• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০৯ আগস্ট ২০১৯ ১৯:১২:২২
  • ০৯ আগস্ট ২০১৯ ১৯:১২:২২
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

স্ত্রী-সন্তানকে স্বীকৃতি দিয়ে ১৮ বছর পর ‍মুক্তি

ছবি : সংগৃহীত

স্ত্রী-সন্তানের স্বীকৃতি দিয়ে ১৮ বছর পর ৩০ বছর কারাদণ্ড প্রাপ্ত ইসলাম মৃধা (৪৯) কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। তবে এ সময় উপস্থিত ছিলেন না স্ত্রী মালা ও তরুণ পুত্র মিলন।

প্রেম করে বিয়ে, তার পর স্ত্রীর গর্ভে সন্তান। কিন্তু পরে সেই স্ত্রী-সন্তানকে অস্বীকার করেন ইসলাম। এরপর ডিএনএ টেস্টে সন্তানের পরিচয় নিশ্চিত হয়। এ ঘটনায় মালার বাবা মামলা করেন। সেই মামলায় ২০০৫ সালের ১০ জানুয়ারি ঝিনাইদহের বিজ্ঞ অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালত তাকে যাবজ্জীবন (৩০ বছর) সাজা দেন।

২০১৫ সালের ১৭ মে তাকে ঝিনাইদহ থেকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। কিন্তু ভালো কাজের জন্য অর্জিত রেয়াতসহ ১৮ বছর কারাভোগ করেছেন তিনি। এরমধ্যে মূল সাজা খেটেছেন ১৪ বছর ৬ মাস ২৯দিন। তার অবশিষ্ট সাজা ১০ বছর ১১ মাস ১৪দিন। তার আগেই তিনি মুক্তি পেলেন। ইসলাম ঝিনাইদহ সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের আজিজ মৃধার ছেলে। তার স্ত্রী মালার বাড়িও একই গ্রামে।

শুক্রবার কারাগারে ইসলামকে গ্রহণ করতে আসেন বাবা আবদুল আজিজ মৃধা, বোন মমতাজ বেগমসহ পরিবারের চার সদস্য। তবে স্ত্রী মালা ও ছেলে মিলন উপস্থিত ছিলেন না। এসময় উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র জেল সুপার কেএম আবু নওশাদ ও জেলার আবু তালেব।

মুক্তির পর ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন বন্দি ছিলাম। মুক্তি পেয়ে খুবই খুশি। স্ত্রী-সন্তান পরিবারের সঙ্গে বাকী দিনগুলো কাটাতে চাই। তার বাবা আবদুল আজিজ মৃধা বলেন, আদালতের নির্দেশে আমার ছেলেকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। আমরা খুবই খুশি। আগামী দিনে সবাইকে নিয়ে চলতে চাই। পিছনে ফিরে দেখতে চাই না।’

ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র জেল সুপার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু নওশাদ বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে জেলা প্রশাসকের অনুমতিক্রমে ৩১ জুলাই কেন্দ্রীয় কারাগারের ভারপ্রাপ্ত সুপার, দুই পক্ষের আত্মীয়-স্বজন ও তাদের ছেলে মিলনের উপস্থিতিতে ইসলাম ও মালার বিয়ে দেয়া হয়। ১ আগস্ট বিয়ের কাবিন উচ্চ আদালতে জমা দেয়া হয়। এরপর আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেছেন। আদালতের কপি পাওয়ার পর আজ মুক্তি দেয়া হলো।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহের লক্ষ্মীপুর গ্রামের মেয়ে মালার সঙ্গে একই গ্রামের আজিজ মৃধার ছেলে ইসলামের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। স্থানীয় মৌলভীর মাধ্যমে ২০০০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি তারা বিয়ে করেন। পরবর্তীতে মালা গর্ভবতী হন। ২০০১ সালের ২১ জানুয়ারির মালার গর্ভে জন্ম নেন ছেলে মিলন। যদিও মালার সঙ্গে বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন ইসলাম। ছেলের পিতৃত্বের পরিচয়ও দিতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর মালার বাবা ইসলামের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেন।

এই মামলায় ঝিনাইদহের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেন। 

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0216 seconds.