• ২০ আগস্ট ২০১৯ ১৬:০৬:৪৫
  • ২০ আগস্ট ২০১৯ ১৬:০৬:৪৫
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

বঙ্গবন্ধুর স্বরণে

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। ছবি : সংগৃহীত


নাহিন শিল্পী :


ফিরে এসো পিতা দুর্যোগের এই ক্ষণে
রাস্তার ধারে বসে কাঁদে টোকাই শিশু
শূন্য থালায় সকরুণ মাতৃমুখ,
সন্তানের জামা কিনে না দিতে পারা পিতার আত্মহত্যা
দরপতনে বিলীন বাংলার কৃষক
বুকের অগ্নি ছড়িয়ে দেয় রক্ত ঝরা ফসলে। 

চাকরী হারা বাবার
ক্ষুধার্ত শিশুর কান্নার বিনিদ্র রাতে
দুধ চুরির দায় স্বেচ্ছায় কাঁধে তুলে নিতে হয় যে দেশে
তুমি তো সে বাংলাদেশ চাওনি পিতা।

ধর্ষিতা তনুর নির্মম খুনে রঞ্জিত হয় পবিত্র সংরক্ষিত এলাকা,
সাগর-রুনীদের গৃহকোণে বয়ে যায় রক্তের বন্যা
নিস্পাপ মেঘেরা নিষ্ফল বিচারের আশে ভেসে চলে
চক্রান্তের ভাগ্যাকাশে,
হিংস্রতার রাজত্বে কামুক পুরুষের লেলিহান অগ্নিতে
তিলে তিলে লাশ হয়ে যাওয়া নুসরাতরা প্রতিদিন
খবরের কাগজের শিরোনাম হয়।
যে নারী প্রকাশ্যে স্বামীর খুনের প্রত্যক্ষ সাক্ষী হয়
ক্ষমতার দৈববাণী তাকেই দাঁড় করায় অপরাধের কাঠ গড়ায়।

যে ছেলেকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে দিনের আলোয় খুন করে সন্ত্রাসী-খুনীরা
যার খুনের পৈশাচিক দৃশ্য তোলপাড় করে মিডিয়া
খুনীদের চকচক্ করা লাল অগ্নির মতো 
হায়না-মুখ দেখে দেশবাসী, 
তাদেরও কেউ কেউ ছাড়া পেয়ে যায় কোন অলৌকিকতার বলে !!

পিতা, এই বাংলাদেশ তোমার হতে পারে না।
সিন্ডিকেটের লালসার শিকার চামড়া শিল্প
অসহায়-দুখীর দু'মুটো অন্নের দাম কবর দিতে হয় বুকে পাথর চেপে।

সুদ-ঘুষ,কালোবাজার,সিন্ডিকেট,ব্যাংক লুট, 
সাতাশ হাজার কোটি টাকার শেয়ার লুট, অপহরণ, ধর্ষণ(শিশু থেকে বৃদ্ধ),
নারী নির্যাতন,যৌন হয়রানি, যখন-তখন,যত্র-তত্র খুন,গুম,
ভোগ-দখল,জুলুম-নির্যাতন, অত্যাচার-অবিচার
স্বাধীনতার নামে স্বেচ্চাচার ,,,,,,,,,,,,

এই দেশ কখনো তোমার হতে পারে না পিতা !
অন্যায় আর অপরাধের লাগামহীন ঘোড়াটাকে
একা তোমার মেয়ে কী করে আটকাবে!! 
তুমি না শোষিতের নেতা,অসহায়ের বন্ধু
তবে কেন নিশ্চুপ হয়ে আছ আজ
কোথায় তোমার সেই বজ্রকণ্ঠ,,,,,,
ফিরে এসো শুধু আর একবার।

ফিরে এসো পিতা,,,,,,,
আগামী প্রজন্ম নির্ভেজাল একটা দেশ চায়
লাল-সবুজে প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নিতে চায়
অসহায় মুখগুলো তোমার দেখানো স্বপ্নে পথ চলতে চায়,কিন্তু,,,,,,,
কিছু হায়না তোমার পবিত্র কোট গায়ে পড়ে
সেই স্বপ্নের পথ আগলে দাঁড়িয়েছে।

তুমি এসো,তোমার সেই ন্যায়ের তর্জনী উঁচিয়ে 
সমস্ত খেলা ভেঙে দিয়ে যাও
এসো পিতা, তোমার হাত ধরেই আমরা গড়তে চাই সাম্যের পৃথিবী অজস্রবার।
তোমার জন্ম-মৃত্যু দিনটাকে অবলম্বন করে টেবিল চাপড়িয়ে কথা বলে,
দিনের আলোয় দু'ফোটা অশ্রু বিসর্জন দিয়ে যে আমরা 
ক্ষমতার আশ্রয়ে লালিত হই, সুবিধা কুড়িয়ে নেই
সেই আমরাই রাতের আঁধারে খুঁজি অন্যপথ,
তোমার স্বপ্নের উল্টো পিঠে নেই অনঢ় অবস্থান।

তোমার রক্তে সিক্ত মৃত্তিকায়
লক্ষ বেকারকে পুঁজি করে
স্থাপন করা হয় নয়ন বন্ড তৈরীর কারখানা।

সস্তায় বিক্রি হয় বেকারপ্রাণ, কলমের বদলে এদের হাতে তোলে দেয়া হয় অস্ত্র, 
দক্ষ হাতে স্টেয়ারিংয়ের বদলে তুলে দিচ্ছে মাদক।

আইনি আস্থা হারিয়ে জনগণ হচ্ছে বিক্ষুব্ধ
নির্বিচারে ঝরছে নিরীহ প্রাণ,
যৌবনোদীপ্ত তরুণের হাতে ঝুলছে
শিশুর ছিন্ন মস্তকের লাশ।

তোমার নাম ভাঙিয়ে চলছে কোটিপতি হওয়ার পসরা
প্রতিবাদীর, ন্যায়ের কণ্ঠ চেপে ধরে দেয়া হচ্ছে রিমান্ড
রাজাকার, মাদক আর ক্রশফায়ার 
এখন সস্তা জীবনের ত্রাস।

পিতা, এমনি দেশ কখনো তোমার হতে পারে না!!
তুমি ফিরে এসো বজ্র হয়ে, লক্ষ প্রাণের আকুতি ভরা রোদনে সিক্ত হয়ে।
এসো তুমি পল্লব কাননে, অগ্নিঝরা হাসির বারুদের
কলকল্ ধ্বনিতে আবার প্রকম্পিত হোক ধরনী,

আষাঢ়-শ্রাবণে
প্লাবিত হয়ে ফিরুক উর্বরতা, তোমার ন্বপ্নের বীজ নবজাগরণে হোক বুনন, 
বিশুদ্ধ মৃত্তিকায়, তুমি অবারিত মননে বয়ে চলো দুর্নির্বার।
যারা বলে তুমি নেই তারা অভিশপ্ত
হৃদয়ের ফাগুনে তুমি নিত্য জাগরিত। 

তোমার প্রতিটি রক্ত কণার উর্বরতায় প্রতিনিয়ত বেড়ে ওঠে বৃক্ষরা
আমরা সবুজের নির্যাসে বাঁচি নব উদ্যমে,
হৃদপিন্ডের গহীনে স্ফুলিঙ্গ জ্বলছে 
শুধু পূর্ণতায় পরিপূর্ণ তোমাকে আজ বড় প্রয়োজন।

কান্ডারি হয়ে এসো পিতা, ফিরে এসো তুমি
শেষবার আর একবার 
দেখে যাও পদ্মা, মেঘনার জলে 
কতশত ফেনায়িত শুভ্র সলিল রেশ,
তোমার নির্ভরতায় আমরাই গড়বো 
নতুন করে, তোমার কাঙ্খিত স্বপ্নের 
সোনার বাংলাদেশ।

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0948 seconds.