• বিদেশ ডেস্ক
  • ০৬ জুলাই ২০১৯ ২২:৫৮:৩০
  • ০৬ জুলাই ২০১৯ ২২:৫৮:৩০
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

বিতর্ক সত্ত্বেও তুতানখামেনের চোরাই মূর্তি নিলামে বিক্রি

ছবি : সংগৃহীত

মিশরের বালক রাজা হিসেবে পরিচিত তুতানখামেনের আবক্ষ একটি চোরাই মূর্তি লন্ডনে প্রায় ৬০ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছে। ৩ হাজার বছরের পুরনো এই মূর্তি বিক্রির ব্যাপারে মিশর সরকারের তীব্র আপত্তিকে উপেক্ষা করে এটি নিলামে তোলা হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডনে ক্রিস্টি নিলাম হাউজ এই চোরাই মূর্তিটি বিক্রির জন্য নিলামে তোলে।  মিশর সরকারের দাবি ছিল, এটি চুরি করে দেশের বাইরে পাচার করা মূল্যবান একটি মূর্তি। এর সঙ্গে দেশটির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য জড়িয়ে রয়েছে। সুতরাং এটিকে যেন কোনভাবেই নিলামে তোলা না হয়।

তুতানখামেনের মূর্তিটি নিলামে তোলার একদিন আগে মিশরের পররাষ্ট্র এবং প্রত্নতত্ত্ব মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এক বিবৃতি প্রকাশ করে। এতে এ ধরনের ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের জন্য ক্রিষ্টির নিন্দা জানানো হয়।

এই বিবৃতিতে বলা হয়, ১১ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের বাদামী রঙের কোয়ার্টজ পাথরের তৈরি ফারাও মূর্তিটির মালিকানা যাচাই করতে সক্ষম হয়নি ক্রিষ্টি নিলাম হাউজ। প্রসঙ্গত, ফারাও তুতানখামেনই মিশরের বালক রাজা হিসেবে বিশ্বখ্যাত।

মিশরের প্রত্নতত্ত্ব মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী জাহি হাওয়াস শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এখানে আদৌ কোন নৈতিকতা কাজ করছে না। ক্রিষ্টির কাছে এমন কোন প্রমাণ নেই যে তারা বলত পারে, তুতানখামেনের আবক্ষ এই মূর্তিটি মিশর থেকে বৈধভাবে লন্ডনে গেছে। এমনকি তারা মূর্তিটির বৈধতা প্রমাণ করে এমন কোন কাগজ আমাদের দেখানোর জন্য প্রস্তাবও করেনি।’

যেদিন তুতানখামেনের মূর্তি নিলামে বিক্রি হলো সেইদিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবারকে তিনি ক্রিষ্টির জন্য কাল দিবস বলে উল্লেখ করেন।

এদিকে ক্রিষ্টি নিলাম হাউজ এক বিবৃতিতে জানায়, মূর্তিটির আইনগত বৈধতা নিয়ে যদি সত্যিই কোন প্রশ্ন থাকতো তাহলে তারা এধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতো না। বরং সবকিছু যাচাই করে যখন প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত হয়েছে, এটি বৈধভাবেই এসেছে তখনই তারা এর নিলাম আয়োজন করে। এছাড়া ঐতিহাসিক সামগ্রী বিক্রির ক্ষেত্রে অতীতে বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় তারা তুতানখামেনের মূর্তি বিক্রির ব্যাপারে আইনগত বিভিন্ন দিক নিয়ে শুরু থেকেই সচেতন ছিল।

অবশ্য মিশরীয় সরকার ক্রিষ্টির বিবৃতিতে সন্তুষ্ট নয়। জাহি হাওয়াস জানান, আগামী সপ্তাহে মিশরের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কর্মকর্তাসহ ওই বিভাগের বর্তমান মন্ত্রী লন্ডনে যাবেন। তারা তুতানখামেনের মূর্তি ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সেখানে মামলাও করবেন।

তবে যে মূর্তি বিক্রি নিয়ে এতো ঝামেলা সেটি প্রায় ৬০ লাখ ডলার দিয়ে যে কিনে নিয়েছে তার নাম প্রকাশ করেনি ক্রিষ্টি নিলাম হাউজ।

বাংলা/এফকে

 

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0197 seconds.