• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০৪ জুলাই ২০১৯ ১৯:০৭:৫৯
  • ০৪ জুলাই ২০১৯ ১৯:০৭:৫৯
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

ডেঙ্গু নতুন ধরন সেরোটাইপ-৩, বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা

ছবি : সংগৃহীত

ডেঙ্গু জ্বরে বুধবার রাজধানীতে এক নারী চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. নিগার নাহিদ দিপু নামের ওই চিকিৎসক ১ জুলাই থেকে অসুস্থ ছিলেন। রক্তে প্লাটিলেটের দ্রুত ওঠা-নামার এক পর্যায়ে স্কয়ার হাসপাতালে মৃত্যু হয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ৩২ ব্যাচের এই ছাত্রীর।

এর আগে গত ২৫ এপ্রিল রাজধানীর বিআরবি হাসপাতালে ৫৩ বছর বয়সী এক নারী ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৯ এপ্রিল তিনি মারা যান। এছাড়া আসগর আলী হাসপাতালে গত ২৮ এপ্রিল ভর্তি হয়ে ৩২ বছর বয়সী এক যুবক একই দিন মারা যান।

এই তিন ডেঙ্গু রোগির মৃত্যুর কারণ ব্যাখ্যা করে চিকিৎসকরা বলছেন, এই তিনজনের রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গু পজিটিভ ধরা পড়ে। খুব ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় তারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এরা সবাই ডেঙ্গুর সর্বশেষ ধাপ সেরোটাইপ-৩ (শক সিনড্রোম) নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। গত বছর থেকেই দেশে ডেঙ্গুর এই নতুন টাইপ দেখা দিলেও সংখ্যাটা ছিলো কম।

কবে এবার সেরোটাইপ-৩ (শক সিনড্রোম) ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি বলে জানালেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ কে এম শামসুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘এতদিন বাংলাদেশে ডেঙ্গু সেরোটাইপ-১ ও সেরোটাইপ-২-এর প্রকোপ ছিল। প্রথমটি সাধারণ ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু। দ্বিতীয়টি ঝুঁকিপূর্ণ হেমোরেজিক (রক্তক্ষরণ) ডেঙ্গু। সাধারণত ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু রোগী দ্বিতীয়বার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে হেমোরেজিক ডেঙ্গু দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে রোগীর শরীরের ভেতর বা বাইরে রক্তক্ষরণ হয়। গত বছর থেকে ডেঙ্গুর নতুন ধরন (সেরোটাইপ-৩) দেখা দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে রোগীদের ইন্টারনাল রক্তক্ষরণের পাশাপাশি শক সিনড্রোম দেখা দেয়। এটা শুরুতেই জানা গেলে রোগীদের চিকিৎসায় এবং মৃত্যুঝুঁকি রোধে বিশেষ ভূমিকা রাখা সম্ভব।

এই চিকিৎসক জানান, শক সিনড্রোমের উপসর্গ হলো শ্বাস-প্রশ্বাসে অসুবিধা হওয়া কিংবা শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বেড়ে যাওয়া। ত্বক শীতল হয়ে যাওয়া। অবিরাম অস্বস্তি, ত্বকের ভেতরের অংশে রক্তক্ষরণের কারণে ত্বকের ওপরের অংশে লাল ছোপ সৃষ্টি হওয়া। বমি, মল কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া, প্রচণ্ড পেটব্যথা ও অনবরত বমি হওয়া, নাক ও দাঁতের মাড়ি থেকে রক্তক্ষরণ ও অবসাদ। এ উপসর্গগুলো চোখে পড়লে আক্রান্ত রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্যানুযায়ী, এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল (৩ জুলাই) পর্যন্ত ২ হাজার ২৭৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৩৮, ফেব্রুয়ারিতে ১৮, মার্চে ১৭, এপ্রিলে ৫৮, মে’তে ১৯৩, জুনে ১ হাজার ৬৯৯ এবং গত তিন দিনে ২৫৪ রোগী আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়ে গেছেন ১ হাজার ৯৩৯ জন। এর মধ্যে গতকাল পর্যন্ত মারা গেছেন তিনজন। এখনো ৩৩৬ জন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৩ জন।

এবার কিছুটা আগেভাগেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব- জানালেন অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেবরিনা ফ্লোরা। তিনি বলেন, সাধারণত জুলাই থেকে শুরু হয়ে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর মৌসুম। এবার জুনেই শুরু হয়েছে। এবার বর্ষা মৌসুমে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে ডেঙ্গুর প্রকোপ তাড়াতাড়ি শুরু হয়েছে। বর্ষায় বৃষ্টিপাত হলে ডেঙ্গুর জীবাণুবহনকারী এডিস মশার লার্ভা পানিতে ভেসে যায়। লার্ভা থেকে মশা হতে পারে না। এবার বৃষ্টিপাত নেই। তাই এডিস মশার প্রজনন বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

ডেঙ্গু সেরোটাইপ-৩

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0190 seconds.