• বাংলা ডেস্ক
  • ৩০ জুলাই ২০১৯ ১৩:৫৯:৪৯
  • ৩০ জুলাই ২০১৯ ১৪:২৩:২০
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

ডেঙ্গুর পর কি ছোঁয়াচে ইবোলা?

ছবি : সংগৃহীত


এম এম আসাদুল্লাহ : 


ডেঙ্গু নিয়ে এক প্রকার তীব্র আতঙ্কের মধ্যে আছি। এরইমধ্যে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাহেব উল্টাপাল্টা কথা বলে আগুনে ঘি ঢেলেছেন। পুরো ফেসবুক এখন ডেঙ্গুময়।

অপরিচিত মানুষের রক্তের সংস্থানে কেউ যেমন মরিয়া প্রচেষ্টা নিচ্ছেন। তেমনি কেউ কেউ আবার প্রতিবেশীর ঘরের আগুনে আলু পোড়া দেয়ার মতো মশারি থেকে শুরু করে বিভিন্ন মশা বিরোধী পন্যের ব্যবসাও শুরু করেছেন।

ডেঙ্গু হলে কি করতে হবে, কি করলে ডেঙ্গু হবে না, এগুলোর পাশাপাশি চলছে মেয়র এবং সরকারের চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার তৎপরতা। যেন মশার বৃদ্ধিতে কিংবা ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবে সব দায় মেয়রের, আমার আপনার কোন দায়ই নেই!

ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া কিন্তু ঐতিহাসিক ভাবেই অনেক পুরোনো অসুখ। পরিবেশের ভারসাম্য বা ইকোলজিক্যাল ব্যলেন্স যতদিন বজায় ছিল ততদিন এই অসুখগুলো নিয়ন্ত্রণে ছিল।

যেমন ধরুন- অসংখ্য মশার ডিম বা লার্ভা দাদা পরদাদার যুগেও পয়দা হতো, শুধু সেগুলো থেকে এই পরিমাণ মানুষ কামড়ানো মশার জন্ম হতো না। সে সময় খোলা পানিতে মাছ, পতঙ্গ এবং প্রাণী থাকত, সবখানে মাছ না থাকলেও ব্যাঙ এবং ব্যঙাচি থাকতো।

মশার লার্ভার অধিকাংশই যেত ব্যাঙ বা ব্যঙাচির পেটে। আপনারা ডিডিটি নামের বিষ আমদানি করলেন, কীটনাশক আমদানি করলেন ফসলের নামে, গবেষণার নামে লক্ষ লক্ষ ব্যাঙ কাটলেন এবং পরিবেশ থেকে ব্যঙের বংশ নির্বংশ করলেন।

যত্রতত্র পরিবেশ দূষণ, বৃক্ষ নিধন, প্লাস্টিক এবং প্লাস্টিকজাত দূষনে ব্যাঙ ছাড়াও কত যে প্রাণী পরিবেশ থেকে বিদায় নিল, পরিনামে বাস্তুতন্ত্রের একটা বড় অংশই হারিয়ে গেল। পরিবেশ অস্থিতিশীল হলো। ইদানিং এইরকম অস্থিতিশীল পরিবেশের জন্যই বেশ কিছু যায়গায় মানুষের বসতি স্থানে সাপের আধিক্য জনিত আতঙ্কও দেখতে পাচ্ছি।

এখন বলুন- সরকার একাই কি পরিবেশ ধ্বংস করেছে? আপনার আমার সব অনিয়ম বন্ধের দায়িত্ব কি শুধুই সরকারের? নাগরিক হিসেবে আপনার দায়িত্ব কি আপনি যথাযথ পালন করেছেন?

বলুন তো পলিথিন বন্ধে আইন আছে, আমি আপনিসহ আইন মানে সাকুল্যে কতজন?

আর হ্যাঁ জেনে রাখুন:

ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া এইগুলো কিন্তু একটা কনসার্টের তুলনায় তবলার টুকটাক মাত্র। চিকিৎসাযোগ্য বিপদ। দেখা গেছে, যেসব দেশে আগে ডেঙ্গু এবং চিকনগুনিয়ার সংক্রমণ ঘটেছে, সেইসব দেশেই পরবর্তীকালে ভয়াবহ ছোঁয়াচে ইবোলা সংক্রমণ ঘটেছে।

আমাদের মতো ঘন বসতির দেশে ইবোলার পরিনাম নিশ্চিত কয়েক কোটি মানুষের করুণ মৃত্যু এবং মানবিক বিপর্যয়। এ কারণেই বলা যায়- সামনের দিনে আরো ভয়াবহ বিপদ আসছে!

ভাইরাসগুলো মিউটেশনের মাধ্যমে নিজেদেরকে পরিবর্তন করছে, প্রতিরক্ষা বাড়াচ্ছে, ঔষধের বিরুদ্ধে অপরাজেয় হচ্ছে। তাই এখনই ছোঁয়াচে মহামারী প্রতিরোধের প্রস্তুতি নেয়া দরকার।

এইসব বিপদ মোকাবেলায় মেয়র বা সরকারের দিকে তাকিয়ে সত্যিই কোন লাভ হবে বলে মনে হয় না। লাভ হবে যদি আপনি আপনার নিজের দিকে তাকান।

নিজের আচরণগত, ব্যবহারগত পরিবর্তন আনেন। প্লাস্টিক এবং কৃত্রিম রাসায়নিকের ব্যবহার কমান। অনবায়ন যোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংসকারী ভোগ বিলাস কমান।

আপনার পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখেন, আপনার পাশের এবং ভবিষ্যতের মানুষের কথা চিন্তা করেন।

বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য বজায় রাখতে কাজ করুন এবং সর্বোপরি আমাদের সকলের মা, এই পৃথিবীর যত্ন নিন। সকলের মঙ্গল হোক।

লেখক: টেলিটক বাংলাদেশ লি: এর কর্মকর্তা

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0210 seconds.