• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০৯ জুলাই ২০১৯ ১১:২৪:২৫
  • ০৯ জুলাই ২০১৯ ১৩:২৯:৩৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

ভুয়া সনদে ৭ বছর উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা

ছবি : সংগৃহীত

রংপুরে মুক্তিযোদ্ধাকে ভুয়া নানা বানিয়ে নাতির পোষ্য কোটায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদে চাকরি নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুয়া পোষ্য কোটায় প্রায় ৭ বছর দাপটের সঙ্গে চাকরি করছেন রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার হয়বতপুর গ্রামের মো. তোজাম্মেল হোসেনের ছেলে মো. শরিফুল ইসলাম।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১২ সালের ১৮ নভেম্বর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি, ফার্মগেট, ঢাকার পক্ষ থেকে ওই সালের ১৯ নভেম্বর ‘দৈনিক সংবাদ’ পত্রিকায় ৭৩৬ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

শরিফুল ইসলাম গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার ৯নং কামালের পাড়া ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মো. সোলেমান আলীকে ভুয়া নানা বানিয়ে নাতির পোষ্য কোটায় ৩১ বছর অধিক বয়সে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদে চাকরির জন্য আবেদন করেন।

২০১৩ সালের ২৫ জুলাই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চল, রংপুরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. সেকেন্দার আলী স্বাক্ষরিত নিয়োগপত্রে ১০৬ জনকে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদে নিয়োগপত্র দেয়া হয। ওই নিয়োগপত্রের ১২নং ক্রমিকে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদে মো. শরিফুল ইসলামকে মুক্তিযোদ্ধা নাতি পোষ্য কোটায় নিয়োগ দেয়া হয়।

ওই নিয়োগপত্রের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের ১৪ আগস্ট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলে চাকরিতে যোগদান করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার কৃষি অফিসের অধীন মিঠুপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মিঠাপুকুর উপজেলার হয়বতপুর গ্রামের মো. তোজাম্মেল হোসেনের ছেলে মো. শরিফুল ইসলাম। তার প্রকৃত নানা একই উপজেলার হয়বতপুর গ্রামের মৃত সাদত উল্লা।

অথচ তার প্রকৃত নানার নাম গোপন রেখে শরিফুল ইসলাম গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার ৯নং কামালের পাড়া ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মো. সোলেমান আলীকে ভুয়া নানা বানিয়ে নাতি পোষ্য কোটায় চাকরি বাগিয়ে নেন। কিন্তু তার নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র পর্যালোচনায় জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধা সোলেমান আলীর ৯নং কামালের পাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. শাহিনুর ইসলাম কর্তৃক স্বাক্ষরিত ওয়ারিশ সার্টিফিকেটে উপসহকারী কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলামের মাতা মোছা. ছকিনা বেগম নামে তার কোনো ওয়ারিশ বা মেয়ে সন্তান নেই। অপরদিকে মিঠাপুকুর উপজেলার ১৬নং মির্জাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. নুরুল আমিন প্রধান স্বাক্ষরিত মৃত সাদত উল্লার ওয়ারিশ সার্টিফিকেটে দেখা যায়, ওই উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলামের মাতার নাম মোছা. ছকিনা বেগমের নাম উল্লেখ রয়েছে।

কিন্তু মুক্তিযোদ্ধার জাল ও ভুয়া নাতি পোষ্য কোটায় চাকরি নিয়ে এলাকায় দাপটের সঙ্গে চাকরি করে আসছেন। এ বিষয়ে লালমনিরহাটের খোর্দ্দসাপটানা (বছিরটারী) গ্রামের আবদুল মজিদের কন্যা ও মো. শরিফুল ইসলামের সাবেক স্ত্রী মোছা. মরিয়ম বেগম অভিযোগের তদন্ত চেয়ে ১৭ জুন উপপরিচালক দুদক রংপুর, মন্ত্রী, মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক মন্ত্রণালয়, মন্ত্রী, কৃষি মন্ত্রণালয়, চেয়ারম্যান, দুদক, মহাপরিচালক জাতীয় গোয়েন্দা অধিদপ্তর, মহাপরিচালক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ঢাকা ও অতিরিক্ত পরিচালক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রংপুর বিভাগ রংপুর বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এটি আমার পারিবারিক বিষয়। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই।’ 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রংপুর অঞ্চল রংপুরের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘ওই উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার চাকরি আমার সময় হয়নি। বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

মুক্তিযোদ্ধা সনদ চাকরি

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0244 seconds.