• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১৪ আগস্ট ২০১৯ ২২:৫৩:৩৬
  • ১৪ আগস্ট ২০১৯ ২২:৫৩:৩৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

রাস্তার ইট তুলে ফেললেন আওয়ামী লীগ নেতা

ছবি : সংগৃহীত

বান্দরবান সদর উপজেলার কুহালং ইউনিয়নের লেমুঝিড়ি এলাকায় একটি সরকারি রাস্তার ইট তুলে নিয়েছেন সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা জামাল উদ্দীন চৌধুরী। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সদর থানায় একটি মামলা হয়েছে।

ঠিকাদার সূত্রে জানা যায়, বান্দরবান সদর উপজেলার কুহালং ইউনিয়নের লেমুঝিড়ি এলাকায় পার্বত্য জেলা পরিষদের অর্থায়নে ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে পাহাড়ের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী খেয়াং সম্প্রদায়ের ছাত্রদের হোস্টেলে যাওয়ার জন্য ২০১৮ সালে ৪০০ মিটার ইটের রাস্তা নির্মাণ করা হয়।

নির্মাণ কাজের একবছর পূর্ণ না হওয়ায় ঠিকাদার এখনো সিকিউরিটি বিল তুলতে পারেননি। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতা জামাল উদ্দিন চৌধুরী নিজের প্রভাব খাটিয়ে রাস্তাটির সবকটি ইট তুলে ফেলেছেন।

কাজের জামানতের টাকা তোলার জন্য বুধবার (১৪ আগস্ট) ঠিকাদার রাস্তার ছবি তুলতে গিয়ে দেখেন, রাস্তা থেকে কয়েকজন শ্রমিক ইটগুলো তুলে ফেলছেন। শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানেন, জামাল উদ্দিন চৌধুরী রাস্তার ইটগুলো তুলে নিতে শ্রমিকদের কাজে লাগিয়েছেন।

তাৎক্ষণিক বিষয়টি পার্বত্য জেলা পরিষদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরে ইটগুলো তুলে নেয়ার প্রমাণ পাওয়ায় জামাল উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

ঠিকাদার আব্দুল মোমেন বলেন, ‘একবছর আগে রাস্তাটি নির্মাণ করেছি। এখনো কাজের জামানতের টাকাও উত্তোলন করিনি। জামানতের জন্য বুধবার রাস্তার ছবি তুলতে গিয়ে দেখি রাস্তার ইটগুলো তুলে নেয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘জেলা পরিষদকে জানিয়েছি, এ বিষয়ে এখন তারা ব্যবস্থা নেবে। কারণ আমরা রাস্তা নির্মাণ করেছি, পরিষদকে কাজও বুঝিয়ে দিয়েছি।’

এদিকে, ইট তোলে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ নেতা জামাল উদ্দীন চৌধুরী বলেন, ‘আশপাশের জমিগুলো থেকে রাস্তাটি উচুঁ হওয়ায় পাশ্ববর্তী মানুষের জমিতে পানি ঢুকে পড়ছে। সমস্যাটি সমাধানের জন্য আমি রাস্তার ইটগুলো উত্তোলন করতে বলেছি, যাতে রাস্তাটি নিচু করে আবার ইটগুলো বিছিয়ে দেয়া যায়।’

তিনি বলেন, ‘রাস্তাটি নির্মাণের সময় পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য ম্রাসা খেয়াং ও ঠিকাদারকে কয়েক বার বলেছি। তারা কেউই আমার কথা শুনেনি। তাই বাধ্য হয়ে নিজেই রাস্তাটি সংস্কারের জন্য ইটগুলো তুলেছি। মাটি কেটে নিচু করে আবার ইট বিছিয়ে দেয়া হবে।’

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0201 seconds.