• বাংলা ডেস্ক
  • ১০ জুলাই ২০১৯ ১৫:৪৯:৫৬
  • ১০ জুলাই ২০১৯ ১৫:৪৯:৫৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

সৌদি যুবরাজের কর্মকাণ্ড মুসলমানদের মক্কা বর্জনে উদ্বুদ্ধ করছে

ছবি : সংগৃহীত


আহমেদ তোয়াইজ :


সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের আঞ্চলিক আগ্রাসন এবং মানবাধিকারের প্রতি অবজ্ঞা বিশ্বজুড়ে মুসলিম ধর্মীয় নেতা এবং ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মক্কায় হজ করতে না যাওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করছে।  
পাশ্চাত্যে এমবিএস নামে বহুল পরিচিত মুহাম্মদ বিন সালমান রক্ষণশীল সৌদি আরবকে আধুনিক এবং প্রগতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে তুলে ধরার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

এমনিতেই মানবাধিকার এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি তোয়াক্কা না করার কারণে প্রতিনিয়তই সমালোচিত হচ্ছেন তিনি। এছাড়া তার অভ্যন্তরীণ এবং বিদেশনীতি নিয়েও রয়েছে অনেক সমালোচনা।

যুক্তরাজ্যের অ্যামনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ দেশে বিদেশের সবগুলো মানবাধিকার সংস্থাই সৌদি আরবে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় বার বার তাকিদ দিয়ে এসেছে। কিন্তু এতসব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের অনুরোধে কর্ণপাত করার প্রয়োজন কখনও বোধ করেননি সৌদি যুবরাজ। বরং নিজ দেশের অন্ধকার এসব দিককে ঢেকে রাখার জন্য সংস্কারের নামে উদ্ভট উদ্ভট সব পদক্ষেপ নিচ্ছেন তিনি।

তার এই তথাকথিত উদারনৈতিক সংস্কার নিয়ে বিশ্বজুড়ে অনেক মুসলমানই সমালোচনা করছে। যেসব পশ্চিমাদের সরব কন্ঠকে নীরব করার জন্য তিনি এসব সংস্কার করার চেষ্টা করছেন তাদেরকেও পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারছেন বলে মনে হচ্ছে না।

মুহাম্মদ বিন সালমানের উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের অংশ হিসেবে ইয়েমেনের মত দরিদ্র একটা দেশে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে সৌদি আরব। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বোমা হামলায় শিশুসহ হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ প্রতিনিয়তই মৃত্যুর মুখোমুখি হচ্ছে। পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে যুদ্ধ চলতে থাকায় সেখানকার স্বাস্থ্যসেবাসহ সবকিছুই ধ্বংসের মুখে পড়েছে। ফলে দেশটি দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে বলে হুঁশিয়ার করে দিয়েছে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো। কিন্তু এতকিছুর পরেও ইয়েমেন যুদ্ধ বন্ধের কোন নির্দেশ দিচ্ছেন না তিনি।

সৌদি ভিন্ন মতাবলম্বী সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ড বিশ্ববাসীকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। গত বছরের অক্টোবরে ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করেছিলেন তিনি বিয়ের কাগজপত্র সংগ্রহের জন্য। কিন্তু এরপর তার আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরবর্তীকালে প্রকাশিত হয় সৌদি কনস্যুলেটেই তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। সৌদি থেকে যাওয়া এজেন্টরা প্রথমে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর তার মরদেহ টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়। ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ডের জন্য সৌদি যুবরাজকেই দায়ী করা হয়। 

এমনকি জাতিসংঘের সর্বশেষ তদন্ত প্রতিবেদনেও এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মুহাম্মদ বিন সালমানের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত করা হয়েছে। অথচ সৌদি সরকার বরাবরই তা অস্বীকার করে এসেছে। ওয়াশিংটন পোস্টের এই সাংবাদিকের হত্যাকাণ্ডের পর পাশ্চাত্যে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন এমবিএস। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কেবলমাত্র অস্ত্র ব্যবসার খাতিরে উদ্ধত সৌদি এই যুবরাজকে সমর্থন করে যাচ্ছেন।

আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে শিয়া মতাবলম্বী ইরানের সঙ্গে সুন্নি সৌদিদের বরাবরই শত্রুতা ছিল। কিন্তু সৌদি যুবরাজের সময় এই শত্রুতা আরো ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। ইয়েমেনের যুদ্ধ মূলত মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি-ইরান দ্বন্দ্বেরই বহিঃপ্রকাশ। সৌদিদের অভিযোগ ইয়েমেনের শিয়া মতাবলম্বী হুতি বিদ্রোহীদের অস্ত্র দিয়ে মদদ দিচ্ছে ইরান। যদিও ইরান সরকার বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।

এমবিএসের এসব কর্মকাণ্ডে তিতিবিরক্ত হয়ে গত এপ্রিলে লিবিয়ার প্রখ্যাত সুন্নি মুসলিম পন্ডিত গ্র্যান্ড মুফতি সাদিক আল ঘারিয়ানি মুসলমানদের সৌদি আরবে ওমরাহ না করার জন্য পরামর্শ দিয়েছিলেন। তিনি জানান, যাদের উপর হজ করা ফরজ তারা জীবনে একবার হজ করার পর, দ্বিতীয়বার হজ করার জন্য যেন সৌদি আরবে না যান।

তিনি উল্লেখ করেন, দ্বিতীয়বার হজ করা কিংবা ওমরাহ করার ফলে সওয়াবের চেয়ে বরং পাপই বেশি হচ্ছে।  কেন না মুসলমানদের হজের অর্থ দিয়ে সৌদি শাসকরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ত্র কিনছে আর তা দিয়ে ইয়েমেনে নিরীহ মানুষদের হত্যা করা হচ্ছে।

এছাড়া সিরিয়া, লিবিয়া, তিউনিসিয়া, সুদান এবং আলজেরিয়াতেও পরোক্ষভাবে যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে সৌদি আরব। সৌদি শাসকদের পাপের ভাগীদার না হওয়ার জন্য তিনি বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের প্রতি দ্বিতীয় হজ বর্জনের আহ্বান জানান।

হজ বর্জনের আহ্বান কেবল ঘারিয়ানিই একাই জানিয়েছেন তা নয় বরং সৌদি আরবের বিশিষ্ট মুসলিম পন্ডিত ইউসুফ আল কারাদায়ীও গত বছরের আগস্টে এক ফতোয়ায় বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের হজ বর্জনের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

সৌদি শাসকদের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত সুন্নী এই পন্ডিত বলেন, ‘হজের জন্য অর্থ ব্যয় করার চেয়ে ক্ষুধার্ত মুসলমানদের খাবার দেয়া, অসুস্থদের সেবা করা এবং গৃহহীনদের আশ্রয় দেয়া আল্লাহর কাছে অনেকবেশি গ্রহণযোগ্য।’

ইসলামের সঙ্গে সৌদি আরবের ঐতিহাসিক বন্ধন রয়েছে। মক্কা এবং মদিনা মুসলমানদের কাছে সবচেয়ে পবিত্র হিসেবে বিবেচিত দুটি স্থান। মক্কায় পবিত্র কাবা শরীফের অবস্থান। এছাড়া মদিনায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর কবর রয়েছে। যেহেতু এই দুটি স্থানই সৌদি আরবে রয়েছে। ফলে বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের কাছে সৌদি আরবের আলাদা একটি গুরুত্ব এবং আকর্ষণ রয়েছে।

প্রতি বছর হজের সময় শিয়া, সুন্নি থেকে শুরু করে সব সম্প্রদায়ের মুসলমানরা মক্কায় উপস্থিত হন। এই সময় ২৩ লাখের বেশি মুসলিম হজ করেন। এছাড়া বছরের অন্যান্য সময় উমরাহ করার জন্যও বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে মুসলমানরা মক্কায় সমবেত হন।

এদিকে ধর্মীয় বিভিন্ন ইস্যু ছাড়াও অন্যান্য ব্যাপারে নির্দেশনা পাওয়ার জন্য সুন্নি আরব বিশ্ব সৌদি আরবের দিকে তাকিয়ে থাকে। ১৯৭৯ সালে শিয়া ইরানে ইসলামিক বিপ্লব সফল হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের সুন্নি মতাবলম্বী আরব দেশগুলোর মধ্যে ব্যাপক ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। রাজতান্ত্রিক এসব দেশগুলোর শাসকেরা নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে থাকে। এমনকি মুসলিম বিশ্বে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য নিজস্ব ব্র্যাণ্ডের ইসলামী মতবাদ প্রচার শুরু করে।

ওয়াহাবী মতবাদ নামে কট্টরপন্থী এই ইসলাম প্রচারের জন্য মুসলিম দেশগুলোতে মসজিদ নির্মাণে লাখ লাখ ডলার ব্যয় করে সৌদি আরব।  সৌদিদের এধরনের কর্মকাণ্ডের ফসলই আজকের তথাকথিত ইসলামিক চরমপন্থায় রূপ নিয়েছে।

বেশ কয়েক বছর ধরেই মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে সৌদি আরব।  উক্ত অঞ্চলে সৌদিদের এই মোড়লিপনার ক্ষেত্রে একমাত্র হুমকি হিসেবে তারা ইরানকেই বিবেচনা করছে।  বিশ্বের বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর অন্যতম সৌদি আরব। এছাড়া বিশ্বের পরাক্রমশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এই কারণে দেশটির প্রতিবেশি অন্য আরব রাষ্ট্রগুলোর সমর্থনও রয়েছে তাদের প্রতি।

সৌদি রাজপরিবার বিশেষ করে যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসন সরাসরি তা নাকচ করে দেয়। এছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও সম্প্রতি বাদশাহ সালমানের সঙ্গে বৈঠক করার সময় খাশোগি ইস্যুটি সচেতনভাবেই এড়িয়ে গেছেন।  হোয়াইট হাউস এবং মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ড নিয়ে চোখ বন্ধ রাখতে পারে কিন্তু সাধারণ মুসলমানরা এই ব্যাপারে সৌদি রাজপরিবারকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখছে না।

মধ্যপ্রাচ্যসহ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বেশ কিছু দেশে খাশোগির নির্মম হত্যাকাণ্ড নিয়ে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে  এছাড়া ইয়েমেনে বেসামরিক মানুষজন বিশেষ করে শিশু মৃত্যুর হার যতই বাড়ছে ততই সৌদি শাসকদের প্রতি মুসলমানদের ঘৃণা বেড়ে যাচ্ছে। প্রসঙ্গত, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় ২০২০ সালে ইয়েমেনে নিহতের সংখ্যা ২ লাখ ৩০ হাজারে পৌঁছবে বলে আশংকা করা হচ্ছে। সৌদি বিমান হামলার কবল থেকে স্কুলগামী শিশুদের বাস থেকে শুরু করে হাসপাতাল, বিয়ের উৎসব এমনকি মৃত মানুষের জানাজা কোন কিছুরই রেহাই মিলছে না। ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলাকে জাতিসংঘ ‘বর্তমান সময়ে মানুষ সৃষ্ট সবচেয়ে খারাপ মানবিক সংকট’ বলে বর্ণনা করেছে। এমনকি সৌদি শাসকদের সবচেয়ে বড় দোসর আরব আমিরাতও ইয়েমেনের প্রতি সৌদিদের এহেন অমানবিক কর্মকাণ্ডে স্বস্তি বোধ করছে না।

সৌদি শাসকদের এই নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে।  এমনকি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো দেশটির সঙ্গে অস্ত্র বাণিজ্য না করার জন্য উন্নত দেশগুলোর প্রতি আহ্বানও জানিয়েছে।  এর ফলে গত বছরের অক্টোবর থেকে জার্মানি সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।  সম্প্রতি সুইজারল্যান্ড এবং ইতালিও জার্মানির পথ অনুসরণ করেছে।

এদিকে ব্রিটিশ আদালত সাম্প্রতিক একটি রায়ে সৌদিদের কাছে অস্ত্র বিক্রি অবৈধ বলে ঘোষণা দিয়েছে।  এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের উভয় কক্ষই সৌদিদের কাছে অস্ত্র বাণিজ্য সংক্রান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের একটি বিল ফেরত পাঠিয়েছে।

অতীতেও সৌদি আরবকে বর্জনের ডাক দেয়া হয়েছিল। তবে এবার শিয়া এবং সুন্নি উভয় মতাবলম্বী মুসলমানরাই সৌদি শাসকদের উপর বিরক্ত। ২০১১ সালে বাহরাইনের সুন্নি শাসকদের অনুরোধে সৌদিরা দেশটির শিয়া মুসলমানদের নেতৃত্বাধীন একটি গণঅভ্যুত্থান নিষ্ঠুরভাবে দমন করেছিল। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ইরাকের অ্যাক্টিভিস্টরা সৌদি পণ্য বর্জনের ডাক দিয়েছিলেন। ইরাকজুড়ে শিয়া পন্ডিত, রাজনীতিক এবং শিক্ষাবিদরা সৌদিদের বিরুদ্ধে এই বর্জন কর্মসূচির আয়োজন করেছিলেন। সেসময় ইরাকের প্রধানমন্ত্রী নুরি আল মালিকি সতর্ক করে বলেছিলেন, সৌদি নেতৃত্বাধীন সহিংসতা যদি এভাবে অব্যাহত থাকে তাহলে এই অঞ্চল ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক যুদ্ধে লিপ্ত হবে।  

#বয়কটহজ বর্তমানে টুইটারে ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। এই বিষয়ে ১৬ হাজারের বেশি টুইট হয়েছে। বিশ্বজুড়ে সুন্নি পন্ডিতরাও হজ বর্জনের ডাক দিয়ে যাচ্ছেন। গত জুনে তিউনিসিয়ার ইমামদের ইউনিয়নও এই হজ বর্জন করার আহ্বান জানিয়ে এক বিবৃতি দেয়। এতে বলা হয়, ‘হজের মাধ্যমে সৌদিরা যে অর্থ পায় তা বিশ্বজুড়ে গরীব মুসলমানদের সাহায্যে ব্যয় হচ্ছে না। বরং এই অর্থ দিয়ে অস্ত্র কিনে ইয়েমেনে মুসলমানদের হত্যা এবং বাস্ত্যচ্যুত করা হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, ইসলাম ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের একটি হজ। আর্থিক এবং শারীরিকভাবে সামর্থ্যবান প্রতিটি মুসলমানদের জন্য হজ করা ফরজ। সুতরাং সৌদি শাসকদের নিষ্ঠুর আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে এই হজ বর্জনের ডাক দেয়ার গুরুত্ব রয়েছে। এই ট্রেন্ড যদি অব্যাহত থাকে ইসলামের সূতিকাগার হিসেবে নিজেদের দাবি করা সৌদি আরবের জন্য তা ঝুঁকির সৃষ্টি করবে। কারণ এর মাধ্যমে ধর্মীয় ভাবমূর্তি এবং অর্থনৈতিক উভয় দিক দিয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশটি।

সৌদি অর্থনীতিতে হজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতি বছর হজের মৌসুমে সৌদি আরব যে অর্থ উপার্জন করে তা ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। তেল ছাড়া এই অর্থ সৌদি আরবের জিডিপির শতকরা ২০ ভাগ। ২০২২ সালে এই অর্থ ১৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দরিদ্র দেশের মুসলমানদের থেকে পাওয়া এই অর্থ দিয়ে বিলাসবহুল সব হোটেল তৈরি করছে সৌদি সরকার।

এদিকে সৌদি আরব নিজেও ইরানি এবং কাতারি হজযাত্রীদের নিজ দেশে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করছে। হজ করতে ইচ্ছুক এই দুই দেশের নাগরিকরা যেন হজ করতে না আসে এজন্য তাদের বিভিন্ন সমস্যায় ফেলছে সৌদি সরকার।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অকুন্ঠ সমর্থন পেয়ে সৌদি শাসক বিশেষ করে যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান যেরকম বেপরোয়া হয়ে উঠছেন, যদি ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় না আসতে পারে তাহলে পশ্চিমা বিশ্বে সৌদিদের হাতে গোণা কতিপয় বন্ধুই কেবল থাকবে। ফলে মুসলিম এবং আরব বিশ্বের নেতৃত্ব দেয়ার জন্য সৌদি শাসকদের যে স্বপ্ন রয়েছে তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

লেখক: স্বাধীন মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক, ইরাকি এনজিও সনদ ফর পিসবিল্ডিং এর উপদেষ্টা, ফটো সাংবাদিক। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য এবং মানবাধিকার সংস্থার সঙ্গে যুক্ত।  

(লেখাটি মার্কিন প্রভাবশালী পত্রিকা ফরেন পলিসি থেকে অনুদিত)।

বাংলা/এফকে

 

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0223 seconds.