুদ্ধে। 

চলতি বছরে জুন মাসের শুরুতে সোমালিয়া টুডেতে একটি খবর প্রকাশিত হয়। এতে দাবি করা হয়, সোমালি সরকার কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার একটি সৌদি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল। ওই খবরে বলা হয়, কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য সোমালিয়াকে ৮০ মিলিয়ন ডলার দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল সৌদি আরব।   

সোমালিয়া টুডের খবর অনুযায়ী, এছাড়া কাতারের উপর সৌদি নেতৃত্বাধীন অবরোধের ব্যাপারে সোমালি সরকার যে নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা পুনর্বিবেচনার জন্যও চাপ দিয়েছে সৌদিরা।  

কাতার সোমালিয়ায় সমুদ্র বন্দর নির্মাণ করতে যাচ্ছে এই ঘোষণা শোনার পরে সৌদি আরব ক্ষুব্ধ হয়ে সোমালিয়ার স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সোমালিয়াল্যান্ডের পাসপোর্টকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়ে বসে। গত ঈদুল আজহার আগে সোমালিয়াল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট মুসে বিহি সৌদি সফর করেন।  তিনি সে সময় প্রথম সৌদিদের কাছে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনাও পান।  

এছাড়া সোমালিয়াল্যান্ডের হজযাত্রীরাও সোমালিয়ার পাসপোর্টের পরিবর্তে নিজেদের পাসপোর্ট দিয়েই চলতি বছর সৌদি আরবে হজ করতে যান। 

সৌদিদের এই পদক্ষেপ সোমালিয়ার ভঙ্গুর স্থিতিশীলতাকে আরো খারাপ অবস্থায় নিয়ে যাবে। এছাড়া সোমালিয়ার গবাদি পশুর বড় আমদানিকারকও সৌদি আরব। দেশটি ভবিষ্যতে সোমালিয়াল্যান্ডকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারে এই আশংকায়ই করছে সোমালিয়ার সরকার।

বাংলা/এফকে

সংশ্লিষ্ট বিষয়

সোমালিয়া কাতার সৌদি আরব

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0237 seconds.