• ২৮ জুন ২০১৯ ১৮:৩৯:০৪
  • ২৮ জুন ২০১৯ ১৮:৩৯:০৪
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

কঠোর নজরদারীতে বরিশাল, চলছে তল্লাশী

ছবি : সংগৃহীত

জহির রায়হান, বরিশাল প্রতিনিধি: 

বরগুনা সরকারি কলেজের মূল ফটকের কাছে শত শত মানুষের উপস্থিততে স্ত্রীর সামনে প্রকাশ্যে শাহ নেয়াজ রিফাত শরীফ (২৫) নামের এক যুবককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে ক্ষমতাধর সন্ত্রাসীরা।

গত বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটলে সঙ্গে থাকা রিফাতের স্ত্রীর আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সন্ত্রাসীদের সাথে লড়াই করেও বাচাঁতে পারিনি স্বামীকে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরাও কেউ রিফাতকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। পরে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হলে দেশ-বিদেশে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় জড়িত সকলকে দ্রুত গ্রেফতারের জন্য গতকাল প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও হাইকোর্টের পক্ষ থেকে নির্দেশ আসে। এরপরই সেই ভিডিও ফুটেজ নিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য বরগুনা ও বরিশালের পুলিশ প্রশাসন নড়েচড়ে উঠেছেন। বাড়ানো হয়েছে বরিশাল সহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলে কঠোর নজরদারী। চলছে গোয়েন্দা নজরদারীর পাশাপাশি সন্দেহজনকদের তল্লাশীর বিশেষ অভিযান।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম-পিপিএম সাংবাদিকদের জানান, দেশের অন্যত্র যাওয়ার জন্য বরিশাল বিভাগের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বরিশাল নদী বন্দর, লঞ্চঘাট,রুপাতলী ও নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ডগুলোতে বাড়ানো হয়েছে কঠোর নজরদারীর তৎপরতা। সন্দেহ হলে চালানো হচ্ছে তল্লাশী। এছাড়াও নদী ও সড়কপথ ব্যবহার করে যাতে জড়িত কোন আসামী পালাতে না পারে সেজন্য বরিশাল জুড়ে তল্লাশী কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। অভিযান রিফাত শরীফ খুন হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে। যা আসামীরা গ্রেফতার না হওয়া প্রর্যন্ত চলমান থাকবে। 

বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন জানান, রিফাত হত্যার ঘটনায় তার বাবা দুলাল শরীফের দায়ের করা মামলায় আমরা তিনজন আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। তাদের একজনের নাম তদন্তের স্বার্থে বলতে চাচ্ছি না। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের জন্য বিশেষ অভিযান অব্যহত রয়েছে। আশা করছি দ্রুতই বাকি আসামীদের গ্রেফতার করতে পারবো।

এ ব্যাপারে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন ভূইঁয়া ‌বাংলা'কে জানিয়েছেন, আলোচিত রিফাত শরীফের হত্যার ঘটনায় জড়িত কোন আসামী যাতে পালাতে না পারে সেজন্যই পুলিশের রয়েছে কঠোর নজরদারী। পুলিশের পক্ষ থেকে আসামীদের গ্রেফতার না প্রর্যন্ত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। 

উল্লেখ্য, বুধবার বরগুনা সরকারি কলেজের মূল ফটকের কাছে সকাল ১০টার দিকে নয়নের নেতৃত্বে ৪-৫ জন সন্ত্রাসী রিফাতকে চাপাতি ও বগি দা দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে যায়। এ সময় বারবার সন্ত্রাসীদের হাত থেকে স্বামীকে বাঁচাতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। পরে স্থানীয় লোকজন রিফাত শরীফকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। বিকেল চারটার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিফাতের মৃত্যু হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের নিজ বাড়িতে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় রিফাতকে। রিফাত শরীফের জানাজায় নানা শ্রেণী-পেশার মানুষের ঢল নামে। নিহত রিফাত শরীফের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার ৬নং বুড়িরচর ইউনিয়নের বড় লবণগোলা গ্রামে। তার বাবার নাম আ. হালিম দুলাল শরীফ। মা-বাবার একমাত্র সন্তান ছিলেন রিফাত।

সংশ্লিষ্ট বিষয়

তল্লাশী নজরদারী বরিশাল

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0240 seconds.