• বাংলা ডেস্ক
  • ০১ আগস্ট ২০১৯ ১৯:৫৩:১১
  • ০১ আগস্ট ২০১৯ ১৯:৫৭:৫৯
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

হৃদরোগিদের ডেঙ্গুর বিষয়ে আরো বেশি সর্তক থাকার পরামর্শ

ছবি : সংগৃহীত

ডেঙ্গু এখন মহামারী আকার ধারন করেছে। ঢাকা থেকে ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশেই। ঘরে ঘরে ডেঙ্গু আতঙ্ক! শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই আতঙ্কে আছেন। তবে হৃদরোগে আক্রান্ত রোগিদের নিয়ে আরো বেশি দুঃশ্চিন্তায় আছেন স্বজনরা।

উদিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণও আছে। এমনিতেই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ মানুষই হঠাৎ করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ছে। সেক্ষেত্রে ইতোমধ্যেই যারা হার্টের বিভিন্ন সমস্যার জন্য চিকিৎসাধীন আছেন তারা ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে পরিস্থিতি কেমন হবে তা নিয়েই উদ্বেগ তাদের।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, বাংলাদেশে ৫৩ ভাগ মৃত্যুর কারণ অসংক্রামক রোগ ও এর মধ্যে শীর্ষস্থানে আছে হৃদরোগ। দেশের মোট মৃত্যুর শতকরা ২৭ ভাগই হৃদরোগের নানা সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

এই পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু জ্বরের ব্যাপকতা বেড়ে যাওয়ার কারণে তাদের নিয়ে বাড়তি সতর্কতারও প্রয়োজন বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

বিবিসিকে দেয়া এক স্বাক্ষাতকারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ রাজিব কুমার সাহা বলেন, ‘ডেঙ্গু জ্বর নিজেই যথাসময়ে পদক্ষেপ না নিলে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পরে এবং তাই হৃদরোগে আক্রান্ত কেউ যদি এ জ্বরে আক্রান্ত হন তাহলে তাকে আরো দ্রুততার সাথে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।’

কোন হৃদরোগি ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে যা করতে হবে :

চিকিৎসক রাজিব সাহা বলেন, ‘ধরুন ডেঙ্গুর যেসব লক্ষ্মণ আমরা জানি - অনেক জ্বর, বমি হওয়া, শরীরে র‍্যাশ ওঠা কিংবা পাতলা পায়খানা হওয়া- এসব হলে দ্রুততার সাথে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। খুব দ্রুত না আসলে হৃদরোগীর জন্য পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। কারণ হৃদরোগীরা যেসব ওষুধ সেবন করে সেগুলো সাধারণত রক্ত তরল করার জন্য। এগুলো এন্টি প্লেটলেট। আবার ডেঙ্গু হলে প্লেটলেট ভেঙ্গে যায়। তাই দুটি মিলে কি হতে পারে সহজেই বোঝা যায়। তাই জ্বরের লক্ষ্মণ বোঝা গেলেই দ্রুত পরীক্ষা নিরীক্ষা করিয়ে দেখতে হবে’

ঝুঁকি কোথায়?

রাজিব কুমার সাহা হৃদরোগে আক্রান্তদের ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার কয়েকটি ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেন। এগুলো হলো:

১. প্রেশার কমে যাওয়া

২. হাইপোটেনশন থেকে বিপদ হওয়ার ভয়

৩.ডেঙ্গু থেকে লিভার আক্রান্ত হতে পারে। বিলুরুবিন বেড়ে যাতে পারে।

৪. রক্তের অণুচক্রিকায় রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া

৫. হৃদরোগ ছাড়াও যারা উচ্চ রক্তচাপ ও হার্ট ফেইলিউরের ওষুধ নিচ্ছেন তাদের সেসব ঔষধ রক্তচাপ কমিয়ে দিতে পারে

চিকিৎসক রাজিব সাহা বলেন, ‘ডেঙ্গু হওয়া মানে হলো এমনিতেই বিপদে। তার মধ্যে যাদের হার্ট অ্যাটাক একবার হয়েছে কিংবা রিং পরানো আছে তাদের নিজেদেরই উপলব্ধি করতে হবে যে সমস্যা হচ্ছে কি-না। সমস্যা হলেই জ্বর যাই হোক চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।’

সংশ্লিষ্ট বিষয়

হৃদরোগি ডেঙ্গু

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0209 seconds.