• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২২ জুলাই ২০১৯ ১২:২৬:৩২
  • ২২ জুলাই ২০১৯ ১২:২৬:৩২
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

অনলাইনে অর্ডার দিয়ে অপহরণের ফাঁদ

ছবি : সংগৃহীত

অনলাইনে দেয়া অর্ডার মোতাবেক পণ্য নিয়ে গেলেন কাস্টমারের বাসায়, কিন্তু গিয়ে দেখলেন আপনার সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। আপনাকে জিম্মি ও অপহরণ করে দাবি করেছে মুক্তিপণ। এমন একটি প্রতারক চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

শনিবার অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব-৩ ঢাকার কদমতলী থানার মুরাদপুর এলাকায় মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে ওই এলাকার রজ্জবআলী রোডের বাসা নং ১১১ থেকে ভুক্তভোগীকে উদ্ধারসহ ওই তিনজনকে আটক করে। এমন তথ্য নিশ্চিত করে র‌্যাব।

আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন- নাছরিন আক্তার (২৮), তাইজুল ইসলাম (২৯) ও মো. ফয়সাল (২৮)।

অনলাইনে বিজনেস করে এমন কোম্পানির কর্মকর্তারাই সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্রটির প্রধান টার্গেট। অপহরণের পর অশ্লীল ছবি তুলে ব্লাকমেইল করে মুক্তিপণ আদায়ের প্রমাণও পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক (সিও) ও লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক লে. কর্ণেল এমরানুল হাসান জানান, ভুক্তভোগীর ছোট ভাই দেলোয়ার হোসেন র‌্যাবের কাছে অভিযোগ করেন, তার বড় ভাই জাকির হোসেন সোহাগ ওয়াটার পিউরিফায়ার থ্রি-এম ব্রান্ড কোম্পানির ম্যানেজার।

ওয়াটার পিউরিফায়ার থ্রি-এম ব্রান্ড কোম্পানির মালামাল হোম ডেলিভারি সুবিধা থাকার কারণে অনলাইন থেকে নম্বর সংগ্রহ করে ফোন দেয় আটক নাছরিন আক্তার। তিনি একটি ওয়াটার পিউরিফায়ার অর্ডার দিয়ে তাদের একটি ঠিকানায় ডেলিভারি দিতে বলেন।

সেই মোতাবেক ওই দিন দুপুরে নাছরিন আক্তারের কথিত বাসার ঠিকানায় ওয়াটার পিউরিফায়ার নিয়ে গেলে জাকির হোসেনকে আটকে রাখে। মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং অপর দুই অপহরণকারী তাইজুল ও ফয়সাল মিলে জাকিরকে মারধর করে। অপহরণকারী দলের নারী সদস্য নাছরিনের সাথে অপহৃত জাকির হোসেনের জোরপূর্বক অশ্লীল ছবি তোলে এবং মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণ না দিলে অশ্লীল ছবি ইন্টারনেটে ছেড়ে দিয়ে সম্মানহানি ও হত্যার হুমকি দেয়।

তিনি আরো জানান, ভুক্তভোগী বাধ্য হয়ে বাসায় ফোন করে অপহরণের কথা জানায়। সেই সঙ্গে অপহরণকারীদের মোবাইল ফোনের বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠাতে বলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে ভাই দেলওয়ার বিকাশের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা পাঠান।

র‌্যাব কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা পরস্পর যোগসাজশে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন কৌশলে পণ্য ক্রয় ডেলিভারির নামে বাসায় আটকে মুক্তিপণ আদায় করে। চক্রটির মূল টার্গেট অনলাইনে ব্যবসায়ীরা। টার্গেট করে অর্ডার দিয়ে বাসায় আনে। তারপর তাদের আটকে বিভিন্ন ধরনের আপত্তিকর ছবি তুলে ব্লাকমেইল করে মুক্তিপণ দাবি করে। আটকরা দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কার্যক্রম করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

বাংলা/এনএস

সংশ্লিষ্ট বিষয়

অনলাইন প্রতারণা ঢাকা

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0221 seconds.