• বিদেশ ডেস্ক
  • ০৫ আগস্ট ২০১৯ ১৩:৩৯:২৫
  • ০৫ আগস্ট ২০১৯ ১৪:৩৫:৪৫
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

ভারত রাষ্ট্র কেড়ে নিলো কাশ্মীরের অধিকার

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ছবি : দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস থেকে নেয়া

সাংবিধানিকভাবে কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেয়া ৩৭০ ধারা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে ভারত। এই ধারাটির কারণে ভারতের অন্যান্য রাজ্যের চেয়ে বেশি স্বায়ত্বশাসন ভোগ করতো জম্মু ও কাশ্মীর। এই ধারা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর ভিত্তিতেই কাশ্মীর রাজ্য ভারতের অন্তর্ভূক্ত হয়েছে।

সোমবার দুপুর ১২ দিকে দেশটির উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় এই প্রস্তাব উত্থাপণ করেন অমিত শাহ। এমন খবর প্রকাশ করেছে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।  

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখকে পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার প্রস্তাব দিলেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তবে জম্মু-কাশ্মীরে আইনসভা থাকার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। কিন্তু লাদাখে কোনো আইনসভা থাকবে না। একই সাথে দেশটির সংবিধানে ৩৭০ ধারা তুলে দেয়ারও প্রস্তাব দেন তিনি।

এদিকে এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানান বিরোধীদলগুলো। এসময় বিরোধীদের তুমুল প্রতিবাদের মুখে কয়েক মিনিটের জন্য মুলতবি করা হয় অধিবেশন। পরে আবারো অধিবেশন শুরু হলে, বিরোধীদের হই হট্টগোলের মধ্যেই রাষ্ট্রপতির নির্দেশনামা পড়ে শোনান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে, জম্মু-কাশ্মীরের বিধানসভা থাকবে।

এর আগে বিপুল পরিমাণে সেনা মোতায়েন জম্মু-কাশ্মীরে। এর মধ্যেই রবিবার গভীর রাত থেকে শ্রীনগরে জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। যার জেরে নতুন করে কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে সঙ্কট তৈরি হল। পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন তিন মুখ্যমন্ত্রী তথা শীর্ষ নেতা ওমর আবদুল্লা, ফারুখ আবদুল্লা, মেহবুবা মুফতিকে গৃহবন্দি করা হয়েছে। মোবাইল, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে নয়া দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনে এদিন সকালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়। বৈঠকে ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, আইনমন্ত্রী রবিশংকর প্রসাদ। সাধারণত প্রতি বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়। এ সপ্তাহে সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক করা নিয়ে এখনো কিছু জানা যায়নি।

উল্লেখ্য, সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় প্রকাশ করে গত শুক্রবার অমরনাথ যাত্রা বাতিল করা হয়। এছাড়াও কাশ্মীরে মাছিল মাতা যাত্রাও স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক প্রশাসন। এমনকি সমস্ত পর্যটককে কাশ্মীর ছাড়তে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকার পরই ভূ-স্বর্গ ছাড়তে শুরু করেছেন পর্যটকরা।

৩৭০ ধারা কী :

মূলত এই ধারা দিয়ে কাশ্মীর ভারতের অন্য রাজ্য গুলোর তুলনায় বিশেষ সুবিধা পেয়ে আসছিলো। এই ধারাটি দেশটির সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল ১৯৪৯ সালের ১৭ অক্টোবর। এই ধারাবলে জম্মু-কাশ্মীরকে ভারতীয় সংবিধানের আওতামুক্ত রাখা হয় (অনুচ্ছেদ ১ ব্যতিরেকে) এবং ওই রাজ্যকে নিজস্ব সংবিধানের খসড়া তৈরির অনুমতি দেয়া হয়। এই ধারা বলে ওই রাজ্যে সংসদের ক্ষমতা সীমিত। ভারতেযুক্ত হওয়া সহ কোনো কেন্দ্রীয় আইন বলবৎ রাখার জন্য রাজ্যের মত নিলেই চলে। কিন্তু অন্যান্য বিষয়ে রাজ্য সরকারের একমত হওয়া আবশ্যক।

১৯৪৭ সালে, ব্রিটিশ সরকার ভারত ও পাকিস্তানে বিভাজন করে ভারতীয় সাংবিধানিক আইন কার্যকর হওয়ার সময়কাল থেকেই ভারতেযুক্ত হওয়ার বিষয়টি কার্যকরী হয়।

বাংলা/এনএস

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0195 seconds.