• ০৯ আগস্ট ২০১৯ ১৪:৩৭:২৪
  • ০৯ আগস্ট ২০১৯ ১৪:৪০:৫৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

বনানী থেকে শাহবাগ আড়াই ঘণ্টার গল্প

ছবি : সংগৃহীত


সৈয়দ নাজমুস সাকিব :


বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় বনানী থেকে শাহবাগের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছি। বনানী থেকে শাহবাগ পৌঁছাতে মাত্র(!) আড়াই ঘণ্টা লাগলো। রাস্তায় শত শত মানুষ দাঁড়িয়ে আছে, পর্যাপ্ত বাস নাই। যেগুলো আসছে, নিঃশ্বাস নেয়ার মতো জায়গা নেই, সেখানে বাসে ওঠা তো পরের ব্যাপার। সুযোগ বুঝে উবার আর পাঠাও এর ভাড়া দ্বিগুণ থেকে চারগুণ হয়ে যাচ্ছে!

এই পরিস্থিতিতে ছেলেরা তো তাও কোনোভাবে মারামারি করে উঠার চেষ্টা করছে, কিন্তু নারীদের অবস্থা ভয়াবহ! তারা ভীড় ঠেলে উঠতে গিয়ে উঠতে পারছে না। নারী যাত্রীদের বাসে তুলতে চাচ্ছে না বাসের হেল্পাররা। কেউ উঠতে চাইলে কন্ডাক্টর আগেই ঝাড়ি মেরে বলছে- ‘বললাম তো উইঠেন না, বাসে লেডিস সিট নাই। আপনাগো তো শরীরে একটু "টাচ" লাগলেই ছ্যাঁত কইরা উঠেন! পরের গাড়িতে আসেন।’

এর মাঝে ঝুম বৃষ্টি, থামাথামির লক্ষণ নাই। যতক্ষণে থামল, ততক্ষণে আমাদের এই ‘লস এঞ্জেলস’ পানিতে অর্ধেক তলিয়ে গেছে। কোনো মানুষ আর ভেজার বাকি নাই। একেকজনের শরীরের ঘাম আর পানি মিলেমিশে একাকার। কার শরীর পানিতে ভেজা আর কার শরীর ঘামে ভেজা সেটা দেখার ফুরসত নাই মানুষের। এখানে সবাই সব মেনে নিচ্ছে। আমরা খুব সহজেই মেনে নেই, মানিয়ে নেই।

এতসবকিছুর মাঝে বাসে মায়ের কোলে এক শিশু তারস্বরে চিৎকার করে কাঁদছে, কোনোভাবেই তাকে থামানো যাচ্ছে না। কথা বলতে না পারা এই ছোট্ট বাচ্চাকে এক পর্যায়ে তার মা শান্ত করতে না পেরে বলেই বসলেন- ‘কি হইসে তোর? কথা বলিস না কেন? বল ক্যান চিৎকার করতেসিস?’ পরিস্থিতির যন্ত্রণায় অসহায় মা হয়তো ভুলেই গেছেন, এতটুকু শিশু কথা বলতে পারে না। তার সন্তানের এখনও কথা বলার সময় আসেনি।

এরকম অবস্থায় আমার পাশে দাঁড়ানো এক লোক আস্তে করে গলার স্বর নামিয়ে মিহি গলায় আমাকে বললেন- ‘এই মহিলা যেহেতু কান্না থামাইতে পারতেছে না, আমার মনে হয় এই মহিলা এই বাচ্চার আসল মা না। মনে হয় ছেলেধরা! চলেন, সবাই মিলা গণপিটুনি দেই’ বলেই পান খাওয়া দাঁত দেখিয়ে বিরাট এক হাসি দিলেন। তার দিকে তাকিয়ে বুঝলাম তিনি মস্করা করছেন।

কিছু বলতে পারলাম না, পান খাওয়া কুৎসিত দাঁতের মাঝ দিয়ে তার কুৎসিত মনটা চোখ বড়বড় করে দেখার চেষ্টা করলাম! এমন একটা দেশে বাস করি, মানুষের অসহায়ত্ব নিয়ে "ফান" (মজা) করাটা সবাই নিজের মৌলিক অধিকার বলে মনে করে! এতোসব যন্ত্রণা নিয়ে আমরা চুপ করে থাকি। আমরা সব মেনে নিচ্ছি মুখ বুঝে। সেই সাথে চোখ বড় বড় করে দেখছি আমাদের লস অ্যাঞ্জেলসের উন্নয়ন আর সবাই মিলে এভাবেই ভোগ করছি সেই উন্নয়নের সুখ-শান্তি।

লেখক : চলচ্চিত্র বিষয়ক লেখক।

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0194 seconds.