• ০৬ আগস্ট ২০১৯ ১৯:০২:৫৫
  • ০৬ আগস্ট ২০১৯ ১৯:০৮:২৩
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

যে দায় সরকারের সে দায় জনগণের ঘাড়ে কেন নিতে হবে?

ছবি : সংগৃহীত


দিলশানা পারুল :


আমার এক ভাসুরের ছোট বাচ্চা মারা গেলো ডেঙ্গুতে। ফেসবুক ভর্তি পরিচিত জনদের ডেঙ্গু রোগির আপডেটে। গত ৩১ শে জুলাই ব্রিটিশ পত্রিকা টেলিগ্রাফ বলছে ঢাকা শহরে উন্নয়নের জোয়ারের ফলে যে আন্ডার কন্সট্রাকশন ফ্লাইওভার বা অন্য যে বড় বড় স্থাপনা আছে তার ফলেই ডেঙ্গুর এই ভায়াবহ বিস্তার।

উদাহরণ হিসেবে তারা বলছে, সরকারের নতুন মেট্রো রেল প্রকল্প এর কথা (The spike in the number of cases this year has been put down to a construction boom in Dhaka, with the building sites that accompany large scale infrastructure projects, such as its new metro rail project, causing water to pool.)

অথচ আমাদের দায়িত্বশীল সরকারি ব্যক্তি বর্গরা ক্রমাগত বলে আসছিলেন আমাদের ফ্রিজের নীচে পানি জমে সেই পানিতেই এডিস মশার লার্ভা জমে অতএব দায় আমাদের, দোষ আমাদের। প্রতিদিন দুই থেকে পাঁচ  হাজার রোগি ভর্তি হচ্ছে হাসপাতালে। ১৭ কোটি লোকের দেশে লাখ খানেক লোক মরে গেলে কি বা আসে যায়। আপনার আমার আপন লোক মরলে যে মন্ত্রী, এমপি, মেয়র এদের কারো কিছু যায় আসে না তা তাদের নড়া চড়া দেখেই তো বুঝতে পারছেন। পিএচিডি পাশ করা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রাস্তায় ময়লা ফেলে সেই ময়লা পরিষ্কার এর নাটক করছে। মন্ত্রী, সাংবাদিক, নায়িকা, মডেল কেউ বাদ নাই ঝাড়ু নিয়ে ফটোসেশনে। এই সব রঙ তামাশা দেখে আপনার কি মনে হয় যে- দ্যা ডু একচুয়ালী কেয়ার এবাউট ম্যাংগো পিপল? থোরাই কেয়ার করে তারা আমার আপনার।

আপনার কি মনে হয় তারিন, অঞ্জনা এরা মন্ত্রীর সাথে ঝাড়ু নিয়ে নামছে কেন? পরের নির্বাচনে এলাকা থেকে  নমিনেশন চাইবে নয় সংরক্ষিত নারী আসনে নমিনেশন চাইবে। ওই জন্য কাজ দেখাচ্ছে। এই দেশে মানুষের জন্য কাজ করা মানে ঝাড়ু দিয়ে নাটক করা। বরিশালের ডাক্তার মনীষা আর তারিনকে একসাথে ইলেকশনে দাঁড় করিয়ে দেন। কে জিতবে? নায়িকা তারিনকে আপনারাই ভোট দিয়ে জিতাবেন। মানুষের এই দুর্দিনেও দেখেন খারাপ মানুষগুলো ঠিকই তাদের ব্যবসা করে নিচ্ছে। ১৫০ টাকার একেকটা কিট বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকায়। মানবিক সমাজ হলে বরং কি হতো? ১৫০ টাকার কিট বলতো ৫০ টাকায় বিক্রি করো। মানুষ মরছেরে ভাই। মানুষ হয়ে পাশে দাঁড়ান।

৩১ শে জুলাই ‘প্রথম আলো’ বলছে, আইসিডিডিআরবি গত বছর ২২ মে সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং দুই সিটি করপোরেশন এর কর্তাদের সাথে মিটিং করে জানিয়েছিলো চিকুনগুনিয়া আর ডেঙ্গু জেনম মিলে নতুন ধরনের ডেঙ্গুর আক্রমন হতে পারে। এবং নতুন ধরনের ডেঙ্গু সাধারন মশা মারার কীটনাশকে মরছে না। আই সি ডিডিআরবিকে সেই আমলারা বললেন নির্বাচনের মাসে এই সকল কথা বলা যাবে না। কথা যেন এই দেয়ালের বাইরে না যায়। এই যায়গায় একটু যোগ করতে চাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল যখন বাজারের প্যাকেটজাত দুধ গবেষণার ফলাফল জনগণকে জানালেন যে দুধে ডিটারজেন্ট এবং এন্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে জনসচেতনতার স্বার্থে তখন সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল মহল থেকে প্রশ্ন করা হয়েছিলো কেন সরকারের কাছে আগে না জানিয়ে প্রেস ব্রিফিং করা হলো? এবং সমস্ত আলোচনা এইটাকে কেন্দ্র করেই ঘুরতে লাগলো যেন দুধে এন্টিবায়োটিক থাকাটা সমস্যা না, সমস্যা জনগণকে জানানো। এখন আইসিডিডিআরবিতো তাদের ডেঙ্গু গবেষণার ফলাফল সবার আগে সরকারকে জানিয়েছিলো, তাহলে? সরকার গত এক বছরে কি পদক্ষেপ নিয়েছে? বরং সমস্ত তথ্য গোপন করতে বাধ্য করেছে।

বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দিবে এইটা সরকারের সব মহলের জানা। কোথাও থেকে মিনিমাম কোনো প্রস্তুতি দেখেছেন? জানুয়ারি মাসে যখন পত্রিকা রিপোর্ট করছে ডেঙ্গু রোগির সংখ্যা ৩৭, মে মাস আসতে আসতে সেটা হয়ে গেলো ১৮৪, সিমটম দেখে কি বোঝা যায় না এইটা আউট ব্রেকের দিকে যাচ্ছে? কোথাও কোনো নরা চরা ছিলো? জুন মাসে রোগির সংখ্যা ১৮০০ থেকে এক মাসের মধ্যে সেইটা ১৫০০০ পৌঁছেছে। জানুয়ারি থেকে যদি সতর্ক হওয়া হতো, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া শুরু করা হতো, আজকে ডেঙ্গ এ অবস্থায় আসতো কিনা? কিছু বললেই সব জনগণের ঘাড়ে দায়িত্ব দিয়ে দেয়া হয়। কেন? জনগণ কি ট্যাক্স পে করে না? মেয়র মন্ত্রী আমলারা কি বেতন নেন না? তাহলে দায় কার? আপনার দায়িত্ব আমি কেন ঘাড়ে নেব? কারণ আমার কাজটুকুতো আমি ঠিকই করছি। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কামাই করছি, সেই কামায়ে ট্যাক্স দিচ্ছি, আপনার বেতন নিশ্চিত করছি। তাহলে আপনার দায়িত্বটুকুও কেন আমার ঘাড়ে নিতে হবে? যদি নিতেই হয় তাহলে মেয়র, স্বাস্থ্য মন্ত্রী এই সব পদপদবীর দরকার কি?

এইটুকু একটা দেশ ভূমিকম্পের মতো সারাক্ষন ঘটনা ঘটছে। মিন্নি তার পরিবারের কাছে বর্ণনা করেছে তাকে রিমান্ডে কি ভয়াবহ অত্যাচার করা হয়েছে। তাকে নয়ন বন্ডের মতো মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়েছিলো। পত্রিকাতেই বলছে তার যে কাটপিস ভিডিও সাংবাদিকদের কাছে সরবারহ করা হয়েছিলো সেইটাও পুলিশেরই বানানো। খুলনায় ওসির নেতৃত্বে থানায় নিয়ে এক গৃহবধুকে পাঁচ পুলিশ সদস্য মিলে ধর্ষণ করেছে তারপর তার হাতে ইয়াবা ধরিয়ে দিয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। ...কোনটা নিয়ে কথা বলব বলেন তো? ডেঙ্গু? ধষর্ণ? মিন্নি? নায়িকাদের ঝাড়ু নাটক? না সিইসির বক্তৃতা করার নামে কোটি টাকা মেরে দেয়া? আমি মানুষ একজন আমার কী-বোর্ডও একটা। শুধু বলি কোন সমস্যাই বিচ্ছিন্ন ঘটনা না। সব সমস্যার গোড়া একটা। বাঁচতে চাইলে সমূলে গোড়া উৎপাটন করেন।

লেখক: এক্টিভিস্ট, গবেষণা ও বাস্তবায়ন কর্মী

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0210 seconds.