• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১২ জুলাই ২০১৯ ১৫:০২:৩০
  • ১২ জুলাই ২০১৯ ১৫:০২:৩০
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

সারারাত থানায় গণধর্ষণের শিকার নারী, তবু মামলা নেয়নি পুলিশ

প্রতীকী ছবি

মাগুরার শ্রীপুরে রাতভর গণধর্ষণের শিকার এক নারীর মামলা না নিয়ে রাতভর বসিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে ওই থানার ওসির বিরুদ্ধে। সকাল থেকে বসিয়ে রেখে উল্টো তার বিরুদ্ধেই মামলা ঠুকে দেয়ার ভয় দেখান। ভুক্তোভোগী ওই সন্ধ্যায় বের করে দেয়া হয় এমকি তাকে দিনভর কিছু খেতেও দেয়নি পুলিশ।

উপজেলার আমলসার ইউনিয়নের নির্যাতনের শিকার ওই নারী অভিযোগ করেন, ঘটনার পর দু’সপ্তাহ ধরে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা এবং মাতব্বরদের মাধ্যমে তাকে বিষয়টি মীমাংসার জন্য নানাভাবে চাপ দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নির্যাতনের শিকার ওই নারী জানান, ২৮ জুন রাতে তার স্বামী পেশাগত কাজে ফরিদপুর জেলায় ছিলেন। রাতে তার দ্বিতীয় শ্রেণিপড়ুয়া শিশুসন্তানকে নিয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। এ সময় এলাকার পরিচিত দিপুল নামের যুবক দরজায় কড়া নাড়লে দরজা খুলে দিলে মাজেদুল ও আশরাফুল নামে আরো দুই যুবককে নিয়ে ঘরে ঢুকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে তাকে। এরপর কোনো এক ব্যক্তির সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে এমন অভিযোগ তুলে ধর্ষণকারী তিন যুবক লকার ভেঙে জমির কাগজপত্র, কানের দুলসহ ব্যাংকের দুটি ব্ল্যাঙ্ক চেকে অস্ত্রের মুখে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়ে যায়।

তিনি আরো জানান, পরদিন সকালে এ ঘটনায় মামলা করতে থানায় গেলে ওসি মাহবুবুর রহমান তাকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বসিয়ে রাখেন। এমনকি ডাক্তারি পরীক্ষার অনুরোধ জানালেও তিনি সেই ব্যবস্থা না করে ভয় দেখিয়ে তাকে বের করে দেন।

ওই নারী বলেন, ‘তিন যুবক রাতভর আমার ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। তার ওপর সারা দিন অভুক্ত অবস্থায় থানায় বসিয়ে রেখে ওসি বলেন, ওদের নামে মামলা হবে না। হলে তোমার নামে হবে। আর এখন তিনি (ওসি) প্রতিদিনই কাউকে না কাউকে বাড়িতে পাঠিয়ে ঘটনা মীমাংসা করে ফেলতে চাপ দিচ্ছেন। না করলে ওসি মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখাচ্ছেন।’

এ বিষয়ে ওসি মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ওই তিন যুবক ধর্ষণ করবে কেন? ওই মহিলার সঙ্গে তার স্বামীর এক বন্ধুর সম্পর্ক আছে। সেই ঘটনা জানতে পেরে ওই যুবকরা রাতে তার কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছিল বলে শুনেছি। তবে ওই মহিলা ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে থানায় এলেও কোনো সত্যতা না পাওয়ায় মামলা নেয়া হয়নি।’

নারী ডাক্তারি পরীক্ষার কথা বললেও কেনো করা হয়নি, এমন প্রশ্নে ওসি বলেন, ‘ওই মহিলা তার স্বামীর সঙ্গে থাকেন। তিনি ধর্ষণের শিকারই হননি। তাই পরীক্ষা করারও কোনো দরকার ছিল না।

এর আগে ১৪ মে সকালে ওই উপজেলার চরশ্রীপুর গ্রামের এক গৃহবধূকে ধর্ষণ ও ভিডিওচিত্র ধারণের ঘটনা ঘটেছিল। ওই সময় এলাকাবাসী দু’জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করলেও ওসি মাহবুব সিগারেট চুরির মামলা দিয়ে ধর্ষণকারীদের বাঁচানোর চেষ্টা করেন। এ নিয়ে গণমাধমে সংবাদ প্রকাশিত হলে ধর্ষণের মামলা রেকর্ড হয়।

বাংলা/এনএস

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

গণধর্ষণ মাগুরা

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0202 seconds.