• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০৮ জুলাই ২০১৯ ১৮:৫৩:১৯
  • ০৮ জুলাই ২০১৯ ১৯:০১:৪৪
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

নারী সার্জেন্টদের বিব্রতকর বিড়ম্বনা

ছবি : সংগৃহীত

সব কর্মক্ষেত্রেই নারীর পদচারনা দিন দিন বেড়েই চলছে। নারীরা শুধু এখন ঘরের কাজের জন্য নয়, কর্মক্ষেত্রেও দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে। যে কাজ পুরুষের পক্ষেই যখন সামলাতে কষ্ট হয় সেখানেও সক্ষমতার পরিচয় দিচ্ছে নারীরা। রাজধানীসহ সড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণের কাজে এখন নিয়মিতই দেখা যাচ্ছে নারী সার্জেন্টদের।

তবে নারী সার্জেন্টদের কিছু বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। যা তাদের কাজে ব্যঘাত ঘটাচ্ছে। সড়কে আট ঘণ্টা টানা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দেওয়ার মতো কোনো ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি নারী সার্জেন্টদের জন্য। ফলে প্রতিদিন বিড়ম্বনায় পড়ছেন তারা। পুরুষকর্মীরা আশপাশের মসজিদ বা মার্কেটে যেতে পারলেও নারী সার্জেন্টদের ক্ষেত্রে তা সম্ভব হয়ে ওঠে না।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বারবার এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানালেও কোনো সুরাহা হচ্ছে না বলে জানা গেছে।

ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত দুই শিফটে পুরুষ পুলিশের পাশাপাশি কাজ করেন নারী ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা। রাত ১১টার পর তাদের দায়িত্ব দেয়া হয় না সচরাচর।

নারী সার্জেন্টরা বলছেন, আট ঘণ্টা কাজ করতে গিয়ে দু-তিনবার টয়লেটে যাওয়ার চাপ তৈরি হয়। কিন্তু বেশিরভাগ ট্রাফিক পয়েন্টে কোনো টয়লেট নেই। প্রাকৃতিক কাজটি সারতে আশপাশের বাসের কাউন্টার, সরকারি অফিস, বড় বিপণিবিতান বা বাসাবাড়ির দারোয়ানের টয়লেটে যেতে হয়। বিশেষ করে বাসাবাড়িতে ঢুকতে হয় অনুনয়-বিনয় করে।

রাজধানীর শ্যামলী শিশুমেলার মোড়ে কথা হয় কর্তব্যরত নারী সার্জেন্ট লিমা চিশিমের সঙ্গে। ময়মনসিংহের লিমা চিশিম ববলেন, ‘রাস্তায় দাঁড়িয়ে সারা দিন ডিউটি করতে হয় বলে ধুলাবালির কারণে প্রায় সময় সর্দিকাশি লাগে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের। এটা এখন স্বাভাবিক হয়ে হয়ে গেছে তাদের জন্য। কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা পুলিশ বক্সগুলোতে টয়লেট নেই। বিশেষ করে নারী সদস্যদের জন্য এটা মহা বিড়ম্বনার। আজ একজনের টয়লেটে কাল আরেকজনের টয়লেটে যেতে হয় প্রয়োজন সারার জন্য। যত অসুবিধা থাকুক, এর মধ্যেই আমাদের কাজ করতে হয়।’

পুলিশ বাহিনীতে নারী সার্জেন্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০১৪ সালে। সবশেষ সার্জেন্ট পদে নিয়োগের পরীক্ষায় অংশ নেন এক হাজার ৮৩৭ জন।

সোহরাওয়ার্র্দী হাসপাতালের সামনের পুলিশ বক্সে কথা হয় সার্জেন্ট ইসমত তারার সঙ্গে। দিনাজপুর সরকারি কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করে বাহিনীতে যোগ দিয়ে এখন মোহাম্মদপুরে জোনে কর্মরত। তিনিও নারী ট্রাফিক সার্জেন্টের প্রথম ব্যাচের সদস্য। রাস্তায় ডিউটি করতে প্রথম দিকে অসুবিধা হলেও পরে সেটা সয়ে গেছে।

তবে টয়লেটের সমস্যাটি ভোগায় ইসমতকে। তিনি বলেন, ‘ট্রাফিক পুলিশের জন্য আলাদা টয়লেটের ব্যবস্থা থাকলে ভালো হতো। দায়িত্ব পালনের জন্য সুবিধা হতো। সমস্যাটি আমাদের মিটিংয়ে আলোচনা হয়েছে। স্যাররা বলেছেন, তারা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন।’

রমনা থানা, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, শেরেবাংলা নগর থানা এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের বুথগুলোতে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা আছে কমই। কোনোটাতে নেই ফ্যান-লাইট পর্যন্ত। প্রচণ্ড দাবদাহ পরিবেশে কাজ করতে গিয়ে হাঁপিয়ে উঠতে হয় তাদের।

একজন সার্জেন্ট বলেন, ‘প্রথম তিন-চার মাস লজ্জায় টয়লেট ব্যবহার না করেই অনেক কষ্টে ডিউটি করেছি। পরে অবশ্য অভ্যস্ত হয়ে গেছি। অফিস বা মার্কেটে যাওয়া শুরু করি এরপর। তবে শুক্র ও শনিবার অফিস ভবন বন্ধ থাকলে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়।’

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মফিজউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এই সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে। তবে আমাদের যেসব পুলিশ বক্স আছে সেগুলো রাস্তার পাশে এবং সিটি করপোরেশনের জায়গায় তৈরি। তাছাড়া বক্সগুলোতে বাথরুম তৈরির মতো জায়গা নেই। আবার বাথরুম তৈরি করলে সেটার আবর্জনা, পানি ব্যবস্থা ও অন্যান্য বিষয় রয়েছে। এখন নারী সদস্যদের ডিউটি দেয়া হয় আশপাশে থানা ও সরকারি অফিস আছে, এমন জায়গা দেখে।’

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0169 seconds.