• ০৮ আগস্ট ২০১৯ ১৮:৫৭:১৭
  • ০৮ আগস্ট ২০১৯ ১৮:৫৭:১৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

কোরবানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন

ছবি : সংগৃহীত

শাহাদাত হোসাইন স্বাধীন :

ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে প্রতিবছর আসে বিশ্ব মুসলিম জাহানের বড় উৎসব ঈদুল আযহা। মহান আল্লাহর সন্তুষ্ঠির জন্য ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পশু কোরবানি দেয় এই ঈদে। কোরবানির পশুর মাংস দরিদ্র প্রতিবেশী, আত্মীয় স্বজনের মধ্যে ভাগ করে নেয়।

আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে (কোরবানির পশুর) রক্ত-মাংস কিছুই পৌছে না, পৌঁছে কেবল তোমাদের সদিচ্ছা-তাকওয়া।’-(সূরা হাজ্জ : ৩৭)

সে তাকওয়া অর্জন ও ত্যাগের কোরবানিতে আমাদের অসচেতনতা ও গাফিলতির কারণে আমাদের পরিবেশ দূষণের মুখে পড়ে। কোরবানির হাট থেকে গরু কিনেই অনেকে রাস্তা ধারে গরু বাঁধে। গরুর মলমূত্রে রাস্তা অপরিষ্কার হয় ও দূর্গন্ধ ছড়ায়। আমাদের সবার এই বিষয়ে সচেতন থাকা উচিত। নেকি হাসিল করতে গিয়ে আমরা পরিবেশ ও মানুষের ক্ষতি যাতে না করি। কোরবানির দিন কোরবানির আগে ও পরে বেশ কিছু পরিষ্কারের বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।

আমরা কিছু পদক্ষেপ আগে থেকেই নিয়ে রাখতে পারি সেক্ষেত্রে পরিস্কার বা পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হবে। কোরবানির আগেই বাড়ির পাশে কোন মাঠে কিংবা পরিত্যক্ত জায়গায় একটা গর্ত তৈরি করে রাখতে হবে। মাংস কাটার সময় উচ্ছিষ্টগুলো যেখানে সেখানে না ফেলে এক জায়গায় রেখে কাজ শেষে সেগুলো গর্তে পুঁতে ফেলতে হবে।

বিশেষ করে পশুর ভুঁড়ি পরিস্কারের পর সেই আবর্জনা খোলা অবস্থায় না রেখে সেই গর্তে পুতে ফেলতে হবে। কোরবানির সব কার্যক্রমের শেষে রক্তে মাখা রাস্তাঘাট ধুয়ে পরিষ্কার করে ফেলতে হবে। জীবাণু যেন ছড়াতে না পারে সেজন্য পরিষ্কারের সময় জীবাণুনাশক তরল যেমন স্যাভলন বা ডেটল মেশানো সাবান-পানি দিয়ে ধুঁয়ে মুছে নিতে হবে।

পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি নিজের ও পরিবারের সুরক্ষাও জরুরি। মাংস আনার আগে ডাইনিং, রান্নাঘর গরম পানি ও সোডা দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে রাখতে হবে। যে পাত্রে করে মাংস আনা হবে, সেগুলোও আগে থেকেই ধুয়ে পরিষ্কার করে রাখতে হবে।

ঘরে মাংস আনার পর মাংস টুকরা করে কাটাকাটির পর সংরক্ষণ করে রেখে অবশ্যই ঘরটাকে গরম পানির সঙ্গে মিশিয়ে টাইলস ক্লিনার, স্যাভলন, ফিনাইল দিয়ে মেঝেটা মুছে ফেলতে হবে। এরপর গরম পানিতে ঘন করে লেবুর রস গুলে তা দিয়ে মেঝে মুছে ফেললে স্থানটির তেলতেলে ভাব কমে যায়। অনেকে এই ধরনের জীবাণুনাশকের গন্ধ সহ্য করতে পারেন না। তারা স্থানটি শুকানোর পরে যে কোনো ধরনের এয়ার ফ্রেশনার বা সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারেন।

যারা চাটাইয়ে মাংস কাটবেন মাংস কাটাকাটি করার পর চাটাইটা পুড়িয়ে ফেলতে হবে, তা না হলে অ্যানোফিলিশ মশার উপদ্রব বেড়ে ম্যালেরিয়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ভুঁড়ি বা মাংস পরিষ্কারের সময় হাতে গ্লাভস পরলে ভালো হয়। না হলে হাত কেটে যেতে পারে। কাটা স্থানে জীবাণুর সংক্রমণও হতে পারে।

অন্যদিকে কোরবানি আগে কাটাছেঁড়া সংক্রান্ত জরুরী প্রাথমিক চিকিৎসার সামগ্রী সাথে রাখা উচিত। 
ঈদুল আযহা যেহেতু আমাদের কাছে ত্যাগের বাণী নিয়ে আসে তাই আমরা সবাই যে যার সাধ্যমত কোরবানির মাংস যেন গরীব-দুঃখীর মাঝে বিলিয়ে দেই।

কোরবানির ঈদ আমাদের জন্য যতটা আনন্দের, উৎসবের আমেজের সাথে সাথে যদি ততটা সাবধানতা ও পরিচ্ছন্নতা মেনে চলা যায়, তাহলেই ঈদ পরবর্তী সময়টাও হয়ে থাকবে চিন্তামুক্ত ও আনন্দময়।

লেখক, শিক্ষার্থী, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

 

 

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0248 seconds.