• জাবি প্রতিনিধি
  • ০১ আগস্ট ২০১৯ ১৯:৪১:৩১
  • ০১ আগস্ট ২০১৯ ১৯:৪১:৩১
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

ঈদের ছুুটিতে জাবিতে গাছ কাটার আশঙ্কা

ছবি : সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পাঁচটি হল নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। যে স্থানে ভবন নির্মাণ করা হবে, সেখানে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির হাজারাধিক গাছ। এসব গাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরই মধ্যে মেয়েদের হল নির্মাণের স্থানে তিনটি গাছ কেটে ফেলা হয়। পরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে আপাতত গাছ কাটা বন্ধ রাখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

আগামী ২ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ঈদুল আজহার ছুটি। এ ছুটিতেই গাছ কাটার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ছাত্র ইউনিয়ন বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম অনিক বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিভিন্ন সময়ে অপরিকল্পিতভাবে নির্বিচারে গাছ কেটেছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা গাছ কাটার প্রতিবাদ করলে প্রশাসন তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ঈদ বা যে কোনো লম্বা ছুটি কাজে লাগায়। এবারের ঈদের ছুটিতেও আমরা একই আশঙ্কা করছি।’

এর আগে ২০১০ সালে ঈদের ছুটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত সড়ক থেকে ৩৬টি গাছ কেটে ফেলা হয়। বট, কড়ই, ঝাউ, দেবদারুসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ শোভাবর্ধন করেছিল এ সড়কদ্বীপে। মূল ফটক থেকে শহীদ মিনার দেখা যায় না- এমন যুক্তি দিয়ে গাছগুলো কাটে তৎকালীন প্রশাসন। ২০১৫ সালের ঈদের ছুটিতে ১২টি গাছ কাটা হয়। এর মধ্যে ছিল কাঁঠাল, আকাশমণি ইত্যাদি গাছ। বিজ্ঞান কারখানা নির্মাণের জন্য এ গাছগুলো কাটে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম প্রশাসন। জাবি সাংস্কৃৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, অন্যান্য প্রশাসনের মতো এই প্রশাসন এবারের ঈদের ছুটিতে নির্বিচারে গাছ কাটবে না। এমনটা হলে তার ফল ভালো হবে না।’

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. দিদার বলেন, ‘আমরা এবারও তাদের প্রতি আস্থা রাখতে পারছি না। তবে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতিতে লুকিয়ে গাছ কাটা হলে প্রশাসনকে পূর্বের ইতিহাস মনে করিয়ে দেওয়া হবে।’

পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জামাল উদ্দীন বলেন, ‘এবারের ছুটিতে আমরা শতভাগ আশঙ্কা করছি।  প্রশাসনের প্রতি আস্থা রাখা যাচ্ছে না।’ তিনি বলেন, ‘ছুটির আগে উপাচার্যকে গাছ না কাটার অনুরোধ করব।’ 

অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগরের ইতিহাস বলে, অতীতে লম্বা ছুটিতে গাছ কাটার নজির আছে। এবারও আশঙ্কা থেকেই যায়। আমি আশা করি, প্রশাসন হঠকারী সিদ্ধান্ত নেবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অংশীজনের সঙ্গে বসে উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া উচিত। এতে সবাই উপকৃত হবে।’

বাংলা/এএএ

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0239 seconds.