• ৩০ জুন ২০১৯ ১৫:০২:১৯
  • ৩০ জুন ২০১৯ ১৫:০২:১৯
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

নদীর ভাঙ্গনে সর্বহারা মানুষ, নেই কার্যকর পদক্ষেপ

ছবি : বাংলা

জসিম উদ্দিন জয়নাল, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: 

কোন কিছুতেই যেন থামছে না খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলার কাপ্তাই হ্রদ  নদীর ভাঙ্গন। নদীবেষ্টীত উপজেলার চারিদিকে শুধু ভাঙ্গনের শব্দ।

সর্বগ্রাসী কাপ্তাই হ্রদ নদীর ভাঙ্গনের কবলে পরে সর্বহারা হয়ে কয়েক গ্রামের মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ভাঙ্গন ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নেই কোন কার্যকর পদক্ষেপ, এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

বছরের পর বছর ধরে থেমে থেমে বন্যা ও প্রতিদিনের নদী ভাঙ্গনের সুর মহালছড়ি জেলে পাড়া বাসীর যেন নিত্য সঙ্গি। এদিকে, গত বছরে বর্ষায় ভাঙ্গনের ফলে বিলিন হয়ে গেছে কয়েকটি বাড়ী ও স্থাপনা। ভাঙ্গনের হুমকিতে রয়েছে মহালছড়ি জনপদের সংযোগস্থাপনকারী সিঙ্গীনালা ব্রিজ, মহালছড়ি থানা, কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়, মহালছড়ি বাজার কেন্দ্রীয় মসজিদ, মাদ্রাসাসহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বন্যার পানির প্রচন্ড স্রোতের গতি আড়াআড়ি ভাবে জেলে পাড়ার পশ্চিমাংশ এলাকায় আঘাত হানে। এখান থেকেই ভাঙ্গনের শুরু যা এখন প্রচন্ড হুমকির ভাঙ্গনের আগ্রাসী রুপ ধারন করেছে। ভাঙ্গনের আগ্রাসী হুমকির মুখে রয়েছে ১৭০জেলে পরিবার, থানা সহ কেন্দ্রীয় মসজিদ, মাদরাসা।

সিঙ্গীনালা-নানিয়ারচর সড়ক। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে যেকোন সময়। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবছর ভাঙ্গনের মাত্রা ও আংশকা যেন বেশী। গত কয়েক বছরে তিন চারটি জেলে পরিবারে বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদী ভাঙ্গন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি এলাকাবাসীর। স্থানীয়রা বলছেন, ভাঙ্গন রোধে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে অচিরেই জেলে পরিবার গুলো বসতভিটা হারিয়ে নি:স্ব হয়ে যাবে। নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া, ঘরবাড়ি, বনজসম্পদ, চাষাবাদযোগ্য ভুমি ও বসতবাড়ি ভাঙ্গন সমস্যা, বন্যার তান্ডবলীলায় ফসলহানি, নদীতে চর জাগা, নৌযান চলাচল বিপর্যস্ত, মৎস্য সম্পদের অভাব, নদীর তীর সংরক্ষণে উদাসীনতা ও স্থানীয় জীবন যাত্রার নিম্নমান।

দেশের বিভিন্ন এলাকায় নদী ভাঙ্গনের তীব্রতা রোধকল্পে সরকারী টেকসই নানা পদক্ষেপ, ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসন ও সাহায্য সহযোগিতা করা হয়ে থাকে। কিন্তু  মহালছড়ি উপজেলার জেলে পাড়ার জনগনকে কোন সরকারী সাহায্য, পুনর্বাসন করা হয়নি, এমনকি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই ভাঙ্গনের তীব্রতা রোধকল্পে বাস্তবসম্মত টেকসই পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ সরকারকেএগিয়ে আসার আহবান জানান। মহালছড়ি জেলে পাড়ার সভাপতি মো: কালাম। মহালছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সুলতান মাহমুদ বলেন, নদীকে বশে রাখতে হলে একদিকে যেমন পাড় বাঁধতে হয়, অন্যদিকে প্রয়োজন হয়, প্রবাহ যাতে মাঝনদী বরাবর থাকে, প্রবাহের জন্য যাতে পর্যাপ্ত গভীরতা থাকে, সেই ব্যবস্থা করা। দুর্ভাগ্যবশত, নদী শাসনের কাজ বরাবরই একচোখা। পাড় বাঁধার দিকে যতটা মনোযোগ দেওয়া হয়, প্রবাহকে মাঝনদীতে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে তার সিকিভাগও নয়।

এ বিষয়ে মহালছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রতন শীল বলেন, মহালছড়ি কাপ্তাই হ্রদ নদীর ভাঙ্গনের কবল থেকে সিঙ্গীনালা -নানিয়াচর সড়ক, থানা, বাজার কেন্দ্রীয় মসজিদ মাদ্রাসাসহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রক্ষায় ক্ষুদ্র প্রকল্পের পরিবর্তে বৃহৎ প্রকল্পের মাধ্যমে নদী শাসন করে ভাঙ্গন প্রতিরোধ করা সম্ভব।

সংশ্লিষ্ট বিষয়

খাগড়াছড়ি নদীর ভাঙ্গন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0201 seconds.