• ০৯ জুলাই ২০১৯ ২২:৫২:২১
  • ০৯ জুলাই ২০১৯ ২২:৫২:২১
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

চিকিৎসার অভাবে ১২ বছর ধরে শিকলে বাঁধা যুবক

মো. ইমরান হোসেন। ছবি : সংগৃহীত

বরিশাল প্রতিনিধি :

মো. ইমরান হোসেন ২৫ বছরের মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবক। সপ্তম শ্রেণিতে লেখাপড়া অবস্থায় মানসিক ভারসাম্যতা হারিয়ে ফেলে ইমরান। দারিদ্রতা আর উন্নত চিকিৎসার অভাবে একটানা দীর্ঘ ১২ বছর ধরে ইমরানকে শিকলে বেঁধে রেখেছে তার পরিবার। শুধু শিকলে বেঁধে রেখাই নয়, ইমরানকে ছোট্ট একটি ঘরে একা রাখা হয়েছে।

শিকলে বাঁধার আগে ইমরান দিনের বেশিরভাগ সময়ই পরিবারের সাথে শান্ত ও স্বাভাবিক আচরণ করত। হঠাৎ করে মানসিক ভারসাম্যতা হারিয়ে ফেললে ঘরে থাকা জিনিসপত্র ভাঙচুর করত। তখন পরিবারের কেউ কাছে থাকলে তাদেরকে মারধর করত ইমরান। এজন্যই তাকে ঘরের একটি খুঁটির সাথে শিকলে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এতে ইমরান দিনে দিনে আরো মানসিক ভারসাম্যতায় ভূগছে। তার দিন কাঁটছে পশুর মত মানবেতর অবস্থায়। ইমরান ক্ষুধার জ্বালায় হাউ মাউ করে চিৎকার কারলেও অভাবের কারণে তার মুখে পেট ভরে দু’মুঠো ভাত দিতে পারছেন না মা লাকী বেগম। সবমিলে ইমরানের শক্তি আর স্বাস্থ্য দিন দিন আরো খারাপ হয়ে যাচ্ছে।

ইমরান বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার গারুড়িয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড রবিপুর গ্রামের মৃত আ. মান্নান হাওলাদারের বড় ছেলে। মা লাকী বেগমের বিশ্বাস ঢাকায় নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারলে ইমরান আগের মত স্বাভাবিক ও সুস্থ হয়ে যাবে।

মা লাকী বেগম বলেন, ‘ইমরানের চিকিৎসা তো দূরের কথা, স্থানীয়রা কেউ কোনো আর্থিক সহযোগিতা করে না। ইমরানের প্রতিবন্ধী কার্ড থাকলেও কখন টাকা তুলতে পারি না। আর আমি নিজে বিধবা হলেও জোটে না কোনো বিধবা ভাতা বা সরকারের কোনো সহযোগিতা। তাই আল্লাহর উপরে ছেড়ে দিয়েছি ইমরানকে।’

এ ব্যাপারে বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাধবী রায় ‘বাংলা’কে বলেন, ‘ইমরানের বিষয়টা অত্যন্ত দুঃখজনক। ইমরানের মা আজকের আমার অফিসে আসলে ইমরানের সব ঘটনা শোনার পরে আমি সাথে সাথে উপজেলা সমাজসেবা অফিসারকে ডেকে পাঠিয়ে সমাজসেবার রোগী কল্যাণ তহবিলের আওতায় ইমরানকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসা করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলছি। পর্যায়ক্রমে ইমরান সরকারের দেয়া সকল সুযোগ-সুবিধার ভাতা পাবে বলেও আশা রাখি। সেই সঙ্গে ইমরানের মা লাকী বেগমকে বিধবার কার্ড পাইয়ে দেয়ারও ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

 

 

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0197 seconds.