• বিদেশ ডেস্ক
  • ০৫ আগস্ট ২০১৯ ০১:৩৯:২১
  • ০৫ আগস্ট ২০১৯ ০১:৩৯:২১
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

কিশোরী হত্যা: শিক্ষা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশ প্রধান বরখাস্ত

আলেকজান্দ্রা মাসেসানু। ছবি : সংগৃহীত

রোমানিয়ায় চাঞ্চল্যকর কিশোরী হত্যার ঘটনায় দেশটির বেশ কয়েকজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা বরখাস্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রীর পাশাপাশি পুলিশ প্রধানও রয়েছেন। গত মাসে ১৫ বছর বয়সি আলেকজান্দ্রা মাসেসানুকে অপহরণ করা হয়। এরপর তাকে হত্যা করা হয়। পরবর্তীকালে ডিএনএ পরীক্ষায় মাসেসানুর হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

শনিবার প্রসিকিউটরের কার্যালয় থেকে পাঠানো বিবৃতিতে ডিএনএ পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এই ফলাফলের মাধ্যমে ১৫ বছর বয়সি ওই কিশোরীটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

এদিকে চাঞ্চল্যকর এই হত্যার ঘটনায় রোমানিয়াজুড়ে সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার জের ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এছাড়া পুলিশ প্রধানকেও বরখাস্ত করা হয়।

সর্বশেষ দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ইকাতেরিনা আন্দ্রোনেস্কুকেও বরখাস্ত করা হয়। অবশ্য কিশোরী হত্যার ব্যর্থতার জন্য তিনি বরখাস্ত হননি। বরং অপহরণের ঘটনায় মাসেসানুকে দোষারোপ করায় তিনি বরখাস্তের শিকার হন। তিনি বলেছিলেন, ‘কোন অচেনা লোকের সঙ্গে গাড়িতে করে যাওয়ার শিক্ষা আমি পাইনি।’ তার এই মন্তব্যে ব্যাপক হৈ চৈ এর সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীকালে শিক্ষামন্ত্রী জানান, গণমাধ্যম থেকে তিনি তার বরখাস্ত হওয়ার খবর পেয়েছেন। কিন্তু তিনি নিহত কিশোরীকে দায়ী করার ইচ্ছা নিয়ে কোন মন্তব্য করেননি।

উল্লেখ্য, আলেকজান্দ্রা মাসেসানুকে ২৪ জুলাই দক্ষিণ রোমানিয়ার কারাকাল শহরের কাছে একটি গ্রাম থেকে অপহরণ করা হয়।  সে নিজের বাড়িতে যাওয়ার জন্য অপরিচিত এক লোকের গাড়িতে উঠেছিলো।

অপহরণের পর সে নিজের অবস্থান জানানোর জন্য জাতীয় জরুরি নম্বরে তিনবার কল করে। কিন্তু তারপরেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার অবস্থান সনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং সঠিক সময়ে তাকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়েছে।

মাসেসানুর অবস্থান চিহ্নিত করতে পুলিশ ১৯ ঘণ্টার মত সময় নেয়। মানুষ এই বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষোভে ফেটে পড়ে।  জনরোষকে সামাল দেয়ার জন্য ২৬ জুলাই পুলিশ প্রধানকে বরখাস্ত করা হয়।

এরপর ২৭ জুলাই রাজধানী বুখারেস্টে এই ঘটনার প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। ৩০ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

পরবর্তীকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে মাসেসানুর হাড়গোড়ের সন্ধান পায়। এরপর ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় মরদেহটি মাসেসানুরই ছিল।

এই ঘটনায় ৬৫ বছর বয়সি গিওর্গি দিনকাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীকালে সে মাসেসানু এবং ১৮ বছর বয়সি লুইজা মেলেনকুকে হত্যার হথা স্বীকার করে। উল্লেখ্য, গত এপ্রিলে লুইজা নিখোঁজ হয়েছিলেন।

বাংলা/এফকে

 

সংশ্লিষ্ট বিষয়

রোমানিয়া হত্যা

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0190 seconds.