• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০৬ জুলাই ২০১৯ ২১:৫০:২০
  • ০৬ জুলাই ২০১৯ ২১:৫০:২০
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

ধর্ষণের পর ছাত্রীদের কোরআন ছুঁয়ে শপথ করাতেন অধ্যক্ষ বেলালী

অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল খায়ের বেলালী। ছবি : সংগৃহীত

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় ছাত্রীদের ধর্ষণের পর কোরআন শরীফ ছুঁয়ে শপথ করাতেন অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল খায়ের বেলালী। যেনো  এ ঘটনা বাহিরে অন্য কাউকে না বলে। শনিবার মধ্যরাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো: শাহজাহান মিয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাসের এমন তথ্য দেন।

ওই অভিযুক্ত শিক্ষক আদালতে তার দোষ স্বীকার করেছেন বলে জানান এসপি শাহাজাহান মিয়া। একই দিনে ফেসবুকে তার দ্বিতীয় স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানান।

তার প্রথম ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো- ‘কি লিখব আর কিভাবে লিখব, ভাষা পাচ্ছি না। তিনি একজন দাওরায়ে হাদীস, (সিলেট বালুরচর কওমী মাদ্রাসা হতে) মাওলানা, একজন বক্তা, একজন ইমাম, শুক্রবারে জুমআর নামাজের খতিব। মাওলানা(!!!) আবুল খায়ের বেলালী। শুক্রবারে তার বয়ান শুনার জন্য আধা ঘন্টা আগে মুসল্লীগণ এসে অপেক্ষা করেন মসজিদে।

কেন্দুয়ার আঠারবাড়ি এলাকায় মা হাওয়া (আ:) কওমী মহিলা মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক (মুহতামিম) যে মাদ্রাসায় রয়েছে প্রায় ৩৫ জন অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছাত্রী যাদের ১৫ জন আবাসিক। সেখানে তিনিও আবাসিক। সময় সুযোগ বুঝে তিনি কলিংবেল চাপেন আর ওনার পছন্দমত একজন কোমলমতি ছাত্রীর ডাক পরে তার গা-হাত-পা টিপে দেবার জন্য।

আর এক পর্যায়ে তিনি সেই অবুঝ শিশুদের উপর ঝাপিয়ে পরেন,(. . . . .) এবং শেষে আবার কোরআন শরীফ হাতে দিয়ে শপথ করান কাউকে কিছু না বলার জন্য, বললে কিন্তু আল্লাহ তোমাকে দোযখের আগুনে পোড়াবেন। ভয়ে কোমলমতি ছাত্রীরা কাউকে কিছু বলেন না।

কিন্তু আজ এক সাহসী বীরাঙ্গনা সেই ভয়ের সঙ্গে যুদ্ধ করে জয়ী হয়, বলে দেয় তার বড় বোন সহ বাড়ির সবাইকে সেই যন্ত্রনার মুহুর্ত গুলোর কথা। স্থানীয় এলাকাবাসীর সহায়তায় আটক হন সেই হুজুররূপী ধর্ষক। থানায় আটক থাকা অবস্থাতেই আরো একজন শিশুশ্রেনীর ছাত্রীর অভিযোগ জমা পড়ে। দুইটি ধর্ষণ মামলা হয়েছে তার নামে (কিছু অনলাইন পত্রিকায় ধর্ষণের চেষ্টার কথা বলা হয়েছে)।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাই, গত একবছরে আরো মোট ৬ জন ছাত্রীর সাথে তিনি অনুরূপ কুকর্ম করেছেন যাদের সবারই বয়স ৮ থেকে ১১ এর মধ্যে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কিছু আলামত জব্দ করি সাথে সেই ”কলিংবেল” টি ও যা আদালতে উপস্থাপন করা হবে। হুজুরকে রিমান্ডে আনা হবে।’

তিনি দ্বিতীয় ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘কেন্দুয়ার সেই মহিলা কওমী মাদ্রাসার মুহ্তামিম বা প্রধান শিক্ষক মাওলানা আবুল খায়ের বেলালী দুইটি ধর্ষণ মামলাতেই ফৌজদারী কার্যবিধি (সিআরপিসি) ১৬৪ ধারা (নিজেকে জড়িয়ে দোষ স্বীকার করা) মোতাবেক ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে জবানবন্দী দিয়েছেন অর্থাৎ আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করেছেন। সেজন্য আর রিমান্ডের আবেদন আদালত মন্জুর করেনি। আদালত দুইজন ভিকটিমের বক্তব্য শুনেছেন এবং ২২ ধারা মোতাবেক তাদের বক্তব্য রেকর্ড করেছেন। আসামী আবুল খায়ের বেলালীকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, শুক্রবার (৫ জুলাই) মাদ্রাসা চলাকালীন সময় অধ্যক্ষ বেলালী ১০ বছরের এক ছাত্রীকে ডেকে তার অফিস রুমে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর পাশের ক্লাসে থাকা শিক্ষার্থীরা ওই ভুক্তোভোগী ছাত্রীর চিৎকার চেঁচামেচি শুনতে পায়। এ সময় বাকী শিক্ষার্থীরা এগিয়ে গেলে অধ্যক্ষের কুকর্ম দেখে ফেলেন। এ ঘটনাকে ঘিরে মাদ্রাসায় শুরু হয় তুলকালাম। পরে স্থানীয়রা ছুটে এসে ঘটনা জানতে পেরে অধ্যক্ষকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

বাংলা/এনএস

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0219 seconds.