• বাংলা ডেস্ক
  • ০৮ জুলাই ২০১৯ ২০:৫১:১৪
  • ০৮ জুলাই ২০১৯ ২০:৫৯:০৫
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

স্ত্রী গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় যা বললেন কাজী শোয়েব

ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী কাজী ফিরোজ রশীদের পুত্রবধূ মেরিনা শোয়েব। রবিবার রাতে ফিরোজের ছেলে কাজী শোয়েবের লাইসেন্স করা পিস্তলের গুলিতে ধানমন্ডি ৯/এ নম্বর বাসায় আহত হন তিনি।   

কিন্তু কীভাবে মেরিনা শোয়েব গুলিবিদ্ধ হলেন তা নিয়ে চলছে জনমনে নানা ধরণের প্রশ্ন। এ বিষয়ে কাজী শোয়েবের সাথে কথা বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আমাদের সময় অনলাইন।

গুলি লাগার বিষয়ে কাজী শোয়েব বলেন, ‘আমি সেটা জানতে পারি নাই। আমার মেয়ে যেটা বলছে, সেটা হলো যে, ওরা আওয়াজ পেয়ে রুমে ঢুকে দেখে, ও (মেরিনা শোয়েব) পড়ে আছে, হাতের কাছে পিস্তলটা।’

পিস্তল প্রসঙ্গে শোয়েব বলেন, ‘ওটা আমার লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র। কালকে হরতাল ছিলো বিধায় আমি পিস্তলটা আলমারিতে রেখে বের হইছি। তারপর আর কিছু জানি না।’

পুত্রবধু মেরিনা গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে কাজী ফিরোজ সংসদ ভবন থেকে এসে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান বলে জানান কাজী শোয়েব।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সে (মেরিনা শোয়েব) হাসপাতালে যাওয়ার ২৩ মিনিট পরে আমি বাসায় আসছি। এসে আমি আমার ছেলেকে নিয়ে চলে গেছি। সেই ফুটেজ আছে। আমার বাবা সংসদে ছিলেন, উনি এসে নিয়ে গেছেন আমার স্ত্রীকে।’

মেরিনা গুলিবিদ্ধ হওয়ার সময় বাসায় কারা ছিলেন, এর জবাবে কাজী শোয়েব বলেন, ‘বাসায় আমার ছেলেমেয়ে ছিল, আমার মা ছিল। আমার ছোট ভাই ছিল, সে উপরে থাকে। আর বাসায় কাজের মেয়ে ছিল ৩ জন।’

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের (ধানমন্ডি জোন) অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) আবদুল্লা আল-কাফী বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো মেয়ের বাবা বা কেউ লিখিত কোনো অভিযোগ দেয়নি। এটা প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার চেষ্টা বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

মেরিনার শরীরে গুলি লাগার স্থান বিষয়ে জানতে চাইলে ল্যাবএইড হাসপাতালের এজিএম (করপোরেট কমিউনিকেশন) সাইফুর রহমান লেনিন বলেন, ‘গুলিটি পিঠের দিক থেকে লেগে পেটে রয়েছে।’ কিন্তু  গুলি পেটের দিক থেকে লেগেছে লেগেছে বলে চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে এমন দাবি করেন কাজী শোয়েব।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, “আপনি কনফার্ম হোন। সে (মেরিনা শোয়েব) পেট ধরে বাসা থেকে বের হয়েছে, ব্যান্ডেজ পেটে ছিল। সিসিটিভি ফুটেজ আছে আমার কাছে। ডাক্তার বলেছেন, ‘গুলিটা পেটে ঢুকেছে, পিঠে লেগে আছে। পেছন পর্যন্ত গেছে, চামড়াটা ফুটা করে বের হয়নি।’ পেছন দিয়ে ঢুকলে তো পেট ফুটা করে বের হয়ে যেত।”

ধানমন্ডি জোনের এডিসি আবদুল্লা আল-কাফীও বলেন, ‘গুলিটা সামনে থেকে লাগছে। গুলিটা বের হয় নাই।’ 

মেরিনা শোয়েব মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন বলে দাবি করে কাজী শোয়েব বলেন, ‘সে মেন্টালি ডিপ্রেসড ছিল। সে বলতো, আত্মহত্যা করবে। আমাকে প্রায়ই বলত, সে ছাদ থেকে করবে (আত্মহত্যা)। আমার বাচ্চাদেরকেও প্রায়ই বলত। আমার বাচ্চা যদি বলতো, মা স্কুলে যাবো, নিয়ে যাও, নাস্তা বানিয়ে দাও। তখন সে বলতো, আত্মহত্যা করব। এটা আমার মেয়ে গতকাল মন্তব্য করছে।’

কাজী শোয়েব জানান, মেরিনার সঙ্গে তার ২০১৬ সালে বিচ্ছেদ হয়েছে। কিন্তু তারপরও তিনি শোয়েবের বাসায় আসতেন ও থাকতেন।  গতকাল তার বাসাতেই গুলিবিদ্ধ হন মেরিনা।

বিবাহ বিচ্ছেদের পর মেরিনার বাসায় আসার বিষয়ে কাজী শোয়েব বলেন, ‘আমি কখনো বাধা দেইনি বাসায় আসতে। আমার বাচ্চাদের জন্য আমি বাধা দেইনি। কারণ তাহলে তো সে আসতেই পারত না ডিভোর্সের পরে। মানসিক একটা চাপ বাচ্চাদের ওপর পড়ুক, সেটা আমি চাইনি। এইটাই আমার ভুল হয়েছে।’

বাংলা/এনএস

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0209 seconds.