• বাংলা ডেস্ক
  • ০৭ জুলাই ২০১৯ ১৫:৫৮:৪৬
  • ০৭ জুলাই ২০১৯ ১৫:৫৮:৪৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

চিকিৎসা সরঞ্জাম কিনতেও লাগাম ছাড়া দুর্নীতি

ছবি : সংগৃহীত

এবার ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরোসায়েন্সস ও হাসপাতালের (এনআইএনএইচ) চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনাকাটায় লাগামছাড়া দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোনো কোনো পণ্য কেনা হয়েছে প্রায় ৫০গুন বেশি দামে। কার্যালয় নেই, ভরসা শুধু ফোন নম্বর- এমন প্রতিষ্ঠানই পেয়েছে প্রায় সাত কোটি টাকার কাজ। এদিকে ঘটনা তদন্তে এরইমধ্যে কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে হাসপাতালটির চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনাকাটায় এমন অবিশ্বাস্য দুর্নীতির তথ্য উঠে আসে চ্যালেন টুয়েন্টিফোর এর এক প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাতকোটি টাকার ২০০টি পণ্যের মধ্যে বেশকিছু কেনা হয়েছে বাজার মূল্যের চেয়ে প্রায় ২০ থেকে ৫০ গুন বেশি দামে।

১. ১৩০ টাকা বাজার মূল্যের ক্যাথার মাউন্ট কেনা হয়েছে চার হাজার টাকা করে। মানে ৬৫ হাজার টাকার পণ্য কেনা হয়েছে ২০ লাখ টাকা দিয়ে। আর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমএইচআর সামগ্রীর মূল্য তালিকায় এর দাম ৬৬টাকা। সে অনুযায়ী ৩৩ হাজার টাকার পণ্য কেনা হয়েছে ২০ লাখ টাকায়।

২. এইচ এম ই ফিল্টার। চারহাজার টাকা করে কেনা এই পণ্যটি বাজারে বিক্রি হয় ১৪০ টাকায়। ২০ লাখ টাকায় কেনা হয়েছে ৭০ হাজার টাকার জিনিস।

৩.  ২০০টি সিভিপি মনোমিটারের কেনা হয়েছে ১১লাখ ৬০ হাজার টাকায়। ২১৮ টাকার পণ্য হয়ে গেছে ৫হাজার ৮০০টাকা।

দুই ধাপে কেনা পণ্যগুলোর মধ্যে ১৫ থেকে ২০টি পণ্যের ক্ষেত্রে হয়েছে এমন তুঘলকি কান্ড।
পণ্যের টেন্ডারের দাম বাস্তবের সাথে মেলাতে বাজারে যাবার পর ব্যবসায়ীরাও আতক উঠলেন সব শুনে।
এবার জানা দরকার, কোন সেই প্রতিষ্ঠান, যারা সররবাহ করলো সরঞ্জামগুলো।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, টেন্ডারে অংশ নেয়া ৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভিক্টোর ও এবি ট্রেডিং করপোরেশন নামের দুটি প্রতিষ্ঠান পেয়েছিলো ৬৩ কোটি টাকার এই টেন্ডার। কাগজপত্রে দেয়া ঠিকানার সাথে বাস্তবের মিল আকাশ-পাতাল। এমন কোন নামই শোনেনি এবি করপোরেশন ঠিকানার ভবনের লোকজন।

আরো বিস্ময় ভিক্টর ট্রেডিংয়ের ঠিকানায় যেয়ে। এমন কোন হোল্ডিং নম্বরই নেই আগারগাঁও এলাকায়। তবে মজার বিষয় হচ্ছে দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিক একই ব্যক্তি। শুধু ফোন নম্বরই যার ভরসা। দেখা করতে চাওয়ার পর কেটে গেলো তার ফোন।

তবে, হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, সরকারি ক্রয়বিধি মেনেই কেনাকাটা করেছেন তারা।

বিষয়টি নজরে আনার পর নিয়ম বহির্ভুত বিষয় খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন স্বাস্থ্য সচিব।

এবারের বাজেটে সরকারের স্বাস্থ্য খাতে মোট বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২৫,৭৩২ কোটি টাকা। যার মধ্যে বেতন ভাতা বাদ দিলে উন্নয়ন ব্যয় আনুমানিক ১২,২৬৭ কোটি টাকা।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0173 seconds.