• বাংলা ডেস্ক
  • ০৮ জুলাই ২০১৯ ১৮:২৩:৫৯
  • ০৮ জুলাই ২০১৯ ১৮:২৩:৫৯
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

পিতা-পুত্রেই লোপাট ব্যাংকের ৩০০ কোটি টাকা

প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড এলাকায় স্ক্র্যাপের ব্যবসা করতেন মেসার্স তানিয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আবুল কালাম হাবিব। জাহাজ ভাঙা শিল্পের সুদিনে ২০১০ সালের দিকে তিনিও ঢুকে পড়েন এ খাতের ব্যবসায়। ব্যবসার শুরুতেই বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নেন বড় অংকের ঋণ সুবিধা। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে জাহাজ ভাঙা শিল্পে ধস নামলে বেকায়দায় পড়েন। সেই থেকে ব্যাংকের কোনো টাকা ফেরত দেননি এ ব্যবসায়ী।

তবে তার প্রতিষ্ঠানের নামে নেয়া এসব ঋণ খেলাপির তালিকায় পড়ে গেলে নতুন করে ঋণ নেন ছেলেকে দিয়ে। ছেলের নামে গড়ে তোলা মেসার্স শাহেদ শিপ ব্রেকার্সের ঋণগুলোও বর্তমানে খেলাপি হয়ে পড়েছে। পিতা-পুত্রের কাছে বর্তমানে বিভিন্ন ব্যাংকের পাওনা ৩০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলে বণিক বার্তা’র এক প্রতিবেদনে উঠে আসে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয় সংসদে সদ্য প্রকাশিত ঋণখেলাপির তালিকায় ৫০ নম্বরে আছে তানিয়া এন্টারপ্রাইজের নাম। তালিকায় আবুল কালাম হাবিবের এ প্রতিষ্ঠানটির খেলাপি ঋণ দেখানো হয়েছে ২১২ কোটি টাকা। ৭২ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ নিয়ে তালিকার ২৭৭ নম্বরে রয়েছে তার ছেলের প্রতিষ্ঠান শাহেদ শিপ ব্রেকার্স। শাহেদ শিপ ব্রেকার্সের স্বত্বাধিকারীর নাম শাহেদ মিয়া।

পাওনাদার ব্যাংকের তথ্যমতে, সংসদে প্রকাশ করা তালিকায় আবুল কালাম হাবিব ও তার ছেলের মোট খেলাপি ঋণ দেখানো হয়েছে ২৮৪ কোটি টাকা। প্রকৃতপক্ষে পিতা-পুত্র মিলে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে এ পর্যন্ত ৩০০ কোটি টাকার বেশি লোপাট করেছেন। পাওনাদার ব্যাংকগুলোর কাছে আবুল কালাম হাবিব ব্যাংক মারোয়া (ব্যাংকের টাকা আত্মসাত্কারী) হাবিব নামেও পরিচিত।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবুল কালাম হাবিব ও তার ছেলের কাছে আইএফআইসি ব্যাংক শেখ মুজিব রোড শাখার ১০৩ কোটি টাকা, এবি ব্যাংক পোর্ট কানেক্টিং রোড শাখার ১০০ কোটি, পদ্মা ব্যাংক (সাবেক ফারমার্স ব্যাংক) খাতুনগঞ্জ শাখার ৪৬ কোটি, রূপালী ব্যাংক স্টেশন রোড শাখার ১৩ কোটি টাকা ছাড়াও প্রাইম ব্যাংক পাহাড়তলী শাখা ও ইউসিবিএল হাটহাজারী শাখার বড় অংকের পাওনা রয়েছে।

এবি ব্যাংক পোর্ট কানেক্টিং রোড শাখার তথ্যমতে, ২০১১ সালের মেসার্স তানিয়া এন্টারপ্রাইজের নামে ঋণ সুবিধা গ্রহণ করেন আবুল কালাম হাবিব। পরে তা শ্রেণীকৃত হয়ে পড়লে মেসার্স শাহেদ শিপ ব্রেকার্সের নামে ঋণ নেন তার ছেলে শাহেদ মিয়া। শিপ ব্রেকিং খাতে ব্যবসা করতে ঋণ নিলেও ঋণের টাকায় ব্যবসা না করে জমি কিনেছেন তিনি। কিন্তু দীর্ঘ নয় বছরেও ফেরত দেননি ঋণের সেই টাকা। বর্তমানে বাপ-ছেলের দুই প্রতিষ্ঠানের কাছে এবি ব্যাংকের মোট পাওনা ১০০ কোটি টাকার বেশি।

এবি ব্যাংক পোর্ট কানেক্টিং রোড শাখার ব্যবস্থাপক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘দীর্ঘদিনেও ঋণের টাকা ফেরত না পাওয়ায় ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠান দুটির কর্ণধার আবুল কালাম হাবিব ও তার ছেলে শাহেদ মিয়ার বিরুদ্ধে অর্থঋণ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু মামলা দায়েরের পরও ঋণের টাকা উদ্ধার নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে। কারণ এ বিশাল অংকের ঋণের বিপরীতে প্রতিষ্ঠান দুটির ব্যাংকের কাছে রাখা বন্ধকি সম্পত্তির পরিমাণ খুবই কম। বর্তমানে এ ঋণ রাইট অফ করে রাখা হয়েছে।’

এদিকে আইএফআইসি ব্যাংক শেখ মুজিব রোড শাখার দেয়া তথ্যমতে, ২০০৯ সালে আইএফআইসি ব্যাংক শেখ মুজিব রোড শাখার সঙ্গে ব্যবসা শুরু করে তানিয়া এন্টারপ্রাইজ। এরপর গোল্ডেন কনডেনসেট অয়েল ফ্যাক্টরির নামেও ঋণ নেন আবুল কালাম হাবিব। কিন্তু গত ১০ বছরেও সেই ঋণের টাকা পরিশোধ করেননি সীতাকুণ্ড এলাকার এ স্ক্র্যাপ ব্যবসায়ী। বর্তমানে প্রতিষ্ঠান দুটির কাছে আইএফআইসি ব্যাংকের মোট পাওনা ১০২ কোটি ৫৩ লাখ ৪৬ হাজার ২৬৫ টাকা।

আইএফআইসি ব্যাংক শেখ মুজিব রোড শাখার ব্যবস্থাপক শাহাদত কবির (রাসেল) এ বিষয়ে বলেন, ‘ঋণের টাকা উদ্ধারে ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠান দুটির কর্ণধারের বিরুদ্ধে অর্থঋণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া আমাদের কাছে বন্ধক রাখা সম্পত্তি অন্য একটি ব্যাংকে বন্ধক দেয়ায় একটি প্রতারণার মামলাও করা হয়েছে। কিন্তু অর্থঋণ আদালতের মামলাটিতে উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়ে এসেছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার।’

ব্যাংকটির তথ্যমতে, শতকোটি টাকা ঋণের বিপরীতে আইএফআইসি ব্যাংকের কাছে তানিয়া এন্টারপ্রাইজের গোল্ডেন কনডেনসেট অয়েল কারখানা, শিপ ইয়ার্ড এবং পটিয়া এলাকার কিছু জায়গা বন্ধক রাখা হয়েছে। তবে কনডেনসেট অয়েল কারখানাটি আরো একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে বন্ধক রাখায় ওই পাওনাদার ব্যাংক কারখানাটি দখল করে নিয়েছে। ফলে এ মুহূর্তে ঋণের বিপরীতে ব্যাংকের কাছে প্রতিষ্ঠানটির বন্ধকি সম্পত্তির পরিমাণ খুবই কম।

২০১৫ সালে রূপালী ব্যাংকের স্টেশন রোড শাখা থেকেও ঋণ সুবিধা নেয় মেসার্স তানিয়া এন্টারপ্রাইজ। প্রথম দিকে কিছু টাকা পরিশোধও করে। তবে কয়েক মাস পর ঋণের কিস্তি বন্ধ করে দেয়। এরপর বিভিন্ন মেয়াদে টাকা পরিশোধের কথা বলে কয়েকটি ব্যাংকের চেক দেয়। কিন্তু সেই চেকগুলো অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে ডিজঅনার হয়। বিভিন্ন সময় ঋণের টাকা ফেরত দেয়ার কথা বলে ব্যাংকের সময়ক্ষেপণ করে আবুল কালাম হাবিব। ব্যাংকের প্রায় ১৩ কোটি টাকা পাওনা আদায়ে প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার হাবিবের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত চারটি চেকের মামলা ও একটি অর্থঋণ মামলা করেছে রূপালী ব্যাংকের স্টেশন রোড শাখা। তবে এ মামলার বিপরীতে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে এসেছেন হাবিব।

এ ব্যপারে শাহেদ মিয়া বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে পুরনো জাহাজ ও স্ক্র্যাপের দরে উত্থান-পতনে বড় লোকসান হয়েছে। তাছাড়া কনডেনসেট কারখানাটিও অল্প সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক টাকা ব্যবসায় আটকে গেছে। আমরা কনডেনসেট কারখানাটি পুনরায় চালু করে ব্যাংকের পাওনাগুলো নিয়মিত করার চেষ্টা করছি।’

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

চট্টগ্রাম ঋণ খেলাপি

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0198 seconds.