• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০ জুলাই ২০১৯ ২২:৪৩:৩৫
  • ২০ জুলাই ২০১৯ ২২:৪৩:৩৫
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

ডাক্তারের ‘অবহেলায়’ ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুর মৃত্যু!

ছবি : সংগৃহীত

ডাক্তারের অবহেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে স্কয়ার হাসপাতালের বিরুদ্ধে। গত ৪ জুলাই বিকেল ৩ টায় হাসপাতালে ভর্তির পর ৫ জুলাই বিকেল চারটায় শিশুটি মারা যায়। তার পরিবার ডাক্তারের ভুল চিকিৎসা ও অবহেলাকে দায়ী করেছে শিশুটির মৃত্যুর জন্য ।

সাত বছর বয়সী শিশুটির নাম মো. ইরতিজা শাহাদ প্রত্যয়। সে ধানমন্ডি মাস্টার মাইন্ড স্কুলের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। প্রত্যয়ের পরিবারকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তির পর মাত্র ২৪ ঘণ্টার চিকিৎসায় ২ লাখ ১০ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করতে হয়েছে।

প্রত্যয়ের বাবা ডা. মো. শাহেদ রফি পাভেলের অভিযোগ স্কয়ার হাসপাতালের পিআইসিইউ’র কনসালটেন্ট ডাক্তার মো. আহমেদ সাঈদের অবহেলায় ও অনুপস্থিতির কারণে আমার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, গত ৪ জুলাই বিকেল তিনটায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত আমার একমাত্র শিশুপুত্র মো. ইরতিজা শাহাদ প্রত্যয়কে স্কয়ার হাসপাতালে পিআইসিইউ (Paediatric Intensive Care unit) –এ ভর্তি করায়। স্কয়ার হাসপাতালে পিআইসিইউ‘র কনসালটেন্ট ডা. মো. আহমেদ সাঈদ এর দায়িত্বে চরম অবহেলা এবং অনুপস্থিতির কারণে গত ৫ জুলাই বিকেল চারটায় আমার ছেলে মারা যায়।

‘আমি এর প্রতিকার চেয়ে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য সচিব, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলে (বিএমডিসি) এর প্রতিকার চেয়ে লিখিত আবেদন করেছি। আগামী রবিবার (২১ জুলাই আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে লিখিত অভিযোগে দায়ের করবো।’

জানা গেছে, গত ৩০ জুন শিশুটি ডেঙ্গুতে অক্রান্ত হলেও প্রথমে বোঝা যায়নি। পরদিন ১ জুলাই তার জ্বর থাকলেও ২ জুলাই কোনো জ্বর ছিল না। ৩ জুলাই সামান্য পেটে ব্যাথা হয়। ৪ জুলাই সকালে প্রথমে তাকে ধানমন্ডি আনোয়ার খান মডার্ণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন শিশুটির ব্লাড প্রেশার কম থাকায় ডাক্তার স্যালাইন দেয় এবং ১৫ মিনিটের মধ্যেই প্রেশার (১১০/৯০) স্বাভাবিক হয়। পরে আনোয়ার খান মেডিকেলের ডাক্তার কুন্তল রায়ের পরামর্শে একইদিন বিকেল তিনটায় প্রত্যয়কে স্কয়ার হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রত্যয়ের বাবা ডা. শাহেদ রাফি পাভেল বলেন, গত চার জুলাই বিকেল তিনটায় আমার ছেলেকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা করাতে চাইলেও তারা রোগীকে সরাসরি পিআইসিইউতে ভর্তি করে। ভর্তির তার ১০ মিনিট পর পিআইসিইউর কনসালটেন্ট ডা. মো. আহমেদ সাঈদ আমাদের ব্রিফ করে বলেন, ‘রোগীর ব্লাড প্রেসার ১১০/৯০ এবং ৯০ শতাংশ ওকে আছে, বাকি ১০ শতাংশ সমস্যা থাকলেও ৪৮ ঘণ্টা অবজারভেশনে থাকলে ঠিক হয়ে যাবে। পরে কনসালটেন্ট চলে যায়। বিকেল চারটা থেকে রাত ১১ টা ৪০ পর্যন্ত একবারও কনসালটেন্ট পিআইসিইউতে আসেনি। অথচ এই সময়ে আমার বিল উঠেছে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা।’

তিনি বলেন, ‘আমার বাচ্চার ক্রিটিক্যাল অবস্থা ছিল না। বরং ভালো তদারকির জন্য স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। শুধুমাত্র স্কয়ার হাসপাতালের পিআইসিইউ‘র কনসালটেন্ট ডাক্তারের চরম অবহেলা আর কর্তব্যরত ডাক্তারদের অদক্ষতা ও ভুলের কারণে আমার ছেলেকে মরতে হয়েছে।’

এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে স্কয়ার হাসপাতালের হেড অব ম্যানেজমেন্ট এন্ড সাপোর্ট সার্ভিস কর্নেল (অব.) নুরুল হককে ফোনে পাওয়া যায়নি। এমনকি মুঠোফোনের ক্ষুদে বার্তারও কোনো জবাব দেননি তিনি।

বাংলা/এএএ

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0233 seconds.