• ১১ আগস্ট ২০১৯ ০২:৩৭:০৫
  • ১২ আগস্ট ২০১৯ ০১:৪৩:২৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

কলকাতায় পড়তে আসা এক কাশ্মীরি ছাত্রের বার্তা...

ছবি : নিউ ইয়র্ক টাইমস

আর্টিকেল ৩৭০ রদ - এক ঐতিহাসিক বিশ্বাসঘাতকতা। আর্টিকেল ৩৭০ রদের খবরটি কাশ্মীরিদের কাছে তো বটেই, এছাড়াও যে সমস্ত মানুষ ভারতীয় সংবিধানের উপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখেন তাদের প্রত্যেকের উপর এক চরমতম আঘাত। ধারা বাতিলের আগে থেকেই সমগ্র কাশ্মীর উপত্যকা উত্তপ্ত, চারদিকে নানান গুজব ছড়ানোর পাশাপাশি ৩৭০ বাতিলের কথাও হাওয়ায় ভাসছিল।

বাতিলকার্য শুরু হওয়ার আগেই নিউ দিল্লি থেকে সমস্ত টুরিস্ট, ছাত্রছাত্রী, শ্রমিকদের ৪৮ ঘন্টার মধ্যে কাশ্মীর উপত্যকা খালি করে নিজের জায়গায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। গভর্ণর পরিচালিত রাজ্য প্রশাসন অকাশ্মীরিদের বের করার জন্য তাদের পরিবহনের সুবিধার্থে বিজ্ঞপ্তি পর্যন্ত জারি করে। একই সাথে তাদের ফেরা নিরাপদ এবং নিশ্চিত করতে প্রধান চেক পয়েন্টগুলিতে আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়। আগাম কোনো বার্তা ছাড়া হঠাৎ করেই কেন্দ্র থেকে অতিরিক্ত ৭৫০০০ সেনা পাঠিয়ে উপত্যকার প্যারা মিলিটারি ফোর্স এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দেওয়া হয়। যা ছিল ভারত রাষ্ট্রের সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও ঘৃণ্যতম পদক্ষেপ। এই হঠাৎ সৈন্য সংখ্যা বৃদ্ধি গোটা কাশ্মীর উপত্যকায় এক ভয়ের বাতাবরণ তৈরি করে।

দীর্ঘমেয়াদী কারফিউ জারি হতে পারে এমন আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দারা অসময়ের জন্য প্রস্তুতি হিসেবে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র মজুত করতে শুরু করে। রাজ্যপাল তার ক্ষমতাবলে জনগণকে এই বলে আশ্বস্ত করেছিলেন যে সেরকম নজিরবিহীন কিছুই ঘটবে না। এমনকী স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিনিধিরাও ছিল এই গোটা বিষয়টি সম্পর্কে অন্ধকারে , তাদের কাছেও সেরকম বিশেষ কিছু খবর ছিলনা। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে কাশ্মীর ভাগ সম্পর্কিত গুজব নিয়ে নরমগরম আলোচনা শুরু হয়ে যায়। তবে গভর্ণর রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, ৩৭০ ধারা বাতিলের।

কোনো রকম পরিকল্পনাই কেন্দ্রের নেই, আর সাথে কাশ্মীর ভাগের পরিকল্পনাও না। সামরিক শক্তি বাড়ানোর সাথে সাথে কাশ্মীরের মূলধারার রাজনৈতিক নেতাদের গৃহবন্দী করে রাখা হয়। এমনকি কারফিউ জারি করে ও যোগাযোগ ব্যহত করে দৈনন্দিন গতিবিধি পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়। কাশ্মীরের দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি এবং উমর আবদুল্লা আটক হন। কাশ্মীরকে নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার যে ভয়ানক কিছু একটা ভাবছে, সম্ভবত এটাই ছিল তার স্পষ্ট ইঙ্গিত। বাতিলের দিনই রাষ্ট্রপতির নির্দেশ জনসমক্ষে আসে, সেদিনই আর্টিকেল ৩৭০ বাতিলের প্রস্তাব রাজ্যসভায় পেশ হয় এবং একইসাথে কাশ্মীরভাগের প্রস্তাবটিও আলোচিত হয়।

এই দিনগুলো কাশ্মীরিদের কাছে একইসাথে নাটকীয় আবার আতঙ্কেরও। যারা ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে বা বিদেশে আছেন তাদের জন্য তো পরিস্থিতি আরোই ভয়ংকর। যে সব কাশ্মীরি মানুষ কর্মসূত্রে কাশ্মীরের বাইরে আছেন, বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী যারা বাইরে থেকে পড়াশোনা করছে, তারা কাশ্মীরে নিজেদের এলাকায় যুদ্ধ লেগে যেতে পারে এমন আশঙ্কায় আরো বেশি চিন্তিত ও আতঙ্কিত হয়ে আছে। বাইরে থেকে আমরা কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত কিছুই জানতে পারছি না।

যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ, কোনো একটা খবরের অপেক্ষায় বসে। আর সময় যত বাড়ছে এই অপেক্ষা করতে করতে আমরা দুশ্চিন্তায় ভয়ে ভেতরে ভেতরে একদম কুঁকড়ে যাচ্ছি। আশেপাশের লোকজনও এমন পরিস্থিতিতে আমাদের দিকে কেমন যেন অস্বাভাবিক, সন্দেহজনক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকছে। কাশ্মীর থেকে বাবা মা আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধব কারোর সাথেই কোনো রকম যোগাযোগ করতে পারছি না। তারা কেমন আছে, কীভাবে আছে আদৌ ঠিক আছে কিনা সেই খবরটুকু পর্যন্ত পাচ্ছি না। এখানে আমাদের অবস্থা আরোই অসহনীয় হয়ে উঠছে।

আর্টিকেল ৩৭০ বিলোপের খবরটি যেন আমাদের কাছে এক ভয়ংকর ঝড়ের রাতের মত। শোনামাত্রই হতভম্ব হয়ে গেছিলাম। দিনের পর দিন যে সব লোকজন কাশ্মীরিদের কথা বিন্দুমাত্র ভাবেনি, কাশ্মীরি মানুষ কী চায় তা জানতে চায়নি, তাদের দাবি সম্পর্কে সম্পূর্ণ উদাসিন থেকেছে, আজ তারাই আর্টিকেল ৩৭০ বাতিলের আনন্দে আত্মহারা হয়ে কাশ্মীরে জমি কেনা বাড়ি করার আকাশকুসুম কল্পনায় ভাসছে, এমনকি জনসমক্ষে কাশ্মীরি মেয়েদের বিয়ে করার ঘোষণা থেকে শুরু করে তাদের নিয়ে নোংরা মজা কটুক্তি করতেও পিছোপা হচ্ছে না। আবার, কাশ্মীরিদের জাতিগতভাবে সম্পূর্ণ নির্মূল করে কাশ্মীরি পন্ডিতদের প্রতিশোধ নেওয়ার কথাও তারা বুক ফুলিয়ে ঘোষণা করছে যা আমাদের নিরাপত্তাহীনতা আরো বাড়িয়ে তুলছে। এই পরিস্থিতিতে সোশ্যাল মিডিয়ায়, হোয়াটসঅ্যাপের মত মেসেজিং অ্যাপে নোংরা গালাগালিতে পূর্ণ গ্রুপগুলি ক্রমাগত বিদ্বেষ ছড়িয়ে আগুনে আরো ঘি ঢালছে।

এরকম অবস্থায় আপামর কাশ্মিরী ছাত্র-ছাত্রীদের মনে এই চরম শঠতা ও বিশ্বাসঘাতকতা থেকে জন্ম নেবে ভিন্নতা ও বিচ্ছেদের বীজ। ভারত অধ্যুষিত কাশ্মিরে বদলে যাওয়া একটি পাশবিক উপনিবেশিক শক্তি আমাদের চিন্তনে, মননে ও ইতিহাসে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে।

কাশ্মীরি - কাশ্মীরের অধিবাসী নাকি সন্ত্রাসবাদী!

গত ছ'বছরের বেশিরভাগ সময়টাই আমি কাশ্মীরের বাইরে কাটিয়েছি। কাশ্মীর থেকে বাইরে আসার পর, একজন ছাত্র হিসেবে জীবনে অনেককিছু পেয়েছি। বিশেষ করে এখানকার প্রতিযোগিতার ধরণ-পরিবেশ, লোকজনের শেখার আগ্রহ আমায় মুগ্ধ করেছে। দিল্লিতে থাকাকালীন ছাত্রজীবনে স্নাতক থেকে শুরু করে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত আমিও এই প্রতিযোগিতার দৌড়ে নেমে পড়ি। একজন ছাত্র হিসেবে কাশ্মীর থেকে এখানে এসে নানান বৈচিত্রের স্বাদ পাই । এখানে শেখার ও প্রতিযোগিতার পরিবেশ একদিকে যেমন আমায় উদ্বুদ্ধ করেছিল (কারণ কাশ্মীরের মত এখানে কার্ফু বা যে কোনো ধর্মঘটে স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটি বন্ধ থাকে না) অন্যদিকে আবার একজন কাশ্মীরি হওয়ার কারণে সময়ে অসময়ে পরিচিত এমনকি অপরিচিত জনের কাছ থেকে ধেয়ে আসা একের পর এক কাশ্মীর সম্পর্কিত প্রশ্নবাণের সম্মুখীন হওয়া ছিল সত্যিই বড্ড বিরক্তিকর।

আমার মনে হয়, যারা এইসব প্রশ্ন করে থাকে তাদের মনে আগে থেকেই কাশ্মীর নিয়ে একটা বদ্ধমূল ধারণা আছে - যা ভীষণ অদ্ভুত এবং একইসাথে ভুলও। তারা মনে করে, কাশ্মীর হয়তো পাকিস্তানের মধ্যবর্তী কোনো এক স্থানে অবস্থিত এবং বিএসএফ এর সাথে সশস্ত্র বাহিনী সর্বদা পাকিস্তানী রেঞ্জারদের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করে চলেছে। আরোই অবাক লাগে যখন দেখি তথাকথিত শিক্ষিত লোকজনের মনেও এই একই ধারণা। তাদের কিছুটা বোঝানো গেলেও তাদের মনে কিছু না কিছু খটকা ঠিক থেকে যাবে। তাদের মনে সম্ভবত এমন বিশ্বাসও আছে যে, কাশ্মীর সন্ত্রাসবাদীদের পীঠস্থান, এখানে বুঝি দিনে রাতে সারাক্ষণ গোলাগুলির আওয়াজ পাওয়া যায় আর উপত্যকার সকল বাসিন্দাই নিশ্চয়ই পাকিস্তানপন্থী।

কষ্টকর হলেও আমি বারবার তাদের এই ভুল ভাঙানোর চেষ্টা করি। বোঝানোর চেষ্টা করি, আমার রাজ্য জম্মু কাশ্মীরের তাদের এই কল্পনার জগৎ থেকে কতটা দূরে অবস্থান। দেশের অন্যান্য স্থানের মত আমার জন্মভূমিও কতটা নিরাপদ জায়গা। তবু তাদের মনে শেকড়ের মত গেঁথে আছে, প্রত্যেক কাশ্মীরিই ভারতবিরোধী এবং তারা প্রত্যেকেই ভারত রাষ্ট্র থেকে তাদের রাজ্য বিচ্ছিন্ন করতে চায়। এই পরিস্থিতি সামলানো সত্যিই ভীষণ মুশকিলের, যাইহোক, কেউ কেউ তাও আন্তরিক প্রচেষ্টা চালাই তাদের বোঝাতে। তাদের বিশ্বাস করাতে যে কাশ্মীরের 'ভূস্বর্গ' নামটি কতটা সার্থক এবং আগের মতই এই উপত্যকা কতটা নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ।

কিন্তু লাভের লাভ কিছু হয় বলে মনে হয় না। তারা তাদের অন্ধ বিশ্বাসেই অনড় থাকে। আসলে এর জন্য সম্পূর্ণরূপে দায়ী মিডিয়া। কারণ কাশ্মীরিদের সন্ত্রাসবাদী, ভারতবিরোধী, যুদ্ধবাদী দেখানোর এতটুকু সুযোগও তারা হাতছাড়া করে না। বেশিরভাগ মানুষই কাশ্মীরে যায়নি, ফলত উপত্যকার যা খবর মিডিয়ার থেকে পাচ্ছে সেটাকেই তারা ধ্রুবসত্য বলে বিশ্বাস করছে।

কাশ্মীরের বাইরে কাশ্মীরিদের দুই ধরণের মানুষের মুখোমুখি হতে হয়। একধরণের মানুষ যাদের কাশ্মীর সমস্যা সম্পর্কে সেরকম কিছুই ধারণা নেই বা থাকলেও যৎসামান্য। ভারতজুড়ে এদের সংখ্যাই বেশি। এরা খুবই মনোরম প্রকৃতির এবং বন্ধুসুলভ হয়। ভালোভাবে কথা বলে, কাশ্মীরিদের মতামতের জন্য তাদের শ্রদ্ধা করে, আবার তাদের দিকে এমনভাবে তাকায়ও না যেন তারা কোনো ভিনগ্রহের প্রাণী বা সন্ত্রাসবাদী। এই ধরণের মানুষ কখনোই জাজমেন্টাল হয় না।

কাশ্মীর সম্পর্কে কেবল একটা জিনিসই তারা জানে, তা হল - কাশ্মীর ঘুরতে যাওয়ার পক্ষে আদর্শ ও অতি মনোরম জায়গা এবং একজন কাশ্মীরি সেখানে জন্মেছে মাত্র, সেরকম আলাদা বা বিশেষ কিছুই না। আরেক ধরণের মানুষের সাথে দেখা হয়, যারা কাশ্মীর এবং কাশ্মীর সমস্যা সম্পর্কে একেবারেই ভুল তথ্য জানে আর এরাই সবচেয়ে ভয়ংকর। এরাই কাশ্মীরিদের ভারতবিরোধী হিসেবে দেখে। যদি কেউ এদের কাশ্মীরের অন্যদিক যা সম্পর্কে তাদের বিন্দুমাত্র ধারণা নেই তা নিয়ে বলতে বা বোঝাতে যায়, সঙ্গে সঙ্গে তারা সেটিকে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অপপ্রচার, পাকিস্তানের চাল, বা তাদের মগজধোলাই বলে দাগিয়ে দেয়। এরা সংখ্যায় অল্প। কিন্তু এদের জন্যই কাশ্মীরের বাইরে কাশ্মীরিরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটায়, এমনকি নিজেদের 'কাশ্মীরি' পরিচয়টুকুও প্রাণপণে লুকোনোর চেষ্টা করে।

যেমন আমরা দেখেছি, ২০১৯ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি দুর্ভাগ্যজনক পুলওয়ামা ঘটনার পর কীভাবে সারা ভারত জুড়ে কাশ্মীরিদের টার্গেট করা হয়েছিল, কীভাবে তাদের উপর একের পর এক আক্রমণ নেমে এসছিল। দেশের অন্যান্য প্রান্তে থাকা আমার কাশ্মীরি বন্ধুরা জানায় সেখানকার সাধারণ মানুষদের সাথে সামাজিক যোগাযোগ, আলাপ চারিতা এবং সাধারণ দেওয়া-নেওয়ার ক্ষেত্রে কত বৈষম্যের শিকার হতে হয়। সাধারণত তারা একটা দূরত্ব বজায় রাখে। হয়তো এইসবই বাইরে থাকা কাশ্মীরিদের বাকি সকলের থেকে বিচ্ছিন্ন এবং একা করে দেয়। এইজন্য অন্যরা বাইরে থেকে দেখে ভেবে নেয় তারা বুঝি এমনই চাপা স্বভাবের, তেমন একটা বন্ধুসলভ বা মিশুকে নয়। কেউ কেউ আবার তাদের অসামাজিক এমনকি সমাজবিরোধী বলে চিহ্নিত করতেও পিছোপা হয় না।

এর ফলে কাশ্মীরি মানুষজন নিজেদের অবাঞ্ছিত ভাবতে শুরু করে। একজন কাশ্মীরি ও মুসলমান হয়ে কাশ্মীরের বাইরে থেকে কাশ্মীরিদের পক্ষে দাঁড়ানোর সুবিধা ও অসুবিধা দুই-ই আছে। যা সহজেই কাউকে 'সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে সক্ষম' বলে দাগিয়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। যদিও বেশিরভাগ লোকজন কাশ্মীর সম্পর্কে অজ্ঞ এবং নিজেদের কল্পনাকে আঁকড়ে ধরে আছে, তবে কিছুজন আছে যাদের কাশ্মীরের ইতিহাস ও রাজনীতি সম্পর্কে নির্দিষ্ট অবস্থান, তারা মনে করে যেসব কাশ্মীরি মানুষ স্বায়ত্বশাসন বা আজাদির জন্য লড়াই করছে তারা আদতে ভারতরাষ্ট্রের প্রতি অকৃতজ্ঞ।

এদের বিরুদ্ধে একবার ভিন্নমত পোষণ করলেই এরা ক্ষিপ্ত হয়। মূল বিষয়টি হল এই যে : কাশ্মীরিদের অবস্থা ঠিক যেন শাঁখের করাতের মত। একদিকে পাকিস্তানের সামরিক নিরাপত্তাহীনতাবোধ, সেই দেশভাগের সময় থেকে দশকের পর দশক ধরে তাদের সযত্নে লালিত উচ্চাকাঙ্ক্ষা; অপরদিকে আছে কাশ্মীরে ভারত রাষ্ট্রের ঔদ্ধত্যপূর্ণ অপশাসন যা দেশের অন্যান্য রাজ্য গুলির সাথে একেবারেই মেলে না। এইরকম পরিস্থিতিতে একজন কাশ্মীরির পক্ষে সবেচেয়ে বিচক্ষণের কাজ হল, তার নিজের মত থাকা এবং অপ্রয়োজনীয় কোনোরকম তর্ক বিতর্কে জড়িয়ে না পড়া যা পরিস্থিতি আরো অস্থির করে।

(সার্বিক পরিস্থিতির কারণে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকায় এই শিক্ষার্থীর নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছা জানিয়েছে। তার লেখাটি অনুবাদ করেছেন কলকাতার শিক্ষার্থী সঞ্চিতা আলী)

সংশ্লিষ্ট বিষয়

কাশ্মীর কলকাতা

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 5.1111 seconds.