• ০৭ জুলাই ২০১৯ ১১:৪৯:০৮
  • ০৭ জুলাই ২০১৯ ১২:৩১:১০
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

ছাত্রদলের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত: মুতাছিম বিল্লাহ

মোঃ মুতাছিম বিল্লাহ। ছবি : সংগৃহীত

চলতি মাসের ১৫ তারিখ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠন জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের। এতে শীর্ষ দুই নেতা নির্বাচিত হবেন গণতান্ত্রিক পন্থায়। আসন্ন কাউন্সিলকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। নতুন কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের প্রথম সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ মুতাছিম বিল্লাহ।  ২০০৫-২০০৬ সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতিতে পরিচিত হয়ে উঠেছেন নিজ যোগ্যতায়। কাউন্সিলকে সামনে রেখে কথা বলেছেন আফনান বারাকাতের সঙ্গে।

আফনান বারাকাত : জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে আসার শুরুটা জানতে চাই।

মুতাছিম বিল্লাহ : রাজনীতির শুরুটা স্কুল জীবন থেকেই। আমার পরিবার জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সমর্থক হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই ভালোবাসা ছিল, সহমর্মিতা ছিল। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরে হলগুলোতে ছাত্রদলের ভাইদের সরব পদচারণা দেখে রাজনীতির সাথে সরাসরি যুক্ত হই। আপনি নিশ্চয় জানেন, যে দল ক্ষমতায় থাকে সে দলের ছাত্র রাজনীতি করার মাধ্যমে ছাত্রদের জন্য কাজ করার সুযোগ বেশি থাকে। আমি সে সময় এস,এম হল ছাত্রদলে যুক্ত থেকে সাধারণ ছাত্রদের জন্য কাজ করেছি।

আফনান বারাকাত : এখন পর্যন্ত কী কী দায়িত্ব পালন করেছেন?

মুতাছিম বিল্লাহ : বিএনপি দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকার কারণে বিভিন্ন ইউনিট এবং হলগুলোতে একটি বন্ধ্যাত্ব ছিল। আমি আমার দীর্ঘ ছাত্র রাজনীতির জীবনে ১০ বছর পরে একটি কমিটি পেয়েছি। যে কমিটিতে এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের প্রথম সহ-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি।

আফনান বারাকাত : ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে শীর্ষ নেতৃত্বের বয়সসীমা বেধে দেওয়া হয়েছে। এটি নিয়ে অনেকেই বিক্ষোভে নেমেছেন। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন আপনি?

মুতাছিম বিল্লাহ : আমি পজিটিভলিই নিচ্ছি। আমাদের যে বড় ভাইয়েরা আন্দোলন করছেন তাদের হাত ধরেই আমরা রাজনীতিতে এসেছি। দলের তাদের অবদান আছে। বিএনপি এ বিষয়টিকে পজিটিভলি নিয়ে তাদেরকে মূল্যায়ণ করবে বলে আশা করছি। মূল দলের বাইরেও অন্য সংগঠনগুলোতে তাদের মূল্যায়নের সুযোগ আছে।

আফনান বারাকাত : অনেকেই মনে করছেন, শীর্ষ নেতা হওয়ার দৌড়ে আপনি এগিয়ে। আপনি চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত?

মুতাছিম বিল্লাহ : অবশ্যই আমি চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সমৃদ্ধ ইতিহাস-ঐতিহ্য আছে। ছাত্রদলের হাত ধরেই স্বৈরাচার হটানোর আন্দোলন সফল হয়েছিল। আমি মনে করি বর্তমানেও এমন একটি ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এই আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারকে হটানোর মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল তার হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করতে পারে।

আফনান বারাকাত : এবার তো শীর্ষ দুই নেতা ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন। তৃণমূলের নেতাদের সাড়া কেমন পাচ্ছেন?

মুতাছিম বিল্লাহ : আমি ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন ইউনিটের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। তারা আমার প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন। আর কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে দলে উৎসব বিরাজ করছে। তৃণমূলের নেতারা বিষয়টি ইনজয় করছেন।

আফনান বারাকাত : আপনি যদি শীর্ষ  নেতা নির্বাচিত হন, তাহলে রুটিন ওয়ার্কের বাইরে ছাত্রদলকে গতিশীল করতে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা?

মুতাছিম বিল্লাহ : আমি প্রথমেই বলেছি, আমি ছাত্র রাজনীতিতে এসেছি সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করতে। আমি মনে করি, শুধু ক্ষমতায় থেকেই নয়, ক্ষমতার বাইরে থেকেও শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক কাজ করা যায়। ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন যেভাবে ফ্যাসিস্ট আচরণ করছে, আজকে ক্যাম্পাসগুলোতে সহাবস্থান নেই। এ পরিস্থিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে আমাদের দাড়াতে হবে। যে কোন  ইউনিট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর্মসূচিতে দিবে হবে। যেকোন বিশ্ববিদ্যালয় সে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা অনুযায়ী কর্মসূচি দিবে। এর বাইরে কেন্দ্রীয়ভাবে শিক্ষার্থীবান্ধব,জীবনমুখী কর্মসূচি পালন করতে হবে। আমি মনে করি, পরিকল্পনামাফিক শিক্ষার্থীদের পক্ষে দাড়াতে পারলে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব। আমি নেতা নির্বাচিত হলে, এ চ্যালেঞ্জ আমি নিতে প্রস্তুত।

আফনান বারাকাত : বর্তমান সময়ে জাতীয় রাজনীতির সার্বিক পরিস্থিতি কেমন দেখছেন?

মুতাছিম বিল্লাহ : দীর্ঘদিন থেকে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার যেভাবে সাধারণ মানুষের উপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে তাতে দেশ ভয়াবহ রুপ ধারণ করেছে। সরকার দেশ সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারছে না, দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নাজুক পরিস্থিতি এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে উজ্জীবিত করার মধ্য দিয়ে আজকের এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব।

আফনান বারাকাত : আপনাকে ধন্যবাদ।

মুতাছিম বিল্লাহ : আপনাকেও ধন্যবাদ

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0199 seconds.