• বিদেশ ডেস্ক
  • ১০ আগস্ট ২০১৯ ২০:২৯:৫৮
  • ১০ আগস্ট ২০১৯ ২০:২৯:৫৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

কাশ্মীরের বিক্ষুদ্ধ যুবকরা যুদ্ধ প্রস্তুতি নিচ্ছে!

ছবি : নিউ ইয়র্ক টাইমস

ভারতে মোদি সরকারের আগ্রাসনে ক্ষোভে ফুসছে কাশ্মীরের জনগণ। ব্যাপক সেনা পাহারা আর কারফিউয়ের ভেতরেই বিক্ষোভ করছেন তারা। যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো স্বাভাবিক হয়নি। এমন অবস্থায় ‘অবরুদ্ধ কাশ্মীরি যুবকরা হাতে বন্দুক তুলে নেয়ার কথা বলছেন।’ কয়েক যুবকের সাথে আলাপ করে এমনটাই জানিয়েছে বিবিসির সাংবাদিক গীতা পান্ডে।

কাশ্মীরের পথে পথে এখন বিক্ষুদ্ধ জনতা। যার সাথেই দেখা হচ্ছে কথা হচ্ছে তিনিই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। স্থানীয় এক যুবকের সাথে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলছিলেন সাংবাদিক গীতা পাণ্ডে। ওই যুবক জানায়, যুদ্ধের জন্য হাতে বন্দুক তুলে নিতে সে প্রস্তুত আছে। এমনকি তার কোলের শিশু সন্তানটিকে দেখিয়ে বলেন,  ‘আমার একমাত্র ছেলে, যদিও এখনো একেবারেই শিশু কিন্তু ও যেন বড় হয়ে বন্দুক হাতে নিতে পারে তেমনভাবেই ওকে তৈরি করবো’

ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের মাধ্যমে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। সংবিধানের এই মর্যাদাই কাশ্মীরকে সেতু হিসেবে কাজ করেছে কাশ্মীরের জনগণের সাথে ভারত রাষ্ট্রের। কিন্তু এই সংবিধানের এই ধারা বাতিলের মাধ্যমে সেই সেতু এখন ভেঙে গেছে বলে মন্তব্য করছে কাশ্মীরের নাগরিকরা।

পুরো কাশ্মীর এখন থমথমে এক অবরুদ্ধ জনপদ। সেনা টহল, কারফিউ এবং থেমে থেমে বিক্ষোভে এ অঞ্চলে এখন উতপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। চলছে কারফিউ। এর মাঝেই কাশ্মীরের শ্রীনগরে গিয়ে পৌঁছেছেন বিবিসির কয়েক সাংবাদিক। বর্তমান পরিস্থিতি দেখে বিবিসির সাংবাদিকরা বলছেন ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয় মানুষ।

গাতী পান্ডের বর্ণনায়, ‘জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের রাজধানী শ্রীনগরের পথে পথে এখন চলছে সেনা টহল ও তল্লাশি, দোকানপাট বন্ধ, জনজীবন স্তব্ধ’ ভারতীয় সেনাদের বিরুদ্ধে হাতে অস্ত্র তুলে নেয়ার কথা প্রকাশ্যেই বলছে কাশ্মীরের যুবকরা। গাতী পান্ডে যখন আলাপ করছিলেন স্থানীয় কয়েক যুবকের সাথে, তখন তারা তাকে তাদের ক্ষোভের কথা জানাচ্ছিলেন। কেউ কেউ বলছিলেন হাতে অস্ত্র তুলে নেয়ার কথা। এ সময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকে পুলিশ সদস্যের উপস্থিতিও তারা পাত্তা দেয়নি।

পরিস্থিতি উতপ্ত হওয়ার পরই কাশ্মীরে ফিরে আসেন যুবক রিজওয়ান মালিক। পরিবারের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়াতেই উদ্বিগ্ন রিজওয়ান তাদের খোঁজ নিতে ফিরে আসেন নিজের এলাকাতে পরিবারের কাছে।

রিজওয়ান বলেন, ‘ভারত যদি আমাদের এটা বিশ্বাস করাতে চায় যে এটা একটা গণতান্ত্রিক দেশ, তাহলে তারা আমাদের বোকা ভাবছে। কাশ্মীরের সাথে বাকি ভারতের সম্পর্ক সব সময়ই অস্বস্তিকর ছিল, কিন্তু এই বিশেষ মর্যাদাই ছিল এ দুয়ের মধ্যে সেতুর মতো। সেটা বাতিল করে আমাদের আত্মপরিচয় কেড়ে নেয়া হয়েছে, কোন কাশ্মীরির কাছেই এটা গ্রহণযোগ্য নয়। এই অবরোধ যখন উঠবে, আর বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নামতে পারবে তখন প্রতিটি কাশ্মীরি তাদের সাথে যোগ দেবে।’

শ্রীনগরের একটি হাইস্কুলের ছাত্রী মুসকান লতিফ বলছেন, এখনকার অবস্থাটা আসলে ঝড়ের আগেকার শান্ত অবস্থার মতো। সাগর শান্ত, কিন্তু সুনামি আঘাত হানলো বলে।’

কাশ্মীর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপত্যের ছাত্রী রুখসার রশিদ জানান, টিভিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণা শোনার পর তার হাত কাঁপছিল, আর তা মা পাশে বসে কাঁদতে শুরু করেছিলেন। আমার মা বলছিলেন এর চেয়ে মৃত্যুও ভালো।

সংশ্লিষ্ট বিষয়

কাশ্মীর

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0200 seconds.