• ২৭ জুন ২০১৯ ১৭:১৪:৩৬
  • ২৭ জুন ২০১৯ ১৭:১৪:৩৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

অপেক্ষায় আছি, কবে আসছে মিন্নির জীবনের পুরনো স্ক্যান্ডাল?

আয়েশা আক্তার মিন্নি। ছবি : সংগৃহীত

ফেসবুক আবার নড়েচড়ে বসেছে। ‘ওয়াও’ অনেকদিন পরে দারুণ একটা টপিক পাওয়া গেছে। দুকলম স্ট্যাটাস দিয়ে ফাটিয়ে দেয়া যাবে। কমবেশি সবাই নেমে পড়েছে। ভিডিওটা শেয়ার হচ্ছে আর সাথে থাকছে ‘ছি ছি’ টাইপ কিছু বক্তব্য। এই ভাইরাল ভিডিওর অত্যাচারে নিউজফিডে টেকাই দায়। 

আমি কিন্তু বেশ অবাক হচ্ছি। পাবলিক একই ঘটনায়, বারবার অবাক হয় কিভাবে? সেই একই রকম কপি পেস্ট রিয়াকশান, কিভাবে? সত্যি করে বলুন তো, গল্পটা কি নতুন? এসব আগে দেখেননি? পরিণতি কি হয় জানেন না? ঠিক কবে, কখন, কি হবে, এসব তো এতদিনে মুখস্থ হয়ে যাওয়ার কথা। এই কাহিনী পত্রিকার পাতা থেকে সরে যাবে, জানেন না? এদের নাম কখন ভুলে যাবেন সেটাও তো আপনার অজানা না। বিশ্বজিত, অভিজিত-- এদুটো ইভেন্ট হিট হয়েছিল দেখে নাম মনে রেখেছেন। বাকীদের নাম মনে আছে?

কথাবার্তায় অবশ্য নতুনত্ব নেই। সেই ধিক্কার আর হতাশা। কেউ কেউ অবশ্য উপদেশ দিচ্ছেন, করনীয় কি। কখনও বা স্মৃতি রোমন্থন, ‘সেদিন ঐ হত্যার বিচার হলে আজ আর এদিন দেখতে হত না’। কেউ কেউ আবার এদেশের মানুষের মনুষ্যত্ব নিয়ে রীতিমত থিসিস শুরু দিয়েছেন। যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছেন, আমরা আর মানুষ নাই। 

কেউ কেউ আবার লেগেছেন যারা ভিডিও তুলেছেন কিংবা সেখানে দাঁড়িয়ে লাইফ ইভেন্ট দেখেছেন, তাঁদের পেছনে। তাঁদের করণীয় নিয়েও বিষেদগার তো আছেই, সঙ্গে আছে করনীয় নিয়ে উপদেশবাণী। জারী হতে শুরু করেছে, ‘এমন পরিস্থিতিতে আপনার করনীয়’ নিয়ে নীতিমালা।

ওদিকে পত্রিকা ওয়ালাদেরও পোয়া বারো। নতুন কোন তথ্য দিতে পারলেই সেদিনের পত্রিকা হিট। চাপ আসছে কলামিস্টদের উপরেও। ‘এই টপিকের উপর একটা লেখা দেন। সুন্দর একটা হেডলাইনসহ।’ সম্পাদক সাহেবরা ডেস্কে নির্দেশনা দিয়েছেন, ‘এর আগে যতগুলো ইভেন্টফুল কলিং হয়েছে, সবগুলোর ছবি কালেক্ট করে একটা নিউজ আইটেম কর।’ 

সো, ফরমায়েশ পূরণ করতে নেমে পড়লাম। কিন্তু লিখব কি? সেই ‘কি হচ্ছে এসব?’ টাইপ? পাবলিক হয়তো খাবে, তবে বিশেষ মজা পাবে না। এমন অপরাধীদের ক্রস ফায়ার চাইব? ওটাও হাতছাড়া। ফেসবুকে ঐ দাবীও তুলে ফেলেছে অনেকে। মেয়েটারই দোষ? ইজি বাট কনট্রোভার্সিয়াল টার্গেট। কিন্তু ওখানেও হাত পড়ে গেছে। একজন এমপি দেখলাম স্ট্যাটাস দিয়েছে। গোবেচারা দর্শকদের নিয়েও লেখার উপায় নাই। তাঁদের কাপুরুষতা নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে স্ট্যাটাস পড়ে গেছে। অনেকেই দেখলাম দর্শক বাহিনীর উপরে খাপ্পা। ‘বাঁধা দিলি না কেন?’ অনেকে আবার উল্টো তেড়ে আসছেন, ‘আপনি ওখানে থাকলে কি করতেন? বাঁধা দিতেন?’ যাই কই?

দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কিছু লিখব? লেখা যায়। তবে খেয়াল রাখতে হবে, কোনভাবেই যেন দায়টা আওয়ামীদের ঘাড়ে না বর্তায়। দেশের সামগ্রিক অবক্ষয়কে দায়ী করতে হবে। তাহলে সমস্যা নেই। আরেকটা ব্যাপার অবশ্য কেউ কেউ বলছে, খুব বেশি আলোচনায় এখনও আসেনি। ভিডিও ফুটেজকে এভিডেন্স হিসেবে মেনে নেয়ার আইন তৈরির উপর গুরুত্ব দিয়ে দুকথা লেখা। মন্দ হয় না। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, কেউ কি পড়বে?
একটা অনেস্ট কনফেশান করব? আমার কিন্তু এক ফোঁটা খারাপ লাগছে না। বলতে পারেন অনুভূতি ভোঁতা হয়ে গেছে। বলতে পারেন দুদিনের জন্য অযথা দরদ দেখিয়ে লাভ কি। আসল ব্যাপার অবশ্য সেটা না। আসলে মেয়েটার পুরো প্রেম কাহিনী নিয়ে জানতেই বেশি আগ্রহ হচ্ছে। প্রথম স্বামীর সাথে কেন বিয়ে টিকল না, কেন আরেকটা বিয়ে করল, কোন অবৈধ ব্যাপার স্যাপার ছিল কি না। স্ক্যান্ডাললাস কোন পাস্ট থাকলে… বুঝতেই পারছেন, তাড়িয়ে তাড়িয়ে গল্পগুলো পড়া যাবে। 

এদেশের পাঠকদের যদি চিনতে ভুল না করে থাকি, আমার গ্রুপে অনেকেই আছেন। আর পত্রিকাওয়ালাদের যদি ঠিক চিনে থাকি, আমার ধারণা অচিরেই তাঁদের খোরাক হিসেবে আসছে, আয়েশা আক্তার মিন্নির প্রেমের গল্প। সো, বাদ দিন এই মনুষ্যত্বের ঢং, বি ইয়োরসেলফ। চলুন, সেটার জন্যই বরং অপেক্ষা করি।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0228 seconds.