• বাংলা ডেস্ক
  • ০২ আগস্ট ২০১৯ ১৪:৫৬:৫৩
  • ০২ আগস্ট ২০১৯ ১৬:২২:১২
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

রেল স্টেশনের ‘পাগলি’র গলায় এতো সুর

ছবি : সংগৃহীত

প্রথম দেখায় যে কেউ তাকে পাগলি ভাবতে পারেন। কিন্তু তার গান শুনে পা থেমে যাবে নিজের অজান্তেই। আপনি আশপাশের খবর রাখলেও ওই নারী আপন মনে মায়া ভরা কন্ঠে গেয়ে চলছেন লতা মঙ্গেশকরের কণ্ঠে বিখ্যাত গান, ‘এক প্যার কা নাগমা হ্যায়।’  

রেলযাত্রীদের মোবাইলের দৌলতে দিন কয়েক ধরে রানাঘাট স্টেশনের এই নারীই এখন নতুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সুরসম্রাজ্ঞী হয়ে উঠেছেন।

গত রবিবার ফেসবুকে এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকে লক্ষাধিক মানুষ তার গান শুনে গুণমুগ্ধ হয়ে পড়েছেন। রানাঘাট স্টেশন চত্বরে এমন এক মহিলার দেখা পেয়ে সত্যিই তাজ্জব রেলযাত্রীরা। এক যাত্রীই ওই নারীর সঙ্গীত সাধনার ভিডিও তুলে শেয়ার করেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

স্টেশনই আশ্রয়, স্টেশনই সাধনাস্থল। দিনভর হইচই, কোলাহলের মধ্যেও তিনি নিমগ্ন সুরের জগতে। বাকি জগতের অস্তিত্ব ভুলে একমনে গেয়ে চলেন তিনি।

পরনের শাড়িটি ছেঁড়া। ব্লাউজের রং ফিকে। চুলে জট। অনেকদিনের স্নান না করা, ক্লান্ত চেহারা। গোটা চেহারাতেই জীবন সংগ্রামের ছাপ স্পষ্ট। তাতে কী? এসব তার সুরসাধনায় কোনো বাধাই সৃষ্টি করতে পারেনি। অমলিন মুখের হাসিটি।

স্টেশনের একপাশে বসেই দিনভর তিনি গেয়েই চলেছেন কোকিলকণ্ঠীর গান – ‘এক প্যার কা নাগমা হ্যায়/মওজ কি রওয়ানি হ্যায়/জিন্দেগি অউর কুছ ভি নহি/ তেরি-মেরি কাহানি হ্যায়…।’ কী নিঁখুত নোট, কী সুরেলা কণ্ঠ! কোথাও একচুল কোনো ভুলভ্রান্তি নেই। একবার এই গান কানে এলেই থমকে দাঁড়িয়ে পড়তে হয়। মন দিয়ে গান শুনলে মনে হচ্ছে, আশেপাশে চরাচরব্যপী সব কিছু উধাও। যেন দাঁড়িয়ে রয়েছেন এক সুরের জগতে,যেখানে কেবলই সুর-তাল-লয়ের খেলা চলছে সর্বক্ষণ। আপনি নিজেও যেন সেই খেলার একজন সাথী।

তার গান শুনে আবেগ প্রবণ হয়ে সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই লিখেছেন, ‘জীবনের সব কষ্ট ভুলে যেভাবে উনি গাইছেন, তা চোখে জল এনে দেয়।’ কেউ বা লিখেছেন, ‘বলিউডের এই ক্লাসিক লতাজির গাওয়া অন্যতম অনবদ্য গান। এই মহিলাও ঠিক ততটাই ভালো গেয়েছেন।’ তার কিন্তু এদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। তিনি কেবল আপনমনে গেয়ে চলেছেন, ‘…জিন্দেগি অউর কুছ ভি নেই, তেরি-মেরি কহানি হ্যায়।’

বাংলা/এনএস

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0190 seconds.