• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১১ আগস্ট ২০১৯ ১১:০৩:১৩
  • ১১ আগস্ট ২০১৯ ১১:০৩:১৩
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

ফরিদপুরে আ.লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, গুলিতে নিহত ২

ছবি : সংগৃহীত

ফরিদপুরের নগরকান্দায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এসময় গুলিতে দুইজন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন অন্তত ১৪ জন। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের কাইচাইল মধ্যপাড়া দারুল উলুম মাদ্রাসার কাছে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- রওশন আলী মিয়া (৫২) ও তুহিন মিয়া (২৫)।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন ঠান্ডুর সঙ্গে তার চাচাতো ভাই যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হানিফ মিয়া হৃদয়ের বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে ওই দুই পক্ষের মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ হয়। এর জের ধরে শনিবার এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

গুলিতে আহতদের প্রথমে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক সাতজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসার পর জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতরা দুইজনই ইউপি চেয়ারম্যানের সমর্থক।

আহত অবস্থায় রায়হান উদ্দিন মিয়া (৬৫), আনিস মীর (২০), গোলাম রসুল বিপ্লব (৩০), গোলাম মওলা (৩০), আবুল কালামকে (৩৫) ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপরদিকে, আনিস মিয়া (২৪), ফারুক মাতুব্বর (৪০), চুন্নু মিয়া (৪৮), সুমন মিয়া (২৮) ও বাবলু মিয়াকে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন বলেন, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা হানিফ মিয়া ও তার ভাই হাসান মিয়া একটি মাইক্রোবাসে করে এলাকায় আসেন। এ সময় তিনি তার সমর্থকদের নিয়ে ওই মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে কোরবানির আয়োজন নিয়ে পরামর্শ করছিলেন। এ অবস্থায় গাড়ির মধ্যে থেকে তার সমর্থকদের ওপর গুলি করে পালিয়ে যান হানিফ মিয়া। এ ঘটনায় তার দুই সমর্থক নিহত এবং আটজন আহত হন।

তিনি আরো বলেন, ‘হানিফ মিয়া নিজে শর্টগান থেকে এ গুলি চালিয়েছেন।’

কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা হানিফ মিয়ার ভাই জেলা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং উপজেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক হাসান মিয়া বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বিরোধের কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকাছাড়া। তিনি তার ভাইসহ পাঁচজন একটি প্রাইভেটকার নিয়ে এলাকায় আসেন কোরবানি দিতে। মাদ্রাসা এলাকায় এলে চেয়ারম্যানের চাচা রওশন, রুস্তম, রায়হান, মাওলা ও বিপ্লবসহ ১০/১২ জন লোক তাদের বাধা দেয়। তারা গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং তাদের ওপর কাঠ, লাঠি নিয়ে হামলা করে। তারাও কাঠ লাঠি কেড়ে নিয়ে পাল্টা হামলা করে। এক সময় গুলির ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

সংশ্লিষ্ট বিষয়

ফরিদপুর আওয়ামী লীগ নিহত

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0184 seconds.