• ১৪ জুলাই ২০১৯ ২১:১৫:০৬
  • ১৪ জুলাই ২০১৯ ২১:১৫:০৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

চিকিৎসা পাচ্ছে বরিশালের সেই শিকলে বাঁধা যুবক

ছবিঃ বাংলা

জহির রায়হান, বরিশাল প্রতিনিধি:

মো.ইমরান হোসেন ২৫ বছরের এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক। সপ্তম শ্রেণীতে লেখাপড়া অবস্থায় মানসিক ভারসাম্যতা হারিয়ে ফেলে ইমরান।

দারিদ্রতা আর অর্থের অভাবে ইমরান উন্নত চিকিৎসা না করিয়ে একটানা দীর্ঘ ১২ বছর ধরে শিকলে বেঁধে রেখেছে তার পরিবার। শুধু শিকলে বেঁধে রেখেই নয়, ইমরানকে রাখা হয়েছে ছোট্ট একটি ঘরে।

এমন কষ্ট আর বিদারক ঘটনা নিয়ে অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা’য় ‘চিকিৎসার অভাবে ১২ বছর ধরে শিকলে বাঁধা যুবক’ শিরোনামে গত ৯ জুলাই একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার রাম চন্দ্র দাস, স্থানীয় বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা সমাজসেবা কর্তকর্তার নজরে আসে।

এরপর গত ১২ জুলাই শুক্রবার সকালে ইমরানের বাড়িতে ছুটে যান বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাধবী রায় ও সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ তরিকুল ইসলাম উজ্জ্বল ও উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ জিল্লুর রহমান সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানকে শিকলে বাঁধা দেখে অত্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সাথে ইমরানের দ্রুত উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনী ব্যবস্থা ও সরকারের সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় সকল সুযোগ-সুবিধার ভাতা প্রদানেরও আশ্বাস দেন ইউএনও।

এ ব্যাপারে বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা( ভারপ্রাপ্ত) মোঃ তরিকুল ইসলাম উজ্জ্বল ‘বাংলা’কে জানান, ইমরানের ঘটনা নিয়ে বাংলা’য় সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার রাম চন্দ্র দাস স্যারের নজর আসে। সাথে সাথে বাকেরগঞ্জ নির্বাহী কর্মকর্তাকে ইমরানের চিকিৎসার জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ দেন। তারপর ইমরানের বাড়িতে গিয়ে পুরো খোঁজ-খবর নেয়া হয়।

পরে আগামীকাল (১৫ জুলাই) বিনামূল্যে তার প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে আসার জন্য তার পরিবারকে বলা হয়েছে। এখানে ইমরানের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ইমরানের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অথবা পাবনার মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হবে। সেই সঙ্গে এই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) বাংলা’য় সংবাদটি প্রকাশ করায় বাংলা’র পরিবার ও বরিশাল প্রতিনিধি কেও আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞা জানান।

প্রসঙ্গত, ইমরান বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার গারুড়িয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড রবিপুর গ্রামের মৃত আ. মান্নান হাওলাদারের বড় ছেলে। শিকলে বাঁধার আগে ইমরান দিনের বেশিরভাগ সময়ই পরিবারের সাথে শান্ত ও স্বাভাবিক আচরণ করত। হঠাৎ করে মানসিক ভারসাম্যতা হারিয়ে ফেললে ঘরে থাকা জিনিসপত্র ভাঙচুর করত। তখন পরিবারের কেউ কাছে থাকলে তাদেরকেও মারধর করত ইমরান। এজন্যই তাকে ঘরের একটি খুঁটির সাথে শিকলে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। ইমরান ক্ষুধার জ্বালায় হাউ মাউ করে চিৎকার কারলেও অভাবের কারণে তার মুখে পেট ভরে দু’মুঠো ভাত দিতে পারত না  মা লাকী বেগম।

এতে ইমরান দিনে দিনে আরো মানসিক ভারসাম্যতায় ভূগে দিন কাঁটছে পশুর মত মানবেতর অবস্থায়। সবমিলে ইমরানের শক্তি আর স্বাস্থ্য দিন দিন আরো খারাপ হয়ে যাচ্ছে ছিল। মা’র বিশ্বাস ঢাকায় নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারলে ইমরান আগের মত স্বাভাবিক ও সুস্থ হয়ে উঠতো। এ ব্যাপারে লাকী বেগম ”বাংলা” কে জানিয়েছিল,‘ইমরানের চিকিৎসা তো দূরের কথা,স্থানীয়রা কেউ কোনো আর্থিক সহযোগিতা করতে আসেনি। ইমরানের প্রতিবন্ধী কার্ড থাকা সত্তে¡ও কখন টাকা তুলতে পারিনি তার মা লাকী বেগম।

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0212 seconds.