• ০৯ জুলাই ২০১৯ ১৪:১৮:০৬
  • ০৯ জুলাই ২০১৯ ১৪:১৮:০৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

কওমী বন্ধুদের জন্য রুশ দেশের ‘গল্প’

ছবি : সংগৃহীত

সাংবাদিকদের কাছে অনেক ‘গল্প’ জমা থাকে- এটা সবার জানা। যা ‘খবর’ হিসেবে কোনদিন লেখা হয় না। আমাকে এ গল্পটি শুনিয়েছিলেন দেশের একজন বামপন্থী নেতা- ১৯৯০-এর পরপর।

আসাদগেট আর গণভবনের মাঝে তখন সুন্দর দোতলা একটা রেস্টুরেন্ট ছিল। সেখানে বসেই তাঁর সঙ্গে কথা হচ্ছিলো। সবে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে গেছে। তাঁকে পেয়েই অনেক কিছু জানতে ও বুঝতে চাইছিলাম। তিনি আন্তরিকভাবে যা বলেছিলেন সেটা হুবহু না হলেও কাছাকাছি ভাষায় সংক্ষেপে তুলে ধরছি।

তিনি বলছিলেন. “আলতাফ, আমরা প্রায়ই মস্কো যেতাম। যেতে হতো। গেলেই ওরা বিভিন্ন স্থান ঘুরিয়ে দেখাতো। বিশেষ করে মিলিটারি হার্ডঅয়্যার ইন্ড্রাস্ট্রিজগুলো। রুশরা মনে করতো পুঁজিবাদী ইউরোপ-আমেরিকা তাদের আক্রমণ করে ধ্বংস করে দিতে পারে। সুতরাং সামরিকভাবে ইউরোপ-আমেরিকার সমান হতে হবে।

সত্যি সত্যি একসময় রুশরা সামরিকভাবে প্রতিপক্ষের ‘সমান’ হয়ে গেল। কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার সময় ইউরোপ-আমেরিকাকে একটা গুলিও খরচ করতে হয়নি। একজন বরিস ইয়েলেতসিন একটু নাড়া দেয়ামাত্র পুরো কাঠামোটি হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে।

এর কারণ হলো, আলতাফ, মানুষ অনেক সময়ই নিজের ‘কল্পিত শত্রু’র দিকে অধিক (এবং অতিরিক্ত) মনযোগী থাকে। ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় আড়াল করে নিজের প্রকৃত সংকট ও কাঠামোগত অবক্ষয়। কিন্তু শেষবিচারে সেটা আড়ালে থাকে না। রাখা যায় না। রুশ পার্টিও একই ভুল করেছিল। তারা পরিবর্তনের সুযোগগুলো কাজে লাগায়নি। আমরাও ভুল করেছি। পুরো কাঠামোটি কীভাবে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছিল সেটা সময়মতো বুঝতে ব্যর্থ হয়েছি।”

বাংলাদেশের কওমী জগতের সঙ্গে রুশদের দূরতম কোন সম্পর্কও নেই। কিন্তু এই পরিসরের সাম্প্রতিক সংকটে গত দুদিন ধরে এই গল্পের বার্তাটুকু মনে পড়ছিল।

আমি নিজে কিছুদিন মক্তবে পড়েছি। মাদ্রাসাগুলোর সঙ্গে মাটি ও মানুষের সম্পর্কের নিবিড়তা লেখক হিসেবে আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক মনযোগের ক্ষেত্র। লেখালেখির প্রয়োজনে মাঝে মাঝে বড় বড় মাদ্রাসায় যাই সরাসরি। অনেক ভালো বন্ধু আছে আমার সেখানে। 
কিন্তু কওমী জগতে যে নৈতিক ও কাঠামোগত সংকট তৈরি হচ্ছে, এর উপরিকাঠামো যেভাবে সামন্তীয় রূপ নিচ্ছিলো এবং সম্প্রতি রাজনীতির হাওয়ায় তাতে বৈষয়িক যেসব দূষণ ঘটছিল সেসব নিয়ে বড় রকম আড়াল প্রবণতা আছে। স্পষ্টত সেখানে উর্ধ্বতন-অধ:স্তনের ‘কর্তৃত্ববাদী এক কাঠামো’ তৈরি হয়েছে।। রাজনীতির সংযোগ যে কাঠামোতে বাড়তি প্রাণ সঞ্চার করেছে।

ধর্মকে সামনে রেখে কওমী মুরুব্বিরা নিজেদের সংস্কারের উর্ধ্বে রাখতে পারবেন বলে একধরনের নীরব আত্মবিশ্বাস দেখেছি। এসব থেকে নিজ মনযোগ ফেরাতে বারবার কল্পিত প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিজেদের পুরো ‘সমাজ’কে নামাতে চেয়েছেন তাঁরা। কিন্তু হয়তো এখন সময় চলে এসেছে আত্মজিজ্ঞাসার; সংস্কারের।

সাম্প্রতিক ঘটনাবলীকে একটা সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। এটাকে কাজে লাগানো যায়। যার মধ্যদিয়ে এই শিক্ষাব্যবস্থা অধিকতর গণতান্ত্রিক হয়ে উঠতে পারে।

না হলে রুশদের মতোই ঘটতে পারে বাকিটুকু।

লেখক ও সাংবাদিক

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0240 seconds.