• বাংলা ডেস্ক
  • ১৪ জুলাই ২০১৯ ২১:৩০:১৬
  • ১৪ জুলাই ২০১৯ ২১:৩০:১৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

মুসলিমরা সবচেয়ে সুখি : কী আছে গবেষণায়

ছবি : সংগৃহীত

‘এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের কারণে বিশ্বে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের তুলনায় মুসলমানরা তাদের জীবন নিয়ে সবচেয়ে বেশি সন্তুষ্ট।’ এক গবেষণা ফলাফলে পাওয়া এই প্রতিবেদনটি তিন মাসের বেশি সময় আগের। যা সম্প্রতি বাংলাদেশে ভাইরাল হয়। বাংলা’র পাঠকদের জন্য সেই গবেষণার খবরটির মূল বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো।

আল্লাহর একত্ববাদের প্রতি বিশ্বাসের কারণে অন্যান্য ধর্মের মানুষের তুলনায় মুসলমানরা সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে বেশি সংযুক্ত বলে নতুন এই গবেষণায় বলা হয়েছে।

মানুষ জীবনে কতটা সুখী তা তার জীবনযাপনের সন্তুষ্টির উপর নির্ভর করে। জার্মানির এক দল মনোবিজ্ঞানীর করা নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, একত্ববাদের অনুভূতির মধ্যে সামগ্রিক পরিতৃপ্তি পাওয়া যায়। বিভিন্ন ধর্মের মানুষের জীবন যাপনের সন্তুষ্টির মধ্যে একত্ববাদের অনুভূতি কীভাবে প্রভাব ফেলে এই বিষয়টি জানার জন্য  জার্মানির ম্যানহেইম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এই গবেষণাটি করেন।

নতুন এই গবেষণায় বিভিন্ন ধর্মের ৬৭ হাজার ৫৬২ জন মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এদের মধ্যে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের একাত্ববাদের প্রতি অনুভূতি সবচেয়ে বেশি বলে ধারণা পাওয়া গেছে। গত এপ্রিলে আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন জার্নালে এই গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।

এর আগে ধর্মীয়, দর্শন এবং মনোবিজ্ঞানের সঙ্গে সম্পৃক্ত বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চ শক্তির কোন কিছুর সঙ্গে সংযুক্তি মানুষের মঙ্গল সাধন করে।

২০১৬ সালের পিউ রিসার্চ সেন্টারের করা একটি জরিপে দেখা গেছে, যেসব মানুষ নিজেদের বেশি ধার্মিক বলে পরিচয় দিয়েছেন তারাই জীবন নিয়ে সবচেয়ে বেশি সুখী। মানুষের জীবনের সন্তুষ্টি, মঙ্গল এমনকি ক্যান্সার রোগীদের ইতিবাচক ধারণার সঙ্গে নির্দিষ্ট কোন ধর্মের প্রতি অনুরক্ত থাকার সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়া এধরনের আরো গবেষণায় একই ফলাফল পাওয়া গেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় মনোবিজ্ঞানীরা সব ধর্মের আধ্যাত্মিক মানুষের মধ্যে সাধারণ একটি বিষয় হিসেবে একত্ববাদের ধারণাটি নিয়ে কাজ করার আগ্রহ বোধ করেন।

তথাকথিত মনঃসমীক্ষণ তত্ত্বের জনক সিগমুন্ড ফ্রয়েড মনে করতেন, মাতৃগর্ভে থাকাকালীন শিশু যেমন মায়ের সঙ্গে সব দিক দিয়ে সংযুক্ত থাকার থাকার মাধ্যমে একক সত্ত্বার ধারণা পেয়েছিল। পরবর্তীকালে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরেও মানুষের মধ্যে সেই একত্ববাদে ফিরে যাওয়ার আকুলতা দেখা যায়।

সমসাময়িক অনেক মনোবিজ্ঞানী ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য হিসেবে অখন্ডতা কিংবা একক সত্ত্বাকে সামনে নিয়ে এসেছেন। যারা অন্যদের কিংবা পরিবেশের সঙ্গে আরো সংযুক্ত হতে চায় অথবা তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী কোন উচ্চ শক্তি বা সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে যুক্ত থাকতে চায় তাদের এই বৈশিষ্ট্যই তাদেরকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।

একক সত্ত্বা কিংবা একত্ববাদের এই ধারণাগুলো মানুষের জীবনের বৃহত্তর সন্তুষ্টির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বলে বিশ্বাস করা হয়। আর এই সন্তুষ্টির সঙ্গে মানুষের শারীরিক এবং মানসিক সুস্বাস্থ্যও জড়িত রয়েছে।

জার্মানির ম্যানহেইম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে একত্ববাদের এই ধারণা কতটা প্রভাব ফেলে তা পরীক্ষা করে দেখতে চেয়েছিলেন। এজন্য তারা বিভিন্ন ধর্মের ৬৭ হাজার মানুষের মধ্যে একটি জরিপ করেন। অবশ্য এই গবেষণায় যারা অংশ নিয়েছিলেন তাদের জাতীয়তা প্রকাশ করা হয়নি। একত্ববাদের প্রতি জরিপে অংশ গ্রহণকারীদের অনুভূতি যাচাই করার জন্য তাদের কল্পিত কিছু প্রশ্ন দেয়া হয়েছিল।    

গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারী সব গ্রুপের মধ্যে মুসলমানরা বিশ্বাস করেন তারা নিজেদের চেয়ে বৃহত্তর কোন কিছুর সঙ্গে সংযুক্ত। বৌদ্ধ এবং হিন্দুদের তুলনায় খ্রিষ্টানরা ক্যাথলিক কিংবা প্রটেস্ট্যান্ট নির্বিশেষে একত্ববাদের ধারণা সবচেয়ে বেশি পোষণ করেন। এক্ষেত্রে মুসলমানদের পরেই তাদের অবস্থান। যারা অবিশ্বাসী কিংবা নাস্তিক তারা বৃহত্তর কিংবা উচ্চতর কোন শক্তির অথবা ক্ষমতার সঙ্গে নিজেদের সংযুক্ত করেননি।

গবেষকরা এই গাণিতিক মডেল ব্যবহার করে একত্ববাদের সঙ্গে জীবনের সন্তুষ্টির শক্তিশালী যোগসূত্র রয়েছে বলে নিশ্চিত হন।

গবেষণায় নিয়োজিত মেইনহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী লরা মেরি এডিঙ্গার-শনস লিখেন, ‘এই ফলাফল স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় একত্ববাদে বিশ্বাস এবং জীবনের সন্তুষ্টির  মধ্যে কার্যকরী দিকটি সাহিত্য থেকে প্রাপ্ত ধারণার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ : সময়ের সাথে সাথে একত্ববাদে বিশ্বাস জীবনে সন্তুষ্টির অর্জনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হয়ে উঠে।  অবশ্য একত্ববাদে বিশ্বাস এর বিপরীত কোন প্রভাব ফেলে না।’

তিনি আরো লিখেন, ‘একত্ববাদে বিশ্বাসের ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র পার্থক্য প্রকৃত অভিযোজনে ভিন্ন কোন পূর্বাভাস দেয় কি না সে ব্যাপারে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা উচ্চতর আগ্রহের বিষয় হতে পারে।’

উল্লেখ্য, বৌদ্ধ ধর্মে নির্বাণ লাভ করাই জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য। নির্বাণ অর্থ মুক্তি বা মোক্ষ অর্থাৎ শান্তি লাভ। সকল প্রকার দুঃখ মোচন করে চিরমুক্তি লাভ করার মাধ্যমেই নির্বাণ লাভ করা যায়।

হিন্দুধর্মের মূল বিশ্বাস সত্য।  

এদিকে ইসলাম ধর্মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ‘তাওহীদ’। তাওহীদ অর্থ একত্ববাদ। এই বিশ্বাস অদৃশ্য একত্ববাদের প্রতি একেশ্বরবাদের ধারণা। ইসলামি পরিভাষায়, তাওহীদ হল সৃষ্টি ও সবকিছুর পরিচালনায় আল্লাহকে এক ও অদ্বিতীয় হিসেবে বিশ্ব্বাস করা, সকল ইবাদত-উপাসনা কেবলমাত্র আল্লাহর জন্য করা এবং অন্য সবকিছুর উপাসনা ত্যাগ করা।

সুতরাং মুসলমানরা যে একত্ববাদের সর্বাধিক অনুভূতি অনুভব করে এক্ষেত্রে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।
একত্ববাদের এই আধ্যাত্মিক অনুভূতি এবং সংযোগ আমাদের মস্তিষ্ক এবং শরীরে কি ধরণের পরিবর্তন ঘটায় তা পরিমাপ করা কঠিন। কিন্তু আমরা জানি, শক্তিশালী সামাজিক সংযোগ দীর্ঘ জীবন থেকে শুরু করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার বৃদ্ধি, উদ্বেগ কমানো এবং হতাশা কমাতে সহায়তা করে। সম্ভবত আধ্যাত্মিক সংযুক্তিও মানুষের জীবনে একই ধরনের প্রভাব ফেলে থাকে।

বাংলা/এফকে

 

সংশ্লিষ্ট বিষয়

মুসলিম সুখি

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0213 seconds.