• ০৩ আগস্ট ২০১৯ ২০:৩২:৫১
  • ০৩ আগস্ট ২০১৯ ২০:৩২:৫১
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

জাকসু নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মান্নান, মিশ্র প্রতিক্রিয়া

আব্দুল মান্নান চৌধুরী। ছবি : সংগৃহীত

জাবি প্রতিনিধি :

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (জাকসু) নির্বাচনের লক্ষ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে মনোনীত হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের একাংশের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল মান্নান চৌধুরী।

গত ৩১জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ অফিস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাকসু গঠনতন্ত্রের ৮(ঙ) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক মান্নান চৌধুরীকে নিয়োগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বাকি দুইজন সহকারী নির্বাচন কমিশনার বাছাই করবেন বলেও জানানো হয়।

যোগাযোগ করা হলে অধ্যাপক আব্দুল মান্নান চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে জাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব অর্পন করা হয়েছে। এটা আমার জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। আমি সবাইকে নিয়ে একসাথে কাজ করতে চাই।’

উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘অধ্যাপক আব্দুল মান্নান চৌধুরীকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরো দুজন সহকারী নির্বাচন কমিশনার বাছাই করে জাকসুর পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন। আমরা আশা করছি দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা ভেঙে দ্রুতই জাকসু নির্বাচন আয়োজন করতে পারব।’

তবে অধ্যাপক মান্নান চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের একাংশের সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শের শিক্ষক পরিষদ’ এর সভাপতি হওয়ায় তাকে নিয়ে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া রয়েছে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে।

শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু সুফিয়ান চঞ্চল বলেন, ‘দীর্ঘ দুই যুগ ধরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ অচল। সম্প্রতি অধ্যাপক মান্নান চৌধুরীকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করে জাকসুর কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। আমরা তাকে স্বাগত জানাই। আমরা আশা করি জাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিবাচক রাজনীতির ধারা শুরু হবে।’ অধ্যাপক মান্নান চৌধুরীর অধীনে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অন্যদিকে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সোহেল রানা বলেন, ‘মনোনীত প্রধান নির্বাচন কমিশনার একটি দলের মুখপাত্র। এই অবস্থায় নির্বাচন কার্যক্রমের শুরুতেই স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই নির্বাচন কমিশনারের অধিনে কখনো সুষ্ঠু নির্বাচন হবে বলে আমরা মনে করছি না। তারপরও আমরা আশা করবো পরবর্তীতে দুজন সহকারী নির্বাচন কমিশনার দল মতের ঊর্ধ্বে হবেন এবং নির্বাচন সুষ্ঠু হতে ভূমিকা পালন করবেন।’

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয় বলেন, ‘অধ্যাপক মান্নান চৌধুরীর দলীয় পরিচয়ের কারণে একটা আশঙ্কা থেকেই যায়। তবে যেহেতু উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছেন আমরা তাকে সাধুবাদ জানাই। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র অধ্যাপক ও নানা বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমরা আশা করব তিনি আমাদের আশঙ্কাকে মিথ্যা প্রমাণিত করে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও প্রশ্নাতীত নির্বাচন উপহার দিবেন।’

জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন পরে জাকসু নির্বাচন হতে যাচ্ছে। সুতরাং নির্বাচন কমিশনার হওয়া উচিৎ ছিল দল মত নিরপেক্ষ। কিন্তু আমরা জানি, যিনি নির্বাচন কমিশনার নিযুক্ত হয়েছেন তিনি আওয়ামীপন্থী। তবে আমরা মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এগুলো বিবেচনা করেই দিয়েছেন এবং আশা করছি তিনি আমাদেরকে স্বচ্ছ নির্বাচন উপহার দিতে পারবেন। কিন্তু আমরা শঙ্কাতেও থাকব যে, আসলে নির্বাচন কতটুকু সুষ্ঠু হবে।’

অন্যদিকে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শামীমা সুলতানা বলেন, ‘যেভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তা দৃষ্টিকটু। একজন দল নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করা উচিৎ ছিল। বুক পকেটে নৌকায় ভোট দিন মার্কা নিয়ে তো নিরপেক্ষ হওয়া যায় না। আশাকরি অন্য দুইজন সহকারী কমিশনার নিরপেক্ষ হবেন।’

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ ২৭ বছর বন্ধ থাকার পর জাকসুু প্রতিনিধি নির্বাচনের লক্ষ্যে নতুন করে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গত ২৮ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক সিনেট অধিবেশনের পূর্বে উপাচার্য ফারজানা ইসলাম জুলাই মাসের মধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠন এবং দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠানের আশ্বাস দেন। সেই লক্ষ্যে ৩১জুলাই নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন উপাচার্য।

বাংলা/এসএস

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0184 seconds.