• বিদেশ ডেস্ক
  • ২০ জুলাই ২০১৯ ১৯:১৪:৩৬
  • ২০ জুলাই ২০১৯ ১৯:১৪:৩৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

ট্রাম্পের সাথে সিলেটের ফরিদের কথোপকথনে মুগ্ধ কিউই প্রধানমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে ১৭টি দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে নামাজরত মুসল্লিদের ওপর হামলায় স্ত্রীকে হারানো ফরিদ আহমেদও ছিলেন।

গত বুধবার আধা ঘণ্টার ওই বৈঠকের সময়ে প্রতিনিধিদের কাছ থেকে নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা জানতে চান ট্রাম্প।

ক্রাইস্টচার্চে অস্ট্রেলীয় শ্বেতাঙ্গ জঙ্গির হামলা থেকে ভাগ্যক্রমে ফরিদ আহমেদ বেঁচে গেলেও তার স্ত্রী হোসনে আরা আহমেদ নিহত হন। শারীরিক প্রতিবন্ধী স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে পেছন থেকে গুলিবিদ্ধ হন ৪২ বছর বয়সী হোসনে আরা।

ফরিদ উদ্দিনের বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার চকগ্রামে। আর হুসনে আরা পারভীনের বাবার বাড়ি একই জেলার গোলাপগঞ্জের জাঙ্গালহাটা গ্রামে।

মসজিদে হামলার পর সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়া ও বিশ্বব্যাপী সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়ানোয় ফরিদ আহমেদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ দেন।

ওভাল অফিসে নিজের আসনে বসে ট্রাম্প বলেন, মানুষ যদি স্বাধীনভাবে তার ধর্মীয় চর্চা করতে না পারেন, তখন তার সব ধরনের স্বাধীনতাই ঝুঁকিতে পড়ে যাবে।

তার মতো অন্য কোনো প্রেসিডেন্ট ধর্মীয় স্বাধীনতাকে এতো গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বলেও তিনি মনে করছেন না বলে জানান ট্রাম্প। প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কেবল ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে আপনাদের অনেক দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।

এর প্রতিক্রিয়ায় নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন বলেন, ফরিদ আহমেদ ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ দেয়ায় তিনি অবাক হননি। সেখানে ক্রাইস্টচার্চের ভয়াবহ স্মৃতিচারণ করার কথা ছিল তার।

জাসিন্ডা বলেন, তিনি (ফরিদ) একজন ভালোবাসা ও সহানুভূতিসম্পন্ন মানুষ। তার প্রতিটা আলাপ থেকেই তা বেরিয়ে আসে। কাজেই দেশের বাইরে গিয়েও তিনি তেমনটা করবেন, সেটাই আমি ধরে নিয়েছিলাম। যে কারণে বিশ্বব্যাপী সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়ানোয় ট্রাম্পকে তিনি ধন্যবাদ দেয়ায় আমি অবাক হইনি।

কিউই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফরিদ আহমেদ এমন একজন মানুষ, যিনি মানবতাকেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে, বৈঠকে বাংলাদেশের হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের মিথ্যা তথ্য তুলে ধরেছেন। এ নিয়ে সারাদেশে তোলপাড় চলছে।

তার দাবি, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা মৌলবাদীদের নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান নিখোঁজ হয়েছেন।

এর মধ্যে প্রিয়া সাহা বলেন, প্লিজ আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই। এখনও সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু মানুষ আছে। আমার অনুরোধ, আমাদের সাহায্য করুন। আমরা দেশ ছাড়তে চাই না।

তিনি অভিযোগ করেন, তারা আমার বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে, আমার জমি কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু বিচার হয়নি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানতে চেয়েছিলেন- কারা তার বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে, জমি কেড়ে নিয়েছে। উত্তরে প্রিয়া বলেন, তারা মুসলিম মৌলবাদী, তারা সব সময় রাজনৈতিক আশ্রয় পাচ্ছে।

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0202 seconds.